ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

অসাংবিধানিক চক্রান্ত ব্যর্থ: রাষ্ট্রপতি অপসারণের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট


নিজস্ব প্রতিবেদন
নিজস্ব প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

অসাংবিধানিক চক্রান্ত ব্যর্থ: রাষ্ট্রপতি অপসারণের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
ছবি (সৌজন্যে- কালের কণ্ঠ) : রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সঙ্গে আলাপচারিতায় কালের কণ্ঠের নির্বাহী সম্পাদক হায়দার আলী

ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের আগে অন্তর্বর্তী সরকার প্রায় দেড় বছর দায়িত্বে থাকার সময় রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনকে অপসারণের উদ্দেশ্যে অসংখ্য চক্রান্ত ও পরিকল্পনা গৃহীত হয়েছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা অসাংবিধানিকভাবে ব্যর্থ হয়েছে বলে তিনি কালের কণ্ঠ‑কে এক দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন। সাক্ষাৎকারটি গত ২০ ফেব্রুয়ারি রাতের বঙ্গভবনেই নেওয়া হয়েছিল।

এই সময়ে দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ ছিল অস্থিতিশীল। রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনের বক্তব্য অনুযায়ী, এই সময় তাকে অপসারণ করার জন্য অসংখ্য চক্রান্ত এবং রাজনৈতিক চাপ প্রয়োগ করা হয়েছিল। অপসারণের মূল লক্ষ্য ছিল এমন একজনকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে বসানো, যিনি তখনকার রাজনৈতিক পরিস্থিতি অনুযায়ী সুবিধাজনক হতেন।

রাষ্ট্রপতির ভাষায়, ওই সময় অন্তর্বর্তী সরকারের কিছু সিদ্ধান্ত ও পদক্ষেপ সংবিধান অনুসরণ করেনি, বিশেষ করে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস তার দায়িত্ব পালনে বারবার নিয়ম লঙ্ঘন করেছেন। তিনি দাবি করেন, প্রধান উপদেষ্টা একাধিকবার বিদেশ সফর করে ফিরে এসে তাকে কোনোভাবেই অবহিত করেননি, যা সংবিধান অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ছিল।

রাষ্ট্রপতি বলেন, সরকার এক পর্যায়ে তাকে অপসারণ করার পরিকল্পনা নিয়েছিল, এমনকি সাবেক প্রধান বিচারপতিকে তার জায়গায় বসানোর প্রচেষ্টাও লক্ষ্য করা গিয়েছিল, কিন্তু তা কখনোই সফল হয়নি। এই চক্রান্ত এবং পাঁয়তারা মূলত রাজনৈতিক চাপ ও অসাংবিধানিক উপায়ে রাষ্ট্রপতি পদ থেকে সরানোর উদ্দেশ্যে ছিল।

সাক্ষাৎকারে তিনি যে রাজনৈতিক চাপ ও পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করেছেন, তা ছিল সময়কালে সংঘটিত বিভিন্ন বিক্ষোভ ও আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত। ২০২৪ সালের ২২ অক্টোবর বঙ্গভবন ঘেরাও‑সহ অন্যান্য কর্মসূচির সময় পরিস্থিতি খুবই উত্তপ্ত হয়েছিল এবং তাকে অপসারণের জন্য নানা দিক থেকে চাপ সৃষ্টি হয়েছিল।

রাষ্ট্রপতি বলেন, সে সময় যে বিভীষিকাময় পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তাতে সেনাবাহিনী সংবিধান রক্ষার উদ্দেশ্যে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছিল এবং অসাংবিধানিক পন্থায় কোনো পরিবর্তন হতে দেয়নি। তিন বাহিনীর প্রধানগণ স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে তারা কোনো অসাংবিধানিক পদক্ষেপ অনুমোদন করবে না।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, বিএনপি‑সহ কয়েকটি রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃত্বও সংবিধানের ধারাবাহিকতা রক্ষায় তার পাশে দাঁড়িয়েছে এবং তাকে অদলবদল বা অপসারণের কোন চাপ মানতে দেননি। রাষ্ট্রপতি তারেক রহমানের ব্যক্তিগতভাবে আন্তরিক সহযোগিতার কথা জানিয়েছেন।

রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক স্তরে আলোচিত আরও একটি বিষয় ছিল তার কার্যকলাপকে বোঝানো ও প্রচার করা থেকে অবহেলা ও আড়াল রাখা। কিছু সময় রাষ্ট্রপতির কার্যক্রম, বার্তা ও ছবি সরকারি প্রকাশনায় বা আন্তর্জাতিক সূচনায় অন্তর্ভুক্ত হয়নি বলে তিনি অভিযোগ করেছেন।

রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন বলেন, কঠিন পরিস্থিতিতে তার মনোবল ধরে রাখতে সাহায্য করেছে সশস্ত্র বাহিনীর সর্বোচ্চ স্তরের পূর্ণ সহযোগিতা এবং বিদেশি কূটনৈতিক মহল থেকেও যে নৈতিক সহানুভূতি তিনি অনুভব করেছিলেন তা তাকে শক্তি দিয়েছিল।

রাষ্ট্রপতি আরও জানিয়েছেন, অপসারণের চক্রান্ত চলাকালীন সময়ে সেনাবাহিনী ও প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। জনমনে কোনো ধরনের অস্থিতিশীলতার সুযোগ তৈরি হয়নি। তিনি এই অভিজ্ঞতা শোনানোর মাধ্যমে দেশের জনগণকে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য সংবিধান মেনে চলার গুরুত্ব বোঝাতে চেয়েছেন।

সংক্ষেপে, অপসারণের চেষ্টা মূলত রাজনৈতিক চাপ ও ব্যক্তিগত স্বার্থের ফলাফল হলেও সংবিধান, সেনাবাহিনী এবং প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণের কারণে তা ব্যর্থ হয়। এই ঘটনার মাধ্যমে স্পষ্ট হয় যে, বাংলাদেশের সংবিধানকে অতিক্রম করে রাষ্ট্রপতিকে অপসারণ করা সম্ভব নয় এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য সংবিধান মেনে চলা অপরিহার্য।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


অসাংবিধানিক চক্রান্ত ব্যর্থ: রাষ্ট্রপতি অপসারণের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

প্রকাশের তারিখ : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image

ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের আগে অন্তর্বর্তী সরকার প্রায় দেড় বছর দায়িত্বে থাকার সময় রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনকে অপসারণের উদ্দেশ্যে অসংখ্য চক্রান্ত ও পরিকল্পনা গৃহীত হয়েছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা অসাংবিধানিকভাবে ব্যর্থ হয়েছে বলে তিনি কালের কণ্ঠ‑কে এক দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন। সাক্ষাৎকারটি গত ২০ ফেব্রুয়ারি রাতের বঙ্গভবনেই নেওয়া হয়েছিল।

এই সময়ে দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ ছিল অস্থিতিশীল। রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনের বক্তব্য অনুযায়ী, এই সময় তাকে অপসারণ করার জন্য অসংখ্য চক্রান্ত এবং রাজনৈতিক চাপ প্রয়োগ করা হয়েছিল। অপসারণের মূল লক্ষ্য ছিল এমন একজনকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে বসানো, যিনি তখনকার রাজনৈতিক পরিস্থিতি অনুযায়ী সুবিধাজনক হতেন।

রাষ্ট্রপতির ভাষায়, ওই সময় অন্তর্বর্তী সরকারের কিছু সিদ্ধান্ত ও পদক্ষেপ সংবিধান অনুসরণ করেনি, বিশেষ করে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস তার দায়িত্ব পালনে বারবার নিয়ম লঙ্ঘন করেছেন। তিনি দাবি করেন, প্রধান উপদেষ্টা একাধিকবার বিদেশ সফর করে ফিরে এসে তাকে কোনোভাবেই অবহিত করেননি, যা সংবিধান অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ছিল।

রাষ্ট্রপতি বলেন, সরকার এক পর্যায়ে তাকে অপসারণ করার পরিকল্পনা নিয়েছিল, এমনকি সাবেক প্রধান বিচারপতিকে তার জায়গায় বসানোর প্রচেষ্টাও লক্ষ্য করা গিয়েছিল, কিন্তু তা কখনোই সফল হয়নি। এই চক্রান্ত এবং পাঁয়তারা মূলত রাজনৈতিক চাপ ও অসাংবিধানিক উপায়ে রাষ্ট্রপতি পদ থেকে সরানোর উদ্দেশ্যে ছিল।

সাক্ষাৎকারে তিনি যে রাজনৈতিক চাপ ও পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করেছেন, তা ছিল সময়কালে সংঘটিত বিভিন্ন বিক্ষোভ ও আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত। ২০২৪ সালের ২২ অক্টোবর বঙ্গভবন ঘেরাও‑সহ অন্যান্য কর্মসূচির সময় পরিস্থিতি খুবই উত্তপ্ত হয়েছিল এবং তাকে অপসারণের জন্য নানা দিক থেকে চাপ সৃষ্টি হয়েছিল।

রাষ্ট্রপতি বলেন, সে সময় যে বিভীষিকাময় পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তাতে সেনাবাহিনী সংবিধান রক্ষার উদ্দেশ্যে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছিল এবং অসাংবিধানিক পন্থায় কোনো পরিবর্তন হতে দেয়নি। তিন বাহিনীর প্রধানগণ স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে তারা কোনো অসাংবিধানিক পদক্ষেপ অনুমোদন করবে না।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, বিএনপি‑সহ কয়েকটি রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃত্বও সংবিধানের ধারাবাহিকতা রক্ষায় তার পাশে দাঁড়িয়েছে এবং তাকে অদলবদল বা অপসারণের কোন চাপ মানতে দেননি। রাষ্ট্রপতি তারেক রহমানের ব্যক্তিগতভাবে আন্তরিক সহযোগিতার কথা জানিয়েছেন।

রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক স্তরে আলোচিত আরও একটি বিষয় ছিল তার কার্যকলাপকে বোঝানো ও প্রচার করা থেকে অবহেলা ও আড়াল রাখা। কিছু সময় রাষ্ট্রপতির কার্যক্রম, বার্তা ও ছবি সরকারি প্রকাশনায় বা আন্তর্জাতিক সূচনায় অন্তর্ভুক্ত হয়নি বলে তিনি অভিযোগ করেছেন।

রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন বলেন, কঠিন পরিস্থিতিতে তার মনোবল ধরে রাখতে সাহায্য করেছে সশস্ত্র বাহিনীর সর্বোচ্চ স্তরের পূর্ণ সহযোগিতা এবং বিদেশি কূটনৈতিক মহল থেকেও যে নৈতিক সহানুভূতি তিনি অনুভব করেছিলেন তা তাকে শক্তি দিয়েছিল।

রাষ্ট্রপতি আরও জানিয়েছেন, অপসারণের চক্রান্ত চলাকালীন সময়ে সেনাবাহিনী ও প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। জনমনে কোনো ধরনের অস্থিতিশীলতার সুযোগ তৈরি হয়নি। তিনি এই অভিজ্ঞতা শোনানোর মাধ্যমে দেশের জনগণকে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য সংবিধান মেনে চলার গুরুত্ব বোঝাতে চেয়েছেন।

সংক্ষেপে, অপসারণের চেষ্টা মূলত রাজনৈতিক চাপ ও ব্যক্তিগত স্বার্থের ফলাফল হলেও সংবিধান, সেনাবাহিনী এবং প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণের কারণে তা ব্যর্থ হয়। এই ঘটনার মাধ্যমে স্পষ্ট হয় যে, বাংলাদেশের সংবিধানকে অতিক্রম করে রাষ্ট্রপতিকে অপসারণ করা সম্ভব নয় এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য সংবিধান মেনে চলা অপরিহার্য।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ