চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গা উপজেলার ১৫ নম্বর আইলহাঁস ইউনিয়নের সোনাতনপুর গ্রামে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড) জিকে সেচ প্রকল্পের আওতাধীন একটি ব্রিজ দীর্ঘদিন ধরে ভেঙে পড়ে থাকায় চরম ঝুঁকিতে পড়েছেন এলাকাবাসী। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অবহেলায় ব্রিজটি বর্তমানে স্থানীয়দের কাছে এক ‘মরণফাঁদে’ পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, এস-১৪ জি সেচ খালের ওপর নির্মিত জনগুরুত্বপূর্ণ ব্রিজটির একটি বড় অংশ ধসে গেছে। বিকল্প কোনো সড়ক না থাকায় গ্রামবাসী ও পথচারীরা বাধ্য হয়েই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ব্রিজটি ব্যবহার করছেন। জরাজীর্ণ অবস্থার কারণে ভারি যান চলাচল তো দূরের কথা, পায়ে হেঁটেও চলাচল করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েকদিন আগে একটি যাত্রীবাহী পাখিভ্যান ব্রিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে গেলে বেশ কয়েকজন যাত্রী গুরুতর আহত হন। এলাকাবাসীর দাবি, এ ধরনের দুর্ঘটনা এখানে এখন প্রায় নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে।
সোনাতনপুর গ্রামের বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এই ব্রিজ পার হতে আমাদের প্রতিদিন আতঙ্ক নিয়ে বের হতে হয়। দুই বছর ধরে ভেঙে পড়ে থাকলেও কেউ দেখার নেই। দ্রুত নতুন ব্রিজ নির্মাণ না হলে বড় দুর্ঘটনা অনিবার্য।”
এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা পানি উন্নয়ন বোর্ড, আলমডাঙ্গার উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী নাজিম উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমি এখানে প্রায় এক বছর ধরে কর্মরত। আলমডাঙ্গার সব এলাকা আমার জানা নেই।”
অন্যদিকে, পাউবোর উপ-সহকারী প্রকৌশলী (শাখা কর্মকর্তা) বকুল আহমেদ স্বীকার করেন যে ব্রিজটি প্রায় দুই বছর আগে ভেঙে গেছে। তিনি বলেন, “আর্থিক বরাদ্দ না থাকায় এখনো ব্রিজটি নির্মাণ করা সম্ভব হয়নি। প্রায় এক বছর আগে ছবি সংগ্রহ করা হয়েছিল। মাস দুয়েক আগে মৌখিকভাবে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর-কে জানানো হয়েছে। তারা নির্মাণের আশ্বাস দিয়েছে।”
তবে সরকারি বিধি অনুযায়ী, এক দপ্তরের সম্পদ অন্য দপ্তরের মাধ্যমে সংস্কারের ক্ষেত্রে লিখিত যোগাযোগ ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ বাধ্যতামূলক হলেও এই গুরুত্বপূর্ণ ব্রিজের ক্ষেত্রে কেন শুধু মৌখিক আশ্বাসের ওপর নির্ভর করা হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন মহল।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, দুই বছর পেরিয়ে গেলেও নিজ দপ্তর বা অন্য কোনো দপ্তরে আনুষ্ঠানিকভাবে লিখিত চিঠি না পাঠানো চরম দায়িত্বজ্ঞানহীনতার পরিচয় দেয়। বড় ধরনের কোনো প্রাণহানির আগেই দ্রুত ব্রিজটি পুনর্নির্মাণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কঠোর ও কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সোনাতনপুরসহ আশপাশের হাজারো মানুষ।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গা উপজেলার ১৫ নম্বর আইলহাঁস ইউনিয়নের সোনাতনপুর গ্রামে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড) জিকে সেচ প্রকল্পের আওতাধীন একটি ব্রিজ দীর্ঘদিন ধরে ভেঙে পড়ে থাকায় চরম ঝুঁকিতে পড়েছেন এলাকাবাসী। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অবহেলায় ব্রিজটি বর্তমানে স্থানীয়দের কাছে এক ‘মরণফাঁদে’ পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, এস-১৪ জি সেচ খালের ওপর নির্মিত জনগুরুত্বপূর্ণ ব্রিজটির একটি বড় অংশ ধসে গেছে। বিকল্প কোনো সড়ক না থাকায় গ্রামবাসী ও পথচারীরা বাধ্য হয়েই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ব্রিজটি ব্যবহার করছেন। জরাজীর্ণ অবস্থার কারণে ভারি যান চলাচল তো দূরের কথা, পায়ে হেঁটেও চলাচল করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েকদিন আগে একটি যাত্রীবাহী পাখিভ্যান ব্রিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে গেলে বেশ কয়েকজন যাত্রী গুরুতর আহত হন। এলাকাবাসীর দাবি, এ ধরনের দুর্ঘটনা এখানে এখন প্রায় নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে।
সোনাতনপুর গ্রামের বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এই ব্রিজ পার হতে আমাদের প্রতিদিন আতঙ্ক নিয়ে বের হতে হয়। দুই বছর ধরে ভেঙে পড়ে থাকলেও কেউ দেখার নেই। দ্রুত নতুন ব্রিজ নির্মাণ না হলে বড় দুর্ঘটনা অনিবার্য।”
এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা পানি উন্নয়ন বোর্ড, আলমডাঙ্গার উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী নাজিম উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমি এখানে প্রায় এক বছর ধরে কর্মরত। আলমডাঙ্গার সব এলাকা আমার জানা নেই।”
অন্যদিকে, পাউবোর উপ-সহকারী প্রকৌশলী (শাখা কর্মকর্তা) বকুল আহমেদ স্বীকার করেন যে ব্রিজটি প্রায় দুই বছর আগে ভেঙে গেছে। তিনি বলেন, “আর্থিক বরাদ্দ না থাকায় এখনো ব্রিজটি নির্মাণ করা সম্ভব হয়নি। প্রায় এক বছর আগে ছবি সংগ্রহ করা হয়েছিল। মাস দুয়েক আগে মৌখিকভাবে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর-কে জানানো হয়েছে। তারা নির্মাণের আশ্বাস দিয়েছে।”
তবে সরকারি বিধি অনুযায়ী, এক দপ্তরের সম্পদ অন্য দপ্তরের মাধ্যমে সংস্কারের ক্ষেত্রে লিখিত যোগাযোগ ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ বাধ্যতামূলক হলেও এই গুরুত্বপূর্ণ ব্রিজের ক্ষেত্রে কেন শুধু মৌখিক আশ্বাসের ওপর নির্ভর করা হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন মহল।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, দুই বছর পেরিয়ে গেলেও নিজ দপ্তর বা অন্য কোনো দপ্তরে আনুষ্ঠানিকভাবে লিখিত চিঠি না পাঠানো চরম দায়িত্বজ্ঞানহীনতার পরিচয় দেয়। বড় ধরনের কোনো প্রাণহানির আগেই দ্রুত ব্রিজটি পুনর্নির্মাণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কঠোর ও কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সোনাতনপুরসহ আশপাশের হাজারো মানুষ।

আপনার মতামত লিখুন