ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

রাঙ্গামাটি থেকে মিজোরামে কুকুর পাচারের অভিযোগ, প্রতিটি কুকুর বিক্রি ১০–১২ হাজার টাকায়


নিজস্ব প্রতিবেদন
নিজস্ব প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

রাঙ্গামাটি থেকে মিজোরামে কুকুর পাচারের অভিযোগ, প্রতিটি কুকুর বিক্রি ১০–১২ হাজার টাকায়

রাঙ্গামাটি, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি: রাঙ্গামাটির লংগদু উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে বেওয়ারিশ কুকুর শিকার করে ভারতের মিজোরামে পাচারের অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হলে স্থানীয় পর্যায়ে বিষয়টি আলোচনায় আসে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পাচারকারীরা বিশেষভাবে তৈরি বাঁশের ফাঁদ ব্যবহার করে কুকুর ধরছে। পরে নৌকাযোগে কাপ্তাই হ্রদ পার হয়ে সেগুলো বরকল উপজেলায় নেওয়া হয় এবং সেখান থেকে সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে ভারতের মিজোরামে পাচার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

মিজোরামে প্রতিবছর মার্চ মাসে জনপ্রিয় বসন্ত উৎসব ‘চাপচার কুট’ অনুষ্ঠিত হয়। কৃষিভিত্তিক এই উৎসবকে কেন্দ্র করে কিছু এলাকায় কুকুরের মাংসের চাহিদা বাড়ে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, আসন্ন উৎসবকে সামনে রেখে সম্প্রতি কুকুর শিকার ও পাচারের তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে।

বাংলাদেশে ২০১৯ সালের প্রাণী কল্যাণ আইন অনুযায়ী মালিকবিহীন কুকুর বা অন্য কোনো প্রাণী হত্যা বা অপসারণ আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। অন্যদিকে ভারতে, বিশেষ করে মিজোরাম রাজ্যে কুকুর জবাই ও বিক্রি নিষিদ্ধ। ২০২০ সালের মার্চে মিজোরাম বিধানসভায় ‘মিজোরাম অ্যানিম্যাল স্লটার (সংশোধন) বিল, ২০২০’ পাস হয়, যার মাধ্যমে কুকুরকে জবাই বা ভোজ্য প্রাণীর তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিকারি দাবি করেন, তারা বরকল উপজেলা থেকে এসেছেন এবং মাংস খাওয়ার উদ্দেশ্যেই কুকুর ধরেছেন।

রাঙ্গামাটি জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের ভেটেরিনারি সার্জন ডা. দেবরাজ চাকমা বলেন, বসন্ত উৎসবকে কেন্দ্র করে মিজোরামের কিছু এলাকায় কুকুরের মাংস খাওয়ার প্রচলন রয়েছে। উৎসবকে সামনে রেখে কুকুর শিকার করা হতে পারে বলে তিনি ধারণা দেন।

রাঙ্গামাটি জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মঈনুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, প্রাণী কল্যাণ আইন ২০১৯-এর ৭ ধারা অনুযায়ী মালিকবিহীন কুকুর হত্যা বা অপসারণ দণ্ডনীয় অপরাধ। তিনি জানান, কুকুর জলাতঙ্কসহ বিভিন্ন রোগ বহন করতে পারে এবং বেওয়ারিশ কুকুরের মাংস খাওয়া জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।

তিনি আরও বলেন, কোনো এলাকায় কুকুরকে ভ্যাকসিন দেওয়া হলে সেখান থেকে কুকুর সরিয়ে নেওয়া হলে একটি শূন্যতা তৈরি হয়, ফলে টিকাবিহীন কুকুর এসে জায়গা দখল করে। এ কারণে নির্বিচারে কুকুর অপসারণ না করতে আইন করা হয়েছে। তিনি সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনের আহ্বান জানান।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


রাঙ্গামাটি থেকে মিজোরামে কুকুর পাচারের অভিযোগ, প্রতিটি কুকুর বিক্রি ১০–১২ হাজার টাকায়

প্রকাশের তারিখ : ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image

রাঙ্গামাটি, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি: রাঙ্গামাটির লংগদু উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে বেওয়ারিশ কুকুর শিকার করে ভারতের মিজোরামে পাচারের অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হলে স্থানীয় পর্যায়ে বিষয়টি আলোচনায় আসে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পাচারকারীরা বিশেষভাবে তৈরি বাঁশের ফাঁদ ব্যবহার করে কুকুর ধরছে। পরে নৌকাযোগে কাপ্তাই হ্রদ পার হয়ে সেগুলো বরকল উপজেলায় নেওয়া হয় এবং সেখান থেকে সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে ভারতের মিজোরামে পাচার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

মিজোরামে প্রতিবছর মার্চ মাসে জনপ্রিয় বসন্ত উৎসব ‘চাপচার কুট’ অনুষ্ঠিত হয়। কৃষিভিত্তিক এই উৎসবকে কেন্দ্র করে কিছু এলাকায় কুকুরের মাংসের চাহিদা বাড়ে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, আসন্ন উৎসবকে সামনে রেখে সম্প্রতি কুকুর শিকার ও পাচারের তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে।

বাংলাদেশে ২০১৯ সালের প্রাণী কল্যাণ আইন অনুযায়ী মালিকবিহীন কুকুর বা অন্য কোনো প্রাণী হত্যা বা অপসারণ আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। অন্যদিকে ভারতে, বিশেষ করে মিজোরাম রাজ্যে কুকুর জবাই ও বিক্রি নিষিদ্ধ। ২০২০ সালের মার্চে মিজোরাম বিধানসভায় ‘মিজোরাম অ্যানিম্যাল স্লটার (সংশোধন) বিল, ২০২০’ পাস হয়, যার মাধ্যমে কুকুরকে জবাই বা ভোজ্য প্রাণীর তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিকারি দাবি করেন, তারা বরকল উপজেলা থেকে এসেছেন এবং মাংস খাওয়ার উদ্দেশ্যেই কুকুর ধরেছেন।

রাঙ্গামাটি জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের ভেটেরিনারি সার্জন ডা. দেবরাজ চাকমা বলেন, বসন্ত উৎসবকে কেন্দ্র করে মিজোরামের কিছু এলাকায় কুকুরের মাংস খাওয়ার প্রচলন রয়েছে। উৎসবকে সামনে রেখে কুকুর শিকার করা হতে পারে বলে তিনি ধারণা দেন।

রাঙ্গামাটি জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মঈনুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, প্রাণী কল্যাণ আইন ২০১৯-এর ৭ ধারা অনুযায়ী মালিকবিহীন কুকুর হত্যা বা অপসারণ দণ্ডনীয় অপরাধ। তিনি জানান, কুকুর জলাতঙ্কসহ বিভিন্ন রোগ বহন করতে পারে এবং বেওয়ারিশ কুকুরের মাংস খাওয়া জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।

তিনি আরও বলেন, কোনো এলাকায় কুকুরকে ভ্যাকসিন দেওয়া হলে সেখান থেকে কুকুর সরিয়ে নেওয়া হলে একটি শূন্যতা তৈরি হয়, ফলে টিকাবিহীন কুকুর এসে জায়গা দখল করে। এ কারণে নির্বিচারে কুকুর অপসারণ না করতে আইন করা হয়েছে। তিনি সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনের আহ্বান জানান।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ