ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সাগরে অপহৃত ২০ জেলের মুক্তি মেলেনি এক সপ্তাহেও: ৭০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি


নিজস্ব প্রতিবেদন
নিজস্ব প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

সাগরে অপহৃত ২০ জেলের মুক্তি মেলেনি এক সপ্তাহেও: ৭০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি
ছবি: সংগৃহীত

বঙ্গোপসাগর থেকে বনদস্যুদের হাতে ২০ জেলে অপহৃত হওয়ার এক সপ্তাহ পার হলেও তাদের উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি; জিম্মিদের মুক্তির বিনিময়ে এখন বিপুল অঙ্কের অর্থ দাবি করছে দস্যুবাহিনী।

সুন্দরবন সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার সময় বনদস্যু জাহাঙ্গীর ও সুমন বাহিনীর হাতে অপহৃত ২০ জেলের মুক্তি মেলেনি সাত দিনেও। অপহৃত জেলেদের প্রত্যেকের বিপরীতে সাড়ে ৩ লাখ টাকা করে মোট ৭০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছে দস্যুরা। মুক্তিপণের টাকা নিয়ে বর্তমানে জেলেদের মহাজন ও দস্যু বাহিনীর মধ্যে দর কষাকষি চলছে বলে বনবিভাগ সূত্রে জানা গেছে।

বনবিভাগ জানায়, গত সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে দুবলার শুঁটকি উৎপাদন কেন্দ্রের আওতাধীন আলোরকোল ও নারকেলবাড়িয়া এলাকা থেকে ২০টি ট্রলারসহ এই জেলেদের অপহরণ করা হয়। ঘটনার পর থেকে দস্যু আতঙ্কে গত চার দিন সাগরে মাছ ধরা বন্ধ রেখেছিলেন জেলেরা। তবে শনিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে সুন্দরবনের দুবলা শুঁটকি পল্লীর কিছু কিছু ট্রলার ঝুঁকি নিয়ে পুনরায় সাগরে নামতে শুরু করেছে। বনবিভাগ জেলেদের উপকূলের কাছাকাছি থেকে মৎস্য আহরণ এবং দিনের আলো থাকতেই ফিরে আসার নির্দেশনা দিয়েছে।

সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের দুবলা শুঁটকি কেন্দ্রের বিশেষ টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিল্টন রায় জানান, গত শুক্রবার রাতে বনদস্যুদের দেওয়া মোবাইল নম্বরে মহাজনদের কথা হয়েছে। দস্যুরা ট্রলারপ্রতি সাড়ে ৩ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছে। টাকা দ্রুত পরিশোধ না করলে জিম্মি জেলেদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে সাগরে মাছ ধরতে হলে আগাম চাঁদা দেওয়ার জন্য মহাজনদের সতর্ক করেছে দস্যু বাহিনী।

দীর্ঘদিন মাছ ধরা বন্ধ থাকায় দেশের বৃহত্তম শুঁটকি উৎপাদন কেন্দ্রে চরম মাছ সংকট দেখা দিয়েছে। এতে লাখ লাখ টাকা লোকসানের মুখে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা এবং মানবেতর জীবনযাপন করছেন হাজার হাজার দরিদ্র জেলে।

এদিকে অপহৃত জেলেদের উদ্ধারে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত করতে এবং অপহৃতদের উদ্ধারে অচিরেই যৌথ অভিযান শুরু হবে। বর্তমানে সক্রিয় ৫টি বনদস্যু বাহিনীর তালিকা হালনাগাদ করা হয়েছে এবং তাদের ওপর বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে।

উল্লেখ্য, এই অভিযানের চূড়ান্ত কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণে রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) সকালে খুলনা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে বনবিভাগ, র‍্যাব, কোস্টগার্ড, পুলিশ ও নৌ-পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুতই সমন্বিত অভিযান শুরুর আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


সাগরে অপহৃত ২০ জেলের মুক্তি মেলেনি এক সপ্তাহেও: ৭০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি

প্রকাশের তারিখ : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image

বঙ্গোপসাগর থেকে বনদস্যুদের হাতে ২০ জেলে অপহৃত হওয়ার এক সপ্তাহ পার হলেও তাদের উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি; জিম্মিদের মুক্তির বিনিময়ে এখন বিপুল অঙ্কের অর্থ দাবি করছে দস্যুবাহিনী।

সুন্দরবন সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার সময় বনদস্যু জাহাঙ্গীর ও সুমন বাহিনীর হাতে অপহৃত ২০ জেলের মুক্তি মেলেনি সাত দিনেও। অপহৃত জেলেদের প্রত্যেকের বিপরীতে সাড়ে ৩ লাখ টাকা করে মোট ৭০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছে দস্যুরা। মুক্তিপণের টাকা নিয়ে বর্তমানে জেলেদের মহাজন ও দস্যু বাহিনীর মধ্যে দর কষাকষি চলছে বলে বনবিভাগ সূত্রে জানা গেছে।

বনবিভাগ জানায়, গত সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে দুবলার শুঁটকি উৎপাদন কেন্দ্রের আওতাধীন আলোরকোল ও নারকেলবাড়িয়া এলাকা থেকে ২০টি ট্রলারসহ এই জেলেদের অপহরণ করা হয়। ঘটনার পর থেকে দস্যু আতঙ্কে গত চার দিন সাগরে মাছ ধরা বন্ধ রেখেছিলেন জেলেরা। তবে শনিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে সুন্দরবনের দুবলা শুঁটকি পল্লীর কিছু কিছু ট্রলার ঝুঁকি নিয়ে পুনরায় সাগরে নামতে শুরু করেছে। বনবিভাগ জেলেদের উপকূলের কাছাকাছি থেকে মৎস্য আহরণ এবং দিনের আলো থাকতেই ফিরে আসার নির্দেশনা দিয়েছে।

সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের দুবলা শুঁটকি কেন্দ্রের বিশেষ টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিল্টন রায় জানান, গত শুক্রবার রাতে বনদস্যুদের দেওয়া মোবাইল নম্বরে মহাজনদের কথা হয়েছে। দস্যুরা ট্রলারপ্রতি সাড়ে ৩ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছে। টাকা দ্রুত পরিশোধ না করলে জিম্মি জেলেদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে সাগরে মাছ ধরতে হলে আগাম চাঁদা দেওয়ার জন্য মহাজনদের সতর্ক করেছে দস্যু বাহিনী।

দীর্ঘদিন মাছ ধরা বন্ধ থাকায় দেশের বৃহত্তম শুঁটকি উৎপাদন কেন্দ্রে চরম মাছ সংকট দেখা দিয়েছে। এতে লাখ লাখ টাকা লোকসানের মুখে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা এবং মানবেতর জীবনযাপন করছেন হাজার হাজার দরিদ্র জেলে।

এদিকে অপহৃত জেলেদের উদ্ধারে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত করতে এবং অপহৃতদের উদ্ধারে অচিরেই যৌথ অভিযান শুরু হবে। বর্তমানে সক্রিয় ৫টি বনদস্যু বাহিনীর তালিকা হালনাগাদ করা হয়েছে এবং তাদের ওপর বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে।

উল্লেখ্য, এই অভিযানের চূড়ান্ত কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণে রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) সকালে খুলনা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে বনবিভাগ, র‍্যাব, কোস্টগার্ড, পুলিশ ও নৌ-পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুতই সমন্বিত অভিযান শুরুর আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ