ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

প্রতিবেদনে ভয়াবহ চিত্র

এক বছরে ৪০৩ শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা, মাদ্রাসায় ৪৪ জন


ডেস্ক রিপোর্ট :
ডেস্ক রিপোর্ট :
প্রকাশ : ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

এক বছরে ৪০৩ শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা, মাদ্রাসায় ৪৪ জন
চিত্র : প্রতিকী

দেশে শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার হার এক উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। গত এক বছরে (২০২৫ সালে) সারাদেশে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও মাদ্রাসা পর্যায়ের মোট ৪০৩ জন শিক্ষার্থী আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছেন। যার মধ্যে বড় একটি অংশই আবেগীয় টানাপোড়েন, হতাশা ও অভিমানে প্রাণ হারিয়েছেন।

শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন আঁচল ফাউন্ডেশন আয়োজিত ‘শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যা: ক্রমবর্ধমান সংকট’ শীর্ষক এক অনলাইন সংবাদ সম্মেলনে এই পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়। দেশের ১৬৫টি স্থানীয় ও জাতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদসমূহ পর্যালোচনা করে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, আত্মহত্যাকারী ৪০৩ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঘটনা ঘটেছে স্কুল পর্যায়ে। এ সময়ে স্কুল পর্যায়ে ১৯০ জন (৪৭.৪০ শতাংশ), কলেজে ৯২ জন (২২.৮ শতাংশ), বিশ্ববিদ্যালয়ে ৭৭ জন (১৯.১০ শতাংশ) এবং মাদ্রাসায় ৪৪ জন (১০.৭২ শতাংশ) শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন। সংগঠনটি বলছে, স্কুলগামী শিক্ষার্থীরা কৈশোরের শুরুতে মানসিক ও আবেগীয়ভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল থাকে, যা এই পর্যায়ে আত্মহত্যার হার বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।

মাদ্রাসা পর্যায়ের ৪৪ জন শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার কারণ বিশ্লেষণে দেখা গেছে, তাদের প্রধান শত্রু ছিল গভীর হতাশা। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ৩৬.৩৮ শতাংশ শিক্ষার্থী হতাশা থেকে আত্মহত্যা করেছেন। ২৫ শতাংশ করেছেন পরিবারের ওপর অভিমান করে। এছাড়া প্রেমঘটিত কারণে ১১.৩৪ শতাংশ, পারিবারিক টানাপোড়েনে ১১.৩৭ শতাংশ, একাডেমিক চাপে ৬.৮২ শতাংশ এবং মানসিক অস্থিতিশীলতায় ৬.৮১ শতাংশ শিক্ষার্থী প্রাণ হারিয়েছেন।

লিঙ্গভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, মোট আত্মহত্যাকারীদের মধ্যে ৬১.৮ শতাংশই (২৪৯ জন) নারী শিক্ষার্থী এবং ৩৮.২ শতাংশ (১৫৪ জন) পুরুষ। স্কুল ও কলেজ পর্যায়ে নারী শিক্ষার্থীর হার বেশি থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে পুরুষ শিক্ষার্থীদের সংখ্যা সামান্য বেশি—৪১ জন পুরুষের বিপরীতে ৩৬ জন নারী। সংশ্লিষ্টদের মতে, উচ্চশিক্ষা পর্যায়ে ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তা ও কর্মসংস্থান পুরুষ শিক্ষার্থীদের ওপর বাড়তি মানসিক চাপ তৈরি করছে।

শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার পেছনে প্রধান দুটি কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে হতাশা (২৭.৭৯ শতাংশ) এবং অভিমান (২৩.৩২ শতাংশ)। এছাড়া একাডেমিক চাপে ৭২ জন, প্রেমঘটিত কারণে ৫৩ জন (১৩.১৫ শতাংশ), পারিবারিক টানাপোড়েনে ৩২ জন (৭.৯৪ শতাংশ), মানসিক অস্থিতিশীলতায় ২৫ জন (৬.২০ শতাংশ) এবং যৌন নির্যাতনের কারণে ১৪ জন (৩.৪৭ শতাংশ) শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন। সাইবার বুলিংয়ের শিকার হয়েও একজন নারী শিক্ষার্থীর মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে।

আঁচল ফাউন্ডেশন বলছে, এই পরিসংখ্যান কেবল সংখ্যা নয়; বরং আমাদের পারিবারিক ও সামাজিক কাঠামোর সীমাবদ্ধতার প্রতিফলন। পরিবারে যোগাযোগের অভাব, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পেশাদার কাউন্সেলিংয়ের অভাব এবং মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে অজ্ঞতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, শুধু সচেতনতামূলক বক্তব্য দিয়ে এই পরিস্থিতি মোকাবিলা সম্ভব নয়। শিক্ষার্থীদের জীবন রক্ষায় কাঠামোগত পরিবর্তন, পেশাদার মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা এবং সমন্বিত রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা এখন সময়ের দাবি।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


এক বছরে ৪০৩ শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা, মাদ্রাসায় ৪৪ জন

প্রকাশের তারিখ : ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image

দেশে শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার হার এক উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। গত এক বছরে (২০২৫ সালে) সারাদেশে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও মাদ্রাসা পর্যায়ের মোট ৪০৩ জন শিক্ষার্থী আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছেন। যার মধ্যে বড় একটি অংশই আবেগীয় টানাপোড়েন, হতাশা ও অভিমানে প্রাণ হারিয়েছেন।


শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন আঁচল ফাউন্ডেশন আয়োজিত ‘শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যা: ক্রমবর্ধমান সংকট’ শীর্ষক এক অনলাইন সংবাদ সম্মেলনে এই পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়। দেশের ১৬৫টি স্থানীয় ও জাতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদসমূহ পর্যালোচনা করে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।


প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, আত্মহত্যাকারী ৪০৩ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঘটনা ঘটেছে স্কুল পর্যায়ে। এ সময়ে স্কুল পর্যায়ে ১৯০ জন (৪৭.৪০ শতাংশ), কলেজে ৯২ জন (২২.৮ শতাংশ), বিশ্ববিদ্যালয়ে ৭৭ জন (১৯.১০ শতাংশ) এবং মাদ্রাসায় ৪৪ জন (১০.৭২ শতাংশ) শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন। সংগঠনটি বলছে, স্কুলগামী শিক্ষার্থীরা কৈশোরের শুরুতে মানসিক ও আবেগীয়ভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল থাকে, যা এই পর্যায়ে আত্মহত্যার হার বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।


মাদ্রাসা পর্যায়ের ৪৪ জন শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার কারণ বিশ্লেষণে দেখা গেছে, তাদের প্রধান শত্রু ছিল গভীর হতাশা। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ৩৬.৩৮ শতাংশ শিক্ষার্থী হতাশা থেকে আত্মহত্যা করেছেন। ২৫ শতাংশ করেছেন পরিবারের ওপর অভিমান করে। এছাড়া প্রেমঘটিত কারণে ১১.৩৪ শতাংশ, পারিবারিক টানাপোড়েনে ১১.৩৭ শতাংশ, একাডেমিক চাপে ৬.৮২ শতাংশ এবং মানসিক অস্থিতিশীলতায় ৬.৮১ শতাংশ শিক্ষার্থী প্রাণ হারিয়েছেন।


লিঙ্গভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, মোট আত্মহত্যাকারীদের মধ্যে ৬১.৮ শতাংশই (২৪৯ জন) নারী শিক্ষার্থী এবং ৩৮.২ শতাংশ (১৫৪ জন) পুরুষ। স্কুল ও কলেজ পর্যায়ে নারী শিক্ষার্থীর হার বেশি থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে পুরুষ শিক্ষার্থীদের সংখ্যা সামান্য বেশি—৪১ জন পুরুষের বিপরীতে ৩৬ জন নারী। সংশ্লিষ্টদের মতে, উচ্চশিক্ষা পর্যায়ে ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তা ও কর্মসংস্থান পুরুষ শিক্ষার্থীদের ওপর বাড়তি মানসিক চাপ তৈরি করছে।


শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার পেছনে প্রধান দুটি কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে হতাশা (২৭.৭৯ শতাংশ) এবং অভিমান (২৩.৩২ শতাংশ)। এছাড়া একাডেমিক চাপে ৭২ জন, প্রেমঘটিত কারণে ৫৩ জন (১৩.১৫ শতাংশ), পারিবারিক টানাপোড়েনে ৩২ জন (৭.৯৪ শতাংশ), মানসিক অস্থিতিশীলতায় ২৫ জন (৬.২০ শতাংশ) এবং যৌন নির্যাতনের কারণে ১৪ জন (৩.৪৭ শতাংশ) শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন। সাইবার বুলিংয়ের শিকার হয়েও একজন নারী শিক্ষার্থীর মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে।


আঁচল ফাউন্ডেশন বলছে, এই পরিসংখ্যান কেবল সংখ্যা নয়; বরং আমাদের পারিবারিক ও সামাজিক কাঠামোর সীমাবদ্ধতার প্রতিফলন। পরিবারে যোগাযোগের অভাব, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পেশাদার কাউন্সেলিংয়ের অভাব এবং মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে অজ্ঞতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।


সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, শুধু সচেতনতামূলক বক্তব্য দিয়ে এই পরিস্থিতি মোকাবিলা সম্ভব নয়। শিক্ষার্থীদের জীবন রক্ষায় কাঠামোগত পরিবর্তন, পেশাদার মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা এবং সমন্বিত রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা এখন সময়ের দাবি।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ