ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শরীয়তপুরে সেচ পাম্পে কাপড় পেঁচিয়ে নারীর মর্মান্তিক মৃত্যু, নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতিতে ক্ষোভ


রুপক চক্রবর্তী
রুপক চক্রবর্তী
প্রকাশ : ০৬ এপ্রিল ২০২৬

শরীয়তপুরে সেচ পাম্পে কাপড় পেঁচিয়ে নারীর মর্মান্তিক মৃত্যু, নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতিতে ক্ষোভ
ছবি : প্রতিনিধি

শরীয়তপুর সদর উপজেলায় বিদ্যুৎচালিত সেচ পাম্পের মোটরে কাপড় পেঁচিয়ে রোজিনা বেগম (৩৫) নামের এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। দুর্ঘটনাটি ঘটে সোমবার (৬ এপ্রিল) সকাল ১০টার দিকে পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের চরপালং এলাকায়, কীর্তিনাশা নদীর তীরবর্তী বিদ্যুৎচালিত সেচ পাম্পের স্থানে।

নিহত রোজিনা বেগম চরপালং গ্রামের ভ্যানচালক ইব্রাহিম সরদারের স্ত্রী। তিনি এক ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন। স্থানীয়রা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ইরি ব্লকে সেচ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নদীর তীরে পাম্প স্থাপন করা হয়েছিল। সকালে রোজিনা বেগম ওই পথ দিয়ে যাওয়ার সময় তার পরিহিত কাপড় পাম্পের মোটরে পেঁচিয়ে যায়। এতে মোটরের ভেতরে দ্রুত টানা হলে তিনি ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান।

খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

নিহতের স্বজন বাদশা বেপারী অভিযোগ করেন, জনসাধারণের চলাচলের পথে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পাম্প স্থাপন করা হয়েছিল। নিরাপত্তা ব্যবস্থা হিসেবে পাম্পটি ঘেরাও বা সুরক্ষিত রাখার নিয়ম থাকলেও তা মানা হয়নি। তিনি আরও বলেন, “নিরাপত্তা না থাকায় এই ভয়ঙ্কর দুর্ঘটনা ঘটেছে। এ ধরনের ব্যবস্থাপনার ত্রুটি সাধারণ মানুষের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করে।”

অন্যদিকে, ব্লক ম্যানেজার কাশেম মোল্লা দাবি করেছেন, পাম্পের চারপাশে পূর্বে বেড়া দেয়া ছিল। তবে দুর্বৃত্তরা তা খুলে নিয়ে যাওয়ায় পাম্পটি উন্মুক্ত অবস্থায় ছিল। তিনি বলেন, “আমরা নিয়ম অনুযায়ী সুরক্ষা ব্যবস্থা দিয়েছি, কিন্তু ভাঙচুরের কারণে দুর্ঘটনা ঘটেছে।”

পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম জানান, মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, নদীর তীরবর্তী সেচ পাম্প ও অন্যান্য যন্ত্রাংশ জনসাধারণের চলাচলের পথে ঝুঁকিপূর্ণভাবে স্থাপন করা হচ্ছে। এর ফলে দুর্ঘটনার সম্ভাবনা সর্বদা থাকে। রোজিনা বেগমের এই মর্মান্তিক মৃত্যু এলাকায় শোকের ছায়া ফেলেছে এবং স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে।

স্থানীয়রা দাবি করেছেন, ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা প্রতিরোধে পাম্প এবং অন্যান্য সেচ যন্ত্রাংশ জনসাধারণের চলাচলের পথ থেকে দূরে সরানো এবং সঠিক সুরক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা আবশ্যক। পাশাপাশি প্রশাসনের প্রতি তারা সতর্কতার সঙ্গে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার অনুরোধ জানিয়েছেন, যাতে আর কোনো অকাল মৃত্যুর ঘটনা না ঘটে।

এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করে যে, প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা ব্যতীত অবকাঠামোগত যেকোনো স্থাপনীর কারণে সাধারণ মানুষ বিপদের মুখে পড়তে পারে। স্থানীয় প্রশাসন ও বিদ্যুৎচালিত সেচ প্রকল্পের সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, তারা ঘটনাটি খতিয়ে দেখবেন এবং ভবিষ্যতে নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি পূরণে পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


শরীয়তপুরে সেচ পাম্পে কাপড় পেঁচিয়ে নারীর মর্মান্তিক মৃত্যু, নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতিতে ক্ষোভ

প্রকাশের তারিখ : ০৬ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

শরীয়তপুর সদর উপজেলায় বিদ্যুৎচালিত সেচ পাম্পের মোটরে কাপড় পেঁচিয়ে রোজিনা বেগম (৩৫) নামের এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। দুর্ঘটনাটি ঘটে সোমবার (৬ এপ্রিল) সকাল ১০টার দিকে পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের চরপালং এলাকায়, কীর্তিনাশা নদীর তীরবর্তী বিদ্যুৎচালিত সেচ পাম্পের স্থানে।

নিহত রোজিনা বেগম চরপালং গ্রামের ভ্যানচালক ইব্রাহিম সরদারের স্ত্রী। তিনি এক ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন। স্থানীয়রা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ইরি ব্লকে সেচ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নদীর তীরে পাম্প স্থাপন করা হয়েছিল। সকালে রোজিনা বেগম ওই পথ দিয়ে যাওয়ার সময় তার পরিহিত কাপড় পাম্পের মোটরে পেঁচিয়ে যায়। এতে মোটরের ভেতরে দ্রুত টানা হলে তিনি ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান।

খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

নিহতের স্বজন বাদশা বেপারী অভিযোগ করেন, জনসাধারণের চলাচলের পথে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পাম্প স্থাপন করা হয়েছিল। নিরাপত্তা ব্যবস্থা হিসেবে পাম্পটি ঘেরাও বা সুরক্ষিত রাখার নিয়ম থাকলেও তা মানা হয়নি। তিনি আরও বলেন, “নিরাপত্তা না থাকায় এই ভয়ঙ্কর দুর্ঘটনা ঘটেছে। এ ধরনের ব্যবস্থাপনার ত্রুটি সাধারণ মানুষের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করে।”

অন্যদিকে, ব্লক ম্যানেজার কাশেম মোল্লা দাবি করেছেন, পাম্পের চারপাশে পূর্বে বেড়া দেয়া ছিল। তবে দুর্বৃত্তরা তা খুলে নিয়ে যাওয়ায় পাম্পটি উন্মুক্ত অবস্থায় ছিল। তিনি বলেন, “আমরা নিয়ম অনুযায়ী সুরক্ষা ব্যবস্থা দিয়েছি, কিন্তু ভাঙচুরের কারণে দুর্ঘটনা ঘটেছে।”

পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম জানান, মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, নদীর তীরবর্তী সেচ পাম্প ও অন্যান্য যন্ত্রাংশ জনসাধারণের চলাচলের পথে ঝুঁকিপূর্ণভাবে স্থাপন করা হচ্ছে। এর ফলে দুর্ঘটনার সম্ভাবনা সর্বদা থাকে। রোজিনা বেগমের এই মর্মান্তিক মৃত্যু এলাকায় শোকের ছায়া ফেলেছে এবং স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে।

স্থানীয়রা দাবি করেছেন, ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা প্রতিরোধে পাম্প এবং অন্যান্য সেচ যন্ত্রাংশ জনসাধারণের চলাচলের পথ থেকে দূরে সরানো এবং সঠিক সুরক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা আবশ্যক। পাশাপাশি প্রশাসনের প্রতি তারা সতর্কতার সঙ্গে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার অনুরোধ জানিয়েছেন, যাতে আর কোনো অকাল মৃত্যুর ঘটনা না ঘটে।

এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করে যে, প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা ব্যতীত অবকাঠামোগত যেকোনো স্থাপনীর কারণে সাধারণ মানুষ বিপদের মুখে পড়তে পারে। স্থানীয় প্রশাসন ও বিদ্যুৎচালিত সেচ প্রকল্পের সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, তারা ঘটনাটি খতিয়ে দেখবেন এবং ভবিষ্যতে নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি পূরণে পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ