ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

ডিজিএফআই-এর নতুন মহাপরিচালক মেজর জেনারেল কায়ছার রশীদ চৌধুরী


নিজস্ব প্রতিবেদন
নিজস্ব প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

ডিজিএফআই-এর নতুন মহাপরিচালক মেজর জেনারেল কায়ছার রশীদ চৌধুরী

প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) নতুন মহাপরিচালক (ডিজি) হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন মেজর জেনারেল কায়ছার রশীদ চৌধুরী। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একজন অত্যন্ত মেধাবী ও চৌকস কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত এই জেনারেলের বর্ণাঢ্য সামরিক ক্যারিয়ার ও আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা তাঁকে এই গুরুত্বপূর্ণ পদের জন্য যোগ্য করে তুলেছে।

ঢাকা: সামরিক সূত্র ও তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, মেজর জেনারেল কায়ছার রশীদ চৌধুরী পেশাদারিত্ব ও মেধার সমন্বয়ে একজন প্রজ্ঞাবান সামরিক কর্মকর্তা। ২৯তম বিএমএ লং কোর্সের দ্বিতীয় সেরা ক্যাডেট হিসেবে কমিশন লাভ করা এই কর্মকর্তা তাঁর সামরিক প্রশিক্ষণে অসামান্য সাফল্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। তাঁর সহকর্মীদের মতে, তিনি প্রশিক্ষণকালীন প্রায় প্রতিটি পর্যায়ে শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দিয়েছেন।

শিক্ষা ও সামরিক প্রশিক্ষণ তিনি দেশে ও বিদেশে একাধিক উচ্চতর সামরিক কোর্স সম্পন্ন করেছেন। বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্য থেকে দুইবার স্টাফ কোর্স সম্পন্ন করার বিরল কৃতিত্ব তাঁর রয়েছে। এছাড়াও তিনি তুরস্ক থেকে আর্টিলারি বেসিক কোর্স এবং পাকিস্তান থেকে গানারি স্টাফ কোর্স সম্পন্ন করেছেন।

পেশাদারিত্ব ও মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা দীর্ঘ সামরিক জীবনে মেজর জেনারেল কায়ছার রশীদ চৌধুরী পার্বত্য চট্টগ্রামে আর্টিলারি ব্রিগেডের ব্রিগেড মেজর (বিএম) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। শিক্ষক হিসেবেও তাঁর বিশেষ পরিচিতি রয়েছে। তিনি ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজে (ডিএসসিএসসি) দীর্ঘ তিন বছর প্রশিক্ষক ও প্রধান প্রশিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পাশাপাশি স্কুল অব আর্টিলারিতেও তিন মেয়াদে প্রশিক্ষক হিসেবে তিনি তাঁর যোগ্যতার স্বাক্ষর রেখেছেন।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অর্জন জাতিসংঘ সদর দপ্তরে (UNHQ) কর্মরত থাকাকালীন ২০১৯ সাল থেকে তিনি বাংলাদেশের জন্য অনন্য গৌরব বয়ে আনেন। তাঁর প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ শীর্ষ শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশ হিসেবে নিজেদের অবস্থান সুসংহত করে এবং তাঁর পুরো মেয়াদে বাংলাদেশ এই শীর্ষস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হয়। শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের বিভিন্ন নিরাপত্তা বাহিনীর জন্য নতুন কর্মক্ষেত্র সৃষ্টিতে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। মেধা ও শ্রমের জন্য তিনি জাতিসংঘ মহাসচিবের সামরিক উপদেষ্টার অত্যন্ত আস্থাভাজন ছিলেন।

সহকর্মীদের মূল্যায়ন তাঁর এক সহকর্মী (সাবেক সেনা কর্মকর্তা) স্মৃতিচারণ করে বলেন, বিএমএ থেকে শুরু করে কর্মজীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে তিনি এক অনন্য উদাহরণ। তাঁর প্রশিক্ষণ, অপারেশনাল দক্ষতা এবং প্রশাসনিক জ্ঞান ডিজিএফআই-এর মতো একটি স্পর্শকাতর সংস্থার হাল ধরার জন্য অত্যন্ত কার্যকর হবে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, মেধা ও পেশাদারিত্বের ওপর ভিত্তি করে এই গুরুদায়িত্ব অর্পণের সিদ্ধান্ত অত্যন্ত সময়োপযোগী এবং দেশের অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


ডিজিএফআই-এর নতুন মহাপরিচালক মেজর জেনারেল কায়ছার রশীদ চৌধুরী

প্রকাশের তারিখ : ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image

প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) নতুন মহাপরিচালক (ডিজি) হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন মেজর জেনারেল কায়ছার রশীদ চৌধুরী। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একজন অত্যন্ত মেধাবী ও চৌকস কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত এই জেনারেলের বর্ণাঢ্য সামরিক ক্যারিয়ার ও আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা তাঁকে এই গুরুত্বপূর্ণ পদের জন্য যোগ্য করে তুলেছে।

ঢাকা: সামরিক সূত্র ও তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, মেজর জেনারেল কায়ছার রশীদ চৌধুরী পেশাদারিত্ব ও মেধার সমন্বয়ে একজন প্রজ্ঞাবান সামরিক কর্মকর্তা। ২৯তম বিএমএ লং কোর্সের দ্বিতীয় সেরা ক্যাডেট হিসেবে কমিশন লাভ করা এই কর্মকর্তা তাঁর সামরিক প্রশিক্ষণে অসামান্য সাফল্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। তাঁর সহকর্মীদের মতে, তিনি প্রশিক্ষণকালীন প্রায় প্রতিটি পর্যায়ে শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দিয়েছেন।

শিক্ষা ও সামরিক প্রশিক্ষণ তিনি দেশে ও বিদেশে একাধিক উচ্চতর সামরিক কোর্স সম্পন্ন করেছেন। বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্য থেকে দুইবার স্টাফ কোর্স সম্পন্ন করার বিরল কৃতিত্ব তাঁর রয়েছে। এছাড়াও তিনি তুরস্ক থেকে আর্টিলারি বেসিক কোর্স এবং পাকিস্তান থেকে গানারি স্টাফ কোর্স সম্পন্ন করেছেন।

পেশাদারিত্ব ও মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা দীর্ঘ সামরিক জীবনে মেজর জেনারেল কায়ছার রশীদ চৌধুরী পার্বত্য চট্টগ্রামে আর্টিলারি ব্রিগেডের ব্রিগেড মেজর (বিএম) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। শিক্ষক হিসেবেও তাঁর বিশেষ পরিচিতি রয়েছে। তিনি ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজে (ডিএসসিএসসি) দীর্ঘ তিন বছর প্রশিক্ষক ও প্রধান প্রশিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পাশাপাশি স্কুল অব আর্টিলারিতেও তিন মেয়াদে প্রশিক্ষক হিসেবে তিনি তাঁর যোগ্যতার স্বাক্ষর রেখেছেন।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অর্জন জাতিসংঘ সদর দপ্তরে (UNHQ) কর্মরত থাকাকালীন ২০১৯ সাল থেকে তিনি বাংলাদেশের জন্য অনন্য গৌরব বয়ে আনেন। তাঁর প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ শীর্ষ শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশ হিসেবে নিজেদের অবস্থান সুসংহত করে এবং তাঁর পুরো মেয়াদে বাংলাদেশ এই শীর্ষস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হয়। শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের বিভিন্ন নিরাপত্তা বাহিনীর জন্য নতুন কর্মক্ষেত্র সৃষ্টিতে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। মেধা ও শ্রমের জন্য তিনি জাতিসংঘ মহাসচিবের সামরিক উপদেষ্টার অত্যন্ত আস্থাভাজন ছিলেন।

সহকর্মীদের মূল্যায়ন তাঁর এক সহকর্মী (সাবেক সেনা কর্মকর্তা) স্মৃতিচারণ করে বলেন, বিএমএ থেকে শুরু করে কর্মজীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে তিনি এক অনন্য উদাহরণ। তাঁর প্রশিক্ষণ, অপারেশনাল দক্ষতা এবং প্রশাসনিক জ্ঞান ডিজিএফআই-এর মতো একটি স্পর্শকাতর সংস্থার হাল ধরার জন্য অত্যন্ত কার্যকর হবে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, মেধা ও পেশাদারিত্বের ওপর ভিত্তি করে এই গুরুদায়িত্ব অর্পণের সিদ্ধান্ত অত্যন্ত সময়োপযোগী এবং দেশের অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ