আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গুম ও খুনের অভিযোগে সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় সাক্ষ্য দিতে গিয়ে সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) ইকবাল করিম ভূঁইয়া জানিয়েছেন যে, তার দায়িত্ব পালনকালে কতজন গুম হয়েছিলেন সে বিষয়ে তার কাছে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই এবং তিনি কাউকে উদ্ধারের চেষ্টাও করেননি।
আজ রবিবার (১ মার্চ ২০২৬) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ১ এ চতুর্থ দিনের মতো জেরার সম্মুখীন হয়ে তিনি এসব কথা বলেন। বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালে আসামিপক্ষের আইনজীবী আমিনুল গনি তাকে জেরা করেন। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
জেরার এক পর্যায়ে ইকবাল করিম ভূঁইয়া বলেন, আমি সেনাপ্রধান থাকাকালে কতজন গুম হয়েছিল তা নির্দিষ্ট করে বলতে পারব না। যারা গুম হয়েছিল, তাদের উদ্ধারের কোনো চেষ্টা আমি করিনি কারণ এটি আমার সরাসরি দায়িত্বাধীন বিষয় ছিল না। কে কখন কোথায় গুম হয়েছে সে সম্পর্কেও আমি অবগত ছিলাম না। তিনি আরও জানান যে, সামরিক গোয়েন্দা পরিদপ্তর (এমআই) তাকে গুম হওয়ার সাধারণ তথ্য দিলেও কোনো সুনির্দিষ্ট তালিকা বা বিস্তারিত তথ্য দিতে পারেনি।
সাবেক এই সেনাপ্রধান আদালতে স্বীকার করেন যে, গুমের সংস্কৃতি প্রতিরোধে তিনি কিছু পদক্ষেপের কথা মৌখিকভাবে বললেও এর পক্ষে কোনো দালিলিক প্রমাণ তার কাছে নেই। এমনকি এই গুরুতর বিষয়টি নিয়ে তিনি তৎকালীন সরকার প্রধান বা প্রধানমন্ত্রী বরাবর কোনো লিখিত অভিযোগ বা চিঠিও দেননি।
আদালতে আজ একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেন ইকবাল করিম ভূঁইয়া। তিনি জানান, র্যাব থেকে সেনাবাহিনীতে ফিরে আসা একজন কনিষ্ঠ কর্মকর্তা তার কার্যালয়ে এসে স্বীকার করেছিলেন যে তিনি দুজনকে হত্যা করেছেন। ওই কর্মকর্তা প্রতিটি হত্যার বিনিময়ে প্রাপ্ত ১০ হাজার টাকা মসজিদে দান করে দিয়েছিলেন। তবে সেই সময় কোনো চাক্ষুষ সাক্ষী বা আলামত না থাকায় এবং ওই স্বীকারোক্তি রেকর্ড না করায় তার বিরুদ্ধে কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে তিনি আদালতকে জানান।
উল্লেখ্য, গত ৮ ও ৯ ফেব্রুয়ারি এই মামলার প্রথম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছিলেন ইকবাল করিম ভূঁইয়া। এরপর থেকে কয়েক দফায় তাকে জেরা করা হচ্ছে। মামলার একমাত্র আসামি সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসান বর্তমানে এই মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন এবং আজ তাকে কড়া নিরাপত্তায় ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০১ মার্চ ২০২৬
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গুম ও খুনের অভিযোগে সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় সাক্ষ্য দিতে গিয়ে সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) ইকবাল করিম ভূঁইয়া জানিয়েছেন যে, তার দায়িত্ব পালনকালে কতজন গুম হয়েছিলেন সে বিষয়ে তার কাছে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই এবং তিনি কাউকে উদ্ধারের চেষ্টাও করেননি।
আজ রবিবার (১ মার্চ ২০২৬) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ১ এ চতুর্থ দিনের মতো জেরার সম্মুখীন হয়ে তিনি এসব কথা বলেন। বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালে আসামিপক্ষের আইনজীবী আমিনুল গনি তাকে জেরা করেন। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
জেরার এক পর্যায়ে ইকবাল করিম ভূঁইয়া বলেন, আমি সেনাপ্রধান থাকাকালে কতজন গুম হয়েছিল তা নির্দিষ্ট করে বলতে পারব না। যারা গুম হয়েছিল, তাদের উদ্ধারের কোনো চেষ্টা আমি করিনি কারণ এটি আমার সরাসরি দায়িত্বাধীন বিষয় ছিল না। কে কখন কোথায় গুম হয়েছে সে সম্পর্কেও আমি অবগত ছিলাম না। তিনি আরও জানান যে, সামরিক গোয়েন্দা পরিদপ্তর (এমআই) তাকে গুম হওয়ার সাধারণ তথ্য দিলেও কোনো সুনির্দিষ্ট তালিকা বা বিস্তারিত তথ্য দিতে পারেনি।
সাবেক এই সেনাপ্রধান আদালতে স্বীকার করেন যে, গুমের সংস্কৃতি প্রতিরোধে তিনি কিছু পদক্ষেপের কথা মৌখিকভাবে বললেও এর পক্ষে কোনো দালিলিক প্রমাণ তার কাছে নেই। এমনকি এই গুরুতর বিষয়টি নিয়ে তিনি তৎকালীন সরকার প্রধান বা প্রধানমন্ত্রী বরাবর কোনো লিখিত অভিযোগ বা চিঠিও দেননি।
আদালতে আজ একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেন ইকবাল করিম ভূঁইয়া। তিনি জানান, র্যাব থেকে সেনাবাহিনীতে ফিরে আসা একজন কনিষ্ঠ কর্মকর্তা তার কার্যালয়ে এসে স্বীকার করেছিলেন যে তিনি দুজনকে হত্যা করেছেন। ওই কর্মকর্তা প্রতিটি হত্যার বিনিময়ে প্রাপ্ত ১০ হাজার টাকা মসজিদে দান করে দিয়েছিলেন। তবে সেই সময় কোনো চাক্ষুষ সাক্ষী বা আলামত না থাকায় এবং ওই স্বীকারোক্তি রেকর্ড না করায় তার বিরুদ্ধে কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে তিনি আদালতকে জানান।
উল্লেখ্য, গত ৮ ও ৯ ফেব্রুয়ারি এই মামলার প্রথম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছিলেন ইকবাল করিম ভূঁইয়া। এরপর থেকে কয়েক দফায় তাকে জেরা করা হচ্ছে। মামলার একমাত্র আসামি সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসান বর্তমানে এই মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন এবং আজ তাকে কড়া নিরাপত্তায় ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।

আপনার মতামত লিখুন