খুলনা অঞ্চলের লবণাক্ত পতিত জমি এবার সূর্যমুখী ফুলের সোনালি রঙে ঝলমল করছে। উপকূলীয় ও নিম্নাঞ্চলের কৃষকরা সফলভাবে সূর্যমুখী চাষ শুরু করেছেন, যা জেলার ভোজ্য তেলের চাহিদা মেটাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত করেছে।
কম উৎপাদন খরচ, স্বল্প চাষকাল এবং সরকারি প্রণোদনা কৃষকদের উৎসাহিত করছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) তথ্য অনুযায়ী, খুলনা, বাগেরহাট, নড়াইল ও সাতক্ষীরা জেলায় চলতি মৌসুমে ১ হাজার ২১৯ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখী চাষ করা হয়েছে, যা গত বছরের ১ হাজার ১০৮ হেক্টরের তুলনায় ১১১ হেক্টর বেশি। চলতি (২০২৫-২৬) মৌসুমে ১ হাজার ৩১৯ হেক্টর জমিতে ২ হাজার ৯৪৫ মেট্রিক টন উৎপাদন করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
২৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৯২ শতাংশ চাষ সম্পন্ন হয়েছে। খুলনায় ৫৫০ হেক্টরের লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে ১৯৭ হেক্টরে (৩৬%), বাগেরহাটে ৫৩৮ হেক্টরের মধ্যে ৬০৩ হেক্টরে (১১২%), সাতক্ষীরায় ১১৪ হেক্টরের মধ্যে ২২৮ হেক্টরে (২০০%) এবং নড়াইলে ১১৭ হেক্টরের মধ্যে ১৯১ হেক্টরে (১৬৩%) চাষাবাদ সম্পন্ন হয়েছে।
কর্মকর্তারা আশা করছেন, এ ফলন থেকে খুলনা অঞ্চলে প্রায় ১১ লাখ ৮০ হাজার লিটার (প্রতি মেট্রিক টন ৪০০ লিটার হিসেবে) ভোজ্যতেল উৎপাদন সম্ভব হবে, যা দেশের প্রায় ৩ কোটি মানুষের চাহিদা মেটাতে সাহায্য করবে এবং আমদানি নির্ভরতা হ্রাস করবে।
ডুমুরিয়ার মডেল মসজিদ সংলগ্ন ক্ষেত পরিদর্শনে দেখা যায়, হলুদ কার্পেটের মতো বিস্তৃত সূর্যমুখী বাগান বাতাসে দোল খাচ্ছে। কৃষক আব্দুল হক জানান, প্রতি বিঘায় সাত থেকে দশ মণ বীজ পাওয়া যায় এবং প্রতি কেজি বীজ থেকে কমপক্ষে আধা লিটার তেল বের করা সম্ভব। প্রতি বিঘায় খরচ হচ্ছে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ টাকা এবং বর্তমানে সূর্যমুখী তেল প্রতি লিটারে ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বীজের খোসাও গবাদি পশুর খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা যায়।
ডুমুরিয়ার কৃষক শাহাদাত হোসেন বলেন, লবণাক্ত জমিতে অন্যান্য ফসল ভালো ফলন না দিলেও সূর্যমুখী তুলনামূলকভাবে ভালো ফলন দেয়। ফলে কম সেচ এবং যত্নে চাষ করা যায়। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. নাজমুল হুদা সূর্যমুখীকে প্রতিশ্রুতিশীল তৈলবীজ হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, উন্নতমানের বীজ, সার ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব। তিনি সরকারি ক্রয় এবং শক্তিশালী বাজার ব্যবস্থার ওপর জোর দেন।
ডিএই-এর অতিরিক্ত পরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম জানান, এই মৌসুমে ১০,৬৫০ জন কৃষককে প্রণোদনা সহায়তা দেওয়া হয়েছে। কৃষকদের জন্য সার ও বীজ বিতরণ করা হয়েছে এবং ২৪০ জন কৃষক ৮০ একর জমিতে প্রদর্শন ক্ষেত তৈরি করেছেন।
তিনি বলেন, সূর্যমুখী শুধু একটি ফুল নয়, বরং খুলনা অঞ্চলের অর্থনৈতিক সম্ভাবনার প্রতীক হয়ে উঠেছে।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
খুলনা অঞ্চলের লবণাক্ত পতিত জমি এবার সূর্যমুখী ফুলের সোনালি রঙে ঝলমল করছে। উপকূলীয় ও নিম্নাঞ্চলের কৃষকরা সফলভাবে সূর্যমুখী চাষ শুরু করেছেন, যা জেলার ভোজ্য তেলের চাহিদা মেটাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত করেছে।
কম উৎপাদন খরচ, স্বল্প চাষকাল এবং সরকারি প্রণোদনা কৃষকদের উৎসাহিত করছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) তথ্য অনুযায়ী, খুলনা, বাগেরহাট, নড়াইল ও সাতক্ষীরা জেলায় চলতি মৌসুমে ১ হাজার ২১৯ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখী চাষ করা হয়েছে, যা গত বছরের ১ হাজার ১০৮ হেক্টরের তুলনায় ১১১ হেক্টর বেশি। চলতি (২০২৫-২৬) মৌসুমে ১ হাজার ৩১৯ হেক্টর জমিতে ২ হাজার ৯৪৫ মেট্রিক টন উৎপাদন করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
২৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৯২ শতাংশ চাষ সম্পন্ন হয়েছে। খুলনায় ৫৫০ হেক্টরের লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে ১৯৭ হেক্টরে (৩৬%), বাগেরহাটে ৫৩৮ হেক্টরের মধ্যে ৬০৩ হেক্টরে (১১২%), সাতক্ষীরায় ১১৪ হেক্টরের মধ্যে ২২৮ হেক্টরে (২০০%) এবং নড়াইলে ১১৭ হেক্টরের মধ্যে ১৯১ হেক্টরে (১৬৩%) চাষাবাদ সম্পন্ন হয়েছে।
কর্মকর্তারা আশা করছেন, এ ফলন থেকে খুলনা অঞ্চলে প্রায় ১১ লাখ ৮০ হাজার লিটার (প্রতি মেট্রিক টন ৪০০ লিটার হিসেবে) ভোজ্যতেল উৎপাদন সম্ভব হবে, যা দেশের প্রায় ৩ কোটি মানুষের চাহিদা মেটাতে সাহায্য করবে এবং আমদানি নির্ভরতা হ্রাস করবে।
ডুমুরিয়ার মডেল মসজিদ সংলগ্ন ক্ষেত পরিদর্শনে দেখা যায়, হলুদ কার্পেটের মতো বিস্তৃত সূর্যমুখী বাগান বাতাসে দোল খাচ্ছে। কৃষক আব্দুল হক জানান, প্রতি বিঘায় সাত থেকে দশ মণ বীজ পাওয়া যায় এবং প্রতি কেজি বীজ থেকে কমপক্ষে আধা লিটার তেল বের করা সম্ভব। প্রতি বিঘায় খরচ হচ্ছে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ টাকা এবং বর্তমানে সূর্যমুখী তেল প্রতি লিটারে ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বীজের খোসাও গবাদি পশুর খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা যায়।
ডুমুরিয়ার কৃষক শাহাদাত হোসেন বলেন, লবণাক্ত জমিতে অন্যান্য ফসল ভালো ফলন না দিলেও সূর্যমুখী তুলনামূলকভাবে ভালো ফলন দেয়। ফলে কম সেচ এবং যত্নে চাষ করা যায়। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. নাজমুল হুদা সূর্যমুখীকে প্রতিশ্রুতিশীল তৈলবীজ হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, উন্নতমানের বীজ, সার ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব। তিনি সরকারি ক্রয় এবং শক্তিশালী বাজার ব্যবস্থার ওপর জোর দেন।
ডিএই-এর অতিরিক্ত পরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম জানান, এই মৌসুমে ১০,৬৫০ জন কৃষককে প্রণোদনা সহায়তা দেওয়া হয়েছে। কৃষকদের জন্য সার ও বীজ বিতরণ করা হয়েছে এবং ২৪০ জন কৃষক ৮০ একর জমিতে প্রদর্শন ক্ষেত তৈরি করেছেন।
তিনি বলেন, সূর্যমুখী শুধু একটি ফুল নয়, বরং খুলনা অঞ্চলের অর্থনৈতিক সম্ভাবনার প্রতীক হয়ে উঠেছে।

আপনার মতামত লিখুন