বিনম্র শ্রদ্ধা ও গভীর ভালোবাসায় ময়মনসিংহ জেলার ত্রিশাল-এ যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ২০২৬। দিবসটির প্রথম প্রহরেই উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে ভাষা শহিদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে শ্রদ্ধাঞ্জলি শহিদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ অনুষ্ঠিত হয় সরকারি নজরুল কলেজ প্রাঙ্গণে। একুশের প্রভাতে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক সংগঠন, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং সর্বস্তরের জনসাধারণ সারিবদ্ধভাবে শহিদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। পুরো পরিবেশ ছিল শোকাবহ, শ্রদ্ধাময় ও ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ।
দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত শ্রদ্ধাঞ্জলি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ১৫২, ময়মনসিংহ-৭ (ত্রিশাল) সংসদীয় আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য ডা. মোঃ মাহাবুবুর রহমান। তিনি পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে ভাষা আন্দোলনের বীর শহিদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান এবং কিছুক্ষণ নীরবতা পালন করেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ত্রিশাল উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) জনাব আরাফাত সিদ্দিকী।এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিগণ, বীর মুক্তিযোদ্ধাবৃন্দ, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় সাংবাদিকরা।
পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে ভাষা শহিদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত ও শহর সজ্জা মহান শহিদ দিবস উপলক্ষে উপজেলার সকল সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা যথাযথ মর্যাদায় অর্ধনমিত রাখা হয়।
শহরের প্রধান সড়কসমূহ ব্যানার, ফেস্টুন, আল্পনা ও বাংলা বর্ণমালার নান্দনিক সাজে সজ্জিত করা হয়। কালো ব্যাজ তৈরি ও বিতরণ করা হয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে। একুশের চেতনায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো ত্রিশাল।আলোচনা সভা, পুরস্কার বিতরণ, মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ ২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে আলোচনা সভা, পুরস্কার বিতরণ ও কবিতা পাঠের আসর অনুষ্ঠিত হয় রাশেদুল ইসলাম কনফারেন্স হল রুমে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য ডা. মাহবুবুর রহমান লিটন। সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরাফাত সিদ্দিকী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফিরোজ হোসেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহবুবুর রহমান, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারসহ উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাগণ।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, অমর একুশে আমাদের অহংকার। ভাষা শহিদদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা আমাদের মাতৃভাষা অর্জন করেছি। তাঁদের ত্যাগের চেতনাকে ধারণ করে দেশ ও জাতির উন্নয়নে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারা।শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে কর্মসূচি উপজেলার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিজস্ব কর্মসূচির মাধ্যমে দিবসটি পালন করা হয়। কবিতা পাঠ, রচনা প্রতিযোগিতা, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীরা ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস স্মরণ করে।
ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জনগণের অংশগ্রহণে বিশেষ অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়, যা ছিল দিবসটির অন্যতম আকর্ষণ।এছাড়াও ভাষা শহিদদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে উপজেলার সকল মসজিদ, মন্দির, গীর্জা ও অন্যান্য উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হয়।
ব্যবস্থাপনা ও বাস্তবায়ন পুরো কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়ন করে উপজেলা প্রশাসন ও পৌরসভা ত্রিশাল। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও ভবনসমূহের কর্তৃপক্ষ ও মালিকগণ সার্বিক সহযোগিতা প্রদান এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ফিল্ড সুপারভাইজার ও সংশ্লিষ্ট মসজিদের ইমামগণও নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেন।সব মিলিয়ে যথাযোগ্য মর্যাদা, শৃঙ্খলা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে ত্রিশালে মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ২০২৬ উদযাপন সম্পন্ন হয়। একুশের চেতনায় উদ্দীপ্ত হয়ে নতুন প্রজন্ম মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষা ও দেশ গড়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বিনম্র শ্রদ্ধা ও গভীর ভালোবাসায় ময়মনসিংহ জেলার ত্রিশাল-এ যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ২০২৬। দিবসটির প্রথম প্রহরেই উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে ভাষা শহিদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে শ্রদ্ধাঞ্জলি শহিদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ অনুষ্ঠিত হয় সরকারি নজরুল কলেজ প্রাঙ্গণে। একুশের প্রভাতে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক সংগঠন, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং সর্বস্তরের জনসাধারণ সারিবদ্ধভাবে শহিদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। পুরো পরিবেশ ছিল শোকাবহ, শ্রদ্ধাময় ও ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ।
দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত শ্রদ্ধাঞ্জলি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ১৫২, ময়মনসিংহ-৭ (ত্রিশাল) সংসদীয় আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য ডা. মোঃ মাহাবুবুর রহমান। তিনি পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে ভাষা আন্দোলনের বীর শহিদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান এবং কিছুক্ষণ নীরবতা পালন করেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ত্রিশাল উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) জনাব আরাফাত সিদ্দিকী।এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিগণ, বীর মুক্তিযোদ্ধাবৃন্দ, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় সাংবাদিকরা।
পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে ভাষা শহিদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত ও শহর সজ্জা মহান শহিদ দিবস উপলক্ষে উপজেলার সকল সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা যথাযথ মর্যাদায় অর্ধনমিত রাখা হয়।
শহরের প্রধান সড়কসমূহ ব্যানার, ফেস্টুন, আল্পনা ও বাংলা বর্ণমালার নান্দনিক সাজে সজ্জিত করা হয়। কালো ব্যাজ তৈরি ও বিতরণ করা হয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে। একুশের চেতনায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো ত্রিশাল।আলোচনা সভা, পুরস্কার বিতরণ, মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ ২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে আলোচনা সভা, পুরস্কার বিতরণ ও কবিতা পাঠের আসর অনুষ্ঠিত হয় রাশেদুল ইসলাম কনফারেন্স হল রুমে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য ডা. মাহবুবুর রহমান লিটন। সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরাফাত সিদ্দিকী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফিরোজ হোসেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহবুবুর রহমান, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারসহ উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাগণ।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, অমর একুশে আমাদের অহংকার। ভাষা শহিদদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা আমাদের মাতৃভাষা অর্জন করেছি। তাঁদের ত্যাগের চেতনাকে ধারণ করে দেশ ও জাতির উন্নয়নে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারা।শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে কর্মসূচি উপজেলার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিজস্ব কর্মসূচির মাধ্যমে দিবসটি পালন করা হয়। কবিতা পাঠ, রচনা প্রতিযোগিতা, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীরা ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস স্মরণ করে।
ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জনগণের অংশগ্রহণে বিশেষ অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়, যা ছিল দিবসটির অন্যতম আকর্ষণ।এছাড়াও ভাষা শহিদদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে উপজেলার সকল মসজিদ, মন্দির, গীর্জা ও অন্যান্য উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হয়।
ব্যবস্থাপনা ও বাস্তবায়ন পুরো কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়ন করে উপজেলা প্রশাসন ও পৌরসভা ত্রিশাল। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও ভবনসমূহের কর্তৃপক্ষ ও মালিকগণ সার্বিক সহযোগিতা প্রদান এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ফিল্ড সুপারভাইজার ও সংশ্লিষ্ট মসজিদের ইমামগণও নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেন।সব মিলিয়ে যথাযোগ্য মর্যাদা, শৃঙ্খলা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে ত্রিশালে মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ২০২৬ উদযাপন সম্পন্ন হয়। একুশের চেতনায় উদ্দীপ্ত হয়ে নতুন প্রজন্ম মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষা ও দেশ গড়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে।

আপনার মতামত লিখুন