ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষ : চিকিৎসাধীন অবস্থায় জামায়াত নেতা মফিজুর রহমানের মৃত্যু



বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষ : চিকিৎসাধীন অবস্থায় জামায়াত নেতা মফিজুর রহমানের মৃত্যু

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার হাসাদহ বাজারে বিএনপি ও জামায়াতের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে আহত বাঁকা ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মফিজুর রহমান (৪৫) মারা গেছেন। (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। সংঘর্ষের ১০ দিন পর ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ মঙ্গলবার দুপুরে তাঁর মৃত্যু হয়।

জেলা জামায়াতের আমির ও চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. রুহুল আমিন মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। একই ঘটনায় ওই জামায়াত নেতার ভাই ও জীবননগর শহরের জুয়েলারি ব্যবসায়ী জামায়াতের কর্মী হাফিজুর রহমান (৫০) গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাতে উন্নত চিকিৎসার জন্য যশোর থেকে ঢাকা নেওয়ার পথে মারা যান।

সংসদ সদস্য রুহুল আমিন বলেন, প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে মফিজুর রহমানের মরদেহ আজই গ্রামে নেওয়া হবে এবং সেখানে জানাজা শেষে দাফন করা হবে। এবং মফিজুর রহমানের প্রথম জানাজা আজ মঙ্গলবার ৩:১৫ মিনিটে ইসলামী ব্যাংক সেন্ট্রাল হাসপাতাল কাকরাইলে অনুষ্ঠিত হয়েছে। পুলিশ ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, পূর্ববিরোধের জেরে ২৮ ফেব্রুয়ারি রাতে বিএনপি ও জামায়াতের নেতা-কর্মীরা হাসাদহ বাজারে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ছয়জন আহত হন। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে বাঁকা ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মফিজুর রহমান, তাঁর ভাই হাফিজুর রহমান এবং তাঁদের বড় ভাইয়ের ছেলে মাহফুজুর রহমানকে গুরুতর আহত অবস্থায় জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে তাঁদের তিনজনকে ওই রাতেই যশোর ৫০০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে ঢাকায় নেওয়ার পথে হাফিজুর মারা যান।

এ ঘটনায় নিহত ব্যক্তির বড় ভাই আমির হোসেন বাদী হয়ে ১ মার্চ রাতে উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সীমান্ত ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. ময়েন উদ্দীনসহ আটজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা ৮ থেকে ৯ জনকে আসামি করে জীবননগর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। সংঘর্ষে আহত বিএনপির কর্মী জসিম উদ্দিন ও হাসাদহ ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবদুস সালাম হামলায় অংশগ্রহণকারী জামায়াতের নেতা-কর্মীদের নামে ১ মার্চ জীবননগর থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ তাঁদের দুজনকে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করে। পরে নিহত ব্যক্তির ভাই মো. আমির হোসেন বাদী হয়ে মামলা করলে পুলিশ কারাবন্দী জসিম উদ্দিনকে আলোচিত মামলায় গ্রেপ্তার দেখায়। এ ছাড়া গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও জেলা পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইউনিট ২ মার্চ দামুড়হুদা উপজেলার জয়রামপুর এলাকা থেকে মামলার মূল আসামি মেহেদী হাসানকে গ্রেপ্তার করে।

জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলায়মান শেখ মামলা ও আসামি গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, হাসাদহ ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক কারাবন্দী মেহেদী হাসানের স্ত্রী ইশরাত জাহান বাদী হয়ে ৮ মার্চ আরেকটি মামলা করেছেন। আসামিদের ধরতে অভিযান আব্বাহত আছে।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষ : চিকিৎসাধীন অবস্থায় জামায়াত নেতা মফিজুর রহমানের মৃত্যু

প্রকাশের তারিখ : ১০ মার্চ ২০২৬

featured Image

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার হাসাদহ বাজারে বিএনপি ও জামায়াতের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে আহত বাঁকা ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মফিজুর রহমান (৪৫) মারা গেছেন। (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। সংঘর্ষের ১০ দিন পর ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ মঙ্গলবার দুপুরে তাঁর মৃত্যু হয়।

জেলা জামায়াতের আমির ও চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. রুহুল আমিন মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। একই ঘটনায় ওই জামায়াত নেতার ভাই ও জীবননগর শহরের জুয়েলারি ব্যবসায়ী জামায়াতের কর্মী হাফিজুর রহমান (৫০) গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাতে উন্নত চিকিৎসার জন্য যশোর থেকে ঢাকা নেওয়ার পথে মারা যান।

সংসদ সদস্য রুহুল আমিন বলেন, প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে মফিজুর রহমানের মরদেহ আজই গ্রামে নেওয়া হবে এবং সেখানে জানাজা শেষে দাফন করা হবে। এবং মফিজুর রহমানের প্রথম জানাজা আজ মঙ্গলবার ৩:১৫ মিনিটে ইসলামী ব্যাংক সেন্ট্রাল হাসপাতাল কাকরাইলে অনুষ্ঠিত হয়েছে। পুলিশ ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, পূর্ববিরোধের জেরে ২৮ ফেব্রুয়ারি রাতে বিএনপি ও জামায়াতের নেতা-কর্মীরা হাসাদহ বাজারে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ছয়জন আহত হন। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে বাঁকা ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মফিজুর রহমান, তাঁর ভাই হাফিজুর রহমান এবং তাঁদের বড় ভাইয়ের ছেলে মাহফুজুর রহমানকে গুরুতর আহত অবস্থায় জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে তাঁদের তিনজনকে ওই রাতেই যশোর ৫০০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে ঢাকায় নেওয়ার পথে হাফিজুর মারা যান।

এ ঘটনায় নিহত ব্যক্তির বড় ভাই আমির হোসেন বাদী হয়ে ১ মার্চ রাতে উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সীমান্ত ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. ময়েন উদ্দীনসহ আটজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা ৮ থেকে ৯ জনকে আসামি করে জীবননগর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। সংঘর্ষে আহত বিএনপির কর্মী জসিম উদ্দিন ও হাসাদহ ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবদুস সালাম হামলায় অংশগ্রহণকারী জামায়াতের নেতা-কর্মীদের নামে ১ মার্চ জীবননগর থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ তাঁদের দুজনকে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করে। পরে নিহত ব্যক্তির ভাই মো. আমির হোসেন বাদী হয়ে মামলা করলে পুলিশ কারাবন্দী জসিম উদ্দিনকে আলোচিত মামলায় গ্রেপ্তার দেখায়। এ ছাড়া গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও জেলা পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইউনিট ২ মার্চ দামুড়হুদা উপজেলার জয়রামপুর এলাকা থেকে মামলার মূল আসামি মেহেদী হাসানকে গ্রেপ্তার করে।

জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলায়মান শেখ মামলা ও আসামি গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, হাসাদহ ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক কারাবন্দী মেহেদী হাসানের স্ত্রী ইশরাত জাহান বাদী হয়ে ৮ মার্চ আরেকটি মামলা করেছেন। আসামিদের ধরতে অভিযান আব্বাহত আছে।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ