ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে জাতীয় সংসদ কার্যকর হয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচনের সরকারি ফল প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে সংসদ অধিবেশন আহ্বানের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সেই বিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আগামী ১২ মার্চ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আহ্বান করেছেন। ওই অধিবেশনেই স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করা হবে এবং রাষ্ট্রপতি সংসদে ভাষণ দেবেন।
তবে এবারের প্রথম অধিবেশনে সভাপতিত্ব কে করবেন, তা নিয়ে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। কারণ, আগের সংসদের স্পিকার পদত্যাগ করেছেন এবং ডেপুটি স্পিকার কারাগারে রয়েছেন। সাধারণত পূর্ববর্তী সংসদের স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার উদ্বোধনী অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।
সংসদবিষয়ক গবেষক অধ্যাপক নিজাম উদ্দিন আহমেদ বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রপতি মনোনীত কোনো সংসদ সদস্য দিয়ে প্রথম অধিবেশন শুরু করাতে হবে। সংবিধান ও জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার অনুপস্থিত থাকলে এই ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
সংবিধানের ৭৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সাধারণ নির্বাচনের পর সংসদের প্রথম বৈঠকেই সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকে একজন স্পিকার ও একজন ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করতে হয়। কোনো কারণে পদ শূন্য হলে সাত দিনের মধ্যে বা সংসদ অধিবেশন বসলে প্রথম বৈঠকে সেই পদ পূরণ করতে হবে।
অধ্যাপক কে এম মহিউদ্দিন বলেন, স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার উভয়ই অনুপস্থিত থাকলে কার্যপ্রণালী বিধির ৫ নম্বর ধারা অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির মনোনীত ব্যক্তি অধিবেশন পরিচালনা করতে পারেন। তার মতে, এটি একটি ব্যতিক্রমী পরিস্থিতি এবং এ ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির মনোনয়নই কার্যকর হবে।
স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন প্রক্রিয়ায় কোনো সংসদ সদস্য একজন প্রার্থীর নাম প্রস্তাব করবেন এবং আরেকজন সদস্য তা সমর্থন করবেন। প্রার্থীকে দায়িত্ব পালনে সম্মতির লিখিত বিবৃতি দিতে হবে। একাধিক প্রার্থী থাকলে ভোটাভুটির মাধ্যমে নির্বাচন হবে, আর একক প্রার্থী হলে কণ্ঠভোটে নির্বাচন সম্পন্ন করা যাবে। সাধারণত স্পিকার নির্বাচনের পর তার সভাপতিত্বে ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করা হয়।
নির্বাচন প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর অধিবেশন মুলতবি ঘোষণা করা হবে এবং রাষ্ট্রপতি স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারকে শপথ পাঠ করাবেন। শপথ গ্রহণের পর তাদের সভাপতিত্বেই সংসদের নিয়মিত কার্যক্রম শুরু হবে।
উল্লেখ্য, ১৭ ফেব্রুয়ারি নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ গ্রহণ করেন এবং একই দিনে বিএনপি জোট তারেক রহমানকে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচন করে। বিরোধী জোটের বৈঠকে জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানকে বিরোধীদলীয় নেতা এবং এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামকে বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নির্বাচিত করা হয়েছে।
সংবিধান অনুযায়ী, বিরোধীদলীয় নেতা ও চিফ হুইপ পদ পূর্ণ মন্ত্রীর মর্যাদার সমান সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকেন। তবে সরকারি দলের চিফ হুইপ ও সংসদ উপনেতার পদ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি।
সংবিধানে বলা আছে, নতুন সংসদে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার শপথ নেওয়ার মাধ্যমে পূর্ববর্তী সংসদের স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের মেয়াদ শেষ হয়। তবে রাষ্ট্রব্যবস্থা সংস্কারের জুলাই সনদে বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের প্রস্তাবও রাখা হয়েছে, যা ভবিষ্যতে সংসদীয় ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনতে পারে।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে জাতীয় সংসদ কার্যকর হয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচনের সরকারি ফল প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে সংসদ অধিবেশন আহ্বানের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সেই বিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আগামী ১২ মার্চ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আহ্বান করেছেন। ওই অধিবেশনেই স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করা হবে এবং রাষ্ট্রপতি সংসদে ভাষণ দেবেন।
তবে এবারের প্রথম অধিবেশনে সভাপতিত্ব কে করবেন, তা নিয়ে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। কারণ, আগের সংসদের স্পিকার পদত্যাগ করেছেন এবং ডেপুটি স্পিকার কারাগারে রয়েছেন। সাধারণত পূর্ববর্তী সংসদের স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার উদ্বোধনী অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।
সংসদবিষয়ক গবেষক অধ্যাপক নিজাম উদ্দিন আহমেদ বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রপতি মনোনীত কোনো সংসদ সদস্য দিয়ে প্রথম অধিবেশন শুরু করাতে হবে। সংবিধান ও জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার অনুপস্থিত থাকলে এই ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
সংবিধানের ৭৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সাধারণ নির্বাচনের পর সংসদের প্রথম বৈঠকেই সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকে একজন স্পিকার ও একজন ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করতে হয়। কোনো কারণে পদ শূন্য হলে সাত দিনের মধ্যে বা সংসদ অধিবেশন বসলে প্রথম বৈঠকে সেই পদ পূরণ করতে হবে।
অধ্যাপক কে এম মহিউদ্দিন বলেন, স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার উভয়ই অনুপস্থিত থাকলে কার্যপ্রণালী বিধির ৫ নম্বর ধারা অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির মনোনীত ব্যক্তি অধিবেশন পরিচালনা করতে পারেন। তার মতে, এটি একটি ব্যতিক্রমী পরিস্থিতি এবং এ ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির মনোনয়নই কার্যকর হবে।
স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন প্রক্রিয়ায় কোনো সংসদ সদস্য একজন প্রার্থীর নাম প্রস্তাব করবেন এবং আরেকজন সদস্য তা সমর্থন করবেন। প্রার্থীকে দায়িত্ব পালনে সম্মতির লিখিত বিবৃতি দিতে হবে। একাধিক প্রার্থী থাকলে ভোটাভুটির মাধ্যমে নির্বাচন হবে, আর একক প্রার্থী হলে কণ্ঠভোটে নির্বাচন সম্পন্ন করা যাবে। সাধারণত স্পিকার নির্বাচনের পর তার সভাপতিত্বে ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করা হয়।
নির্বাচন প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর অধিবেশন মুলতবি ঘোষণা করা হবে এবং রাষ্ট্রপতি স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারকে শপথ পাঠ করাবেন। শপথ গ্রহণের পর তাদের সভাপতিত্বেই সংসদের নিয়মিত কার্যক্রম শুরু হবে।
উল্লেখ্য, ১৭ ফেব্রুয়ারি নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ গ্রহণ করেন এবং একই দিনে বিএনপি জোট তারেক রহমানকে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচন করে। বিরোধী জোটের বৈঠকে জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানকে বিরোধীদলীয় নেতা এবং এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামকে বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নির্বাচিত করা হয়েছে।
সংবিধান অনুযায়ী, বিরোধীদলীয় নেতা ও চিফ হুইপ পদ পূর্ণ মন্ত্রীর মর্যাদার সমান সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকেন। তবে সরকারি দলের চিফ হুইপ ও সংসদ উপনেতার পদ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি।
সংবিধানে বলা আছে, নতুন সংসদে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার শপথ নেওয়ার মাধ্যমে পূর্ববর্তী সংসদের স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের মেয়াদ শেষ হয়। তবে রাষ্ট্রব্যবস্থা সংস্কারের জুলাই সনদে বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের প্রস্তাবও রাখা হয়েছে, যা ভবিষ্যতে সংসদীয় ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন