ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

কক্সবাজারে গ্যাস পাম্পে আগুন: তদন্তে ৫ সদস্যের কমিটি


নিজস্ব প্রতিবেদন
নিজস্ব প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

কক্সবাজারে গ্যাস পাম্পে আগুন: তদন্তে ৫ সদস্যের কমিটি

কক্সবাজারে একটি এলপিজি গ্যাস স্টেশনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক কাটেনি। প্রশাসনের নির্দেশে আশপাশের বাসিন্দারা এখনো ঘরে চুলা জ্বালানো থেকে বিরত রয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, কক্সবাজার এলপিজি গ্যাস স্টেশনের তিন দিকজুড়ে রয়েছে ঘনবসতি ও পর্যটকবাহী গাড়ির গ্যারেজ। আগুনে একটি গ্যারেজে পার্কিংয়ে থাকা অন্তত ৩০টি টুরিস্ট জিপ পুড়ে গেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, পাশের আরও তিনটি ঘরও আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

পর্যটকবাহী একটি জিপের মালিক ও চালক রফিকুল ইসলাম জানান, প্রায় ৯ লাখ টাকা ব্যয়ে আড়াই মাস আগে গাড়িটি প্রস্তুত করেছিলেন। গ্যারেজে মোট ৪০টি জিপ পার্কিংয়ে ছিল। এর মধ্যে মাত্র ১০টি বের করা সম্ভব হয়েছে, বাকিগুলো পুড়ে সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। পুরো গ্যারেজ এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত।

পাশের বসতবাড়ির বাসিন্দা মুন্নী বেগম বলেন, সন্তানদের নিয়ে প্রাণে বাঁচলেও আগুনে পুড়ে গেছে তার ঘর, আসবাবপত্র, পাঁচ ভরি স্বর্ণালংকার এবং প্রায় তিন লাখ টাকা নগদ অর্থ। তিনি বলেন, “এক কাপড়ে বের হতে পেরেছি, সবকিছু শেষ হয়ে গেছে।”

স্থানীয় বাসিন্দা রমিজ উদ্দিন জানান, এখনো তারা বসতিতে স্বাভাবিকভাবে ফিরতে পারেননি। ফায়ার সার্ভিসের নির্দেশে চুলা জ্বালানো বন্ধ রাখা হয়েছে। রাতে আত্মীয়ের বাসায় গিয়ে সেহেরি খেতে হয়েছে বলে জানান তিনি।

ঘটনার পর সকালে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাইদুর রহমান খান। তাদের সঙ্গে ছিলেন কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান। তিনি জানান, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করে ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।

এ ঘটনায় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।

ফায়ার সার্ভিস কক্সবাজার স্টেশনের উপ-সহকারী পরিচালক সৈয়দ মুহাম্মদ মোরশেদ হোসেন জানান, প্রায় ১৪ হাজার লিটার ধারণক্ষমতা সম্পন্ন একটি ট্যাংক ঘিরেই আগুনের সূত্রপাত। মাত্র তিন দিন আগে পাম্পটি চালু হয়েছিল। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, সেখানে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা বা প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছিল না। অনুমোদন ছাড়া পাম্প চালুর ঘটনায় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। কক্সবাজার সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের তথ্যমতে, দগ্ধ ৯ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা ও চট্টগ্রামে পাঠানো হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


কক্সবাজারে গ্যাস পাম্পে আগুন: তদন্তে ৫ সদস্যের কমিটি

প্রকাশের তারিখ : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image

কক্সবাজারে একটি এলপিজি গ্যাস স্টেশনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক কাটেনি। প্রশাসনের নির্দেশে আশপাশের বাসিন্দারা এখনো ঘরে চুলা জ্বালানো থেকে বিরত রয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, কক্সবাজার এলপিজি গ্যাস স্টেশনের তিন দিকজুড়ে রয়েছে ঘনবসতি ও পর্যটকবাহী গাড়ির গ্যারেজ। আগুনে একটি গ্যারেজে পার্কিংয়ে থাকা অন্তত ৩০টি টুরিস্ট জিপ পুড়ে গেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, পাশের আরও তিনটি ঘরও আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

পর্যটকবাহী একটি জিপের মালিক ও চালক রফিকুল ইসলাম জানান, প্রায় ৯ লাখ টাকা ব্যয়ে আড়াই মাস আগে গাড়িটি প্রস্তুত করেছিলেন। গ্যারেজে মোট ৪০টি জিপ পার্কিংয়ে ছিল। এর মধ্যে মাত্র ১০টি বের করা সম্ভব হয়েছে, বাকিগুলো পুড়ে সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। পুরো গ্যারেজ এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত।

পাশের বসতবাড়ির বাসিন্দা মুন্নী বেগম বলেন, সন্তানদের নিয়ে প্রাণে বাঁচলেও আগুনে পুড়ে গেছে তার ঘর, আসবাবপত্র, পাঁচ ভরি স্বর্ণালংকার এবং প্রায় তিন লাখ টাকা নগদ অর্থ। তিনি বলেন, “এক কাপড়ে বের হতে পেরেছি, সবকিছু শেষ হয়ে গেছে।”

স্থানীয় বাসিন্দা রমিজ উদ্দিন জানান, এখনো তারা বসতিতে স্বাভাবিকভাবে ফিরতে পারেননি। ফায়ার সার্ভিসের নির্দেশে চুলা জ্বালানো বন্ধ রাখা হয়েছে। রাতে আত্মীয়ের বাসায় গিয়ে সেহেরি খেতে হয়েছে বলে জানান তিনি।

ঘটনার পর সকালে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাইদুর রহমান খান। তাদের সঙ্গে ছিলেন কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান। তিনি জানান, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করে ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।

এ ঘটনায় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।

ফায়ার সার্ভিস কক্সবাজার স্টেশনের উপ-সহকারী পরিচালক সৈয়দ মুহাম্মদ মোরশেদ হোসেন জানান, প্রায় ১৪ হাজার লিটার ধারণক্ষমতা সম্পন্ন একটি ট্যাংক ঘিরেই আগুনের সূত্রপাত। মাত্র তিন দিন আগে পাম্পটি চালু হয়েছিল। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, সেখানে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা বা প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছিল না। অনুমোদন ছাড়া পাম্প চালুর ঘটনায় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। কক্সবাজার সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের তথ্যমতে, দগ্ধ ৯ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা ও চট্টগ্রামে পাঠানো হয়েছে।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ