ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সৌদিতে নির্যাতনের শিকার গৃহকর্মী আকলিমা দেশে ফিরতে চায়


নিজস্ব প্রতিবেদন
নিজস্ব প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

সৌদিতে নির্যাতনের শিকার গৃহকর্মী আকলিমা দেশে ফিরতে চায়

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার আকলিমা খাতুন (৩২) সৌদি আরবে গৃহকর্মী হিসেবে কর্মরত অবস্থায় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হওয়ার পর দেশে ফিরে আসার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছেন।

আকলিমা জানান, পারিবারিক আর্থিক সমস্যার কারণে তিনি ঢাকার একটি রিক্রুটিং এজেন্সি ও স্থানীয় দালালের মাধ্যমে সৌদি আরবে গৃহকর্মী হিসেবে গিয়েছিলেন। সেখানে এক মাস ধরে তাকে নিয়মিত খাবার ও চিকিৎসার সুযোগ না দিয়ে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছে। তিনি বলেন, “আমাকে যেন ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।”

তার পরিবার অভিযোগ করেছে যে, দেশে ফিরে আসার জন্য ২ লাখ টাকা দাবি করা হচ্ছে। আকলিমা বর্তমানে সৌদি সরকারের তত্ত্বাবধানে একটি সেফ হাউজে থাকলেও নির্যাতন বন্ধ হয়নি এবং পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগও সীমিত।

আকলিমার স্বামী মাসুক মিয়া বলেন, “আর্থিক সমস্যার কারণে আমরা দালালের কথায় আকলিমাকে বিদেশ পাঠিয়েছিলাম। এখন সরকার যেন দ্রুত তাকে দেশে ফিরিয়ে আনে।” অন্যদিকে, দালাল জহির মিয়া অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “যদি কিছু হয়েছে, তা এজেন্সি বা সৌদি এম্বাসির দায়িত্ব।”

প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ওয়েজ আর্নারস কল্যাণ বোর্ডের সহকারী পরিচালক জানিয়েছেন, লিখিত অভিযোগ পেলে আকলিমাকে উদ্ধার করে দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তারা ইতিমধ্যেই বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন।

মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রবাসী নারী শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যাণ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন। নিয়মিত নজরদারি এবং নিরাপদ যোগাযোগ ব্যবস্থা থাকলে এ ধরনের নির্যাতনের ঘটনা অনেকাংশে প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


সৌদিতে নির্যাতনের শিকার গৃহকর্মী আকলিমা দেশে ফিরতে চায়

প্রকাশের তারিখ : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার আকলিমা খাতুন (৩২) সৌদি আরবে গৃহকর্মী হিসেবে কর্মরত অবস্থায় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হওয়ার পর দেশে ফিরে আসার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছেন।

আকলিমা জানান, পারিবারিক আর্থিক সমস্যার কারণে তিনি ঢাকার একটি রিক্রুটিং এজেন্সি ও স্থানীয় দালালের মাধ্যমে সৌদি আরবে গৃহকর্মী হিসেবে গিয়েছিলেন। সেখানে এক মাস ধরে তাকে নিয়মিত খাবার ও চিকিৎসার সুযোগ না দিয়ে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছে। তিনি বলেন, “আমাকে যেন ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।”

তার পরিবার অভিযোগ করেছে যে, দেশে ফিরে আসার জন্য ২ লাখ টাকা দাবি করা হচ্ছে। আকলিমা বর্তমানে সৌদি সরকারের তত্ত্বাবধানে একটি সেফ হাউজে থাকলেও নির্যাতন বন্ধ হয়নি এবং পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগও সীমিত।

আকলিমার স্বামী মাসুক মিয়া বলেন, “আর্থিক সমস্যার কারণে আমরা দালালের কথায় আকলিমাকে বিদেশ পাঠিয়েছিলাম। এখন সরকার যেন দ্রুত তাকে দেশে ফিরিয়ে আনে।” অন্যদিকে, দালাল জহির মিয়া অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “যদি কিছু হয়েছে, তা এজেন্সি বা সৌদি এম্বাসির দায়িত্ব।”

প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ওয়েজ আর্নারস কল্যাণ বোর্ডের সহকারী পরিচালক জানিয়েছেন, লিখিত অভিযোগ পেলে আকলিমাকে উদ্ধার করে দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তারা ইতিমধ্যেই বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন।

মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রবাসী নারী শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যাণ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন। নিয়মিত নজরদারি এবং নিরাপদ যোগাযোগ ব্যবস্থা থাকলে এ ধরনের নির্যাতনের ঘটনা অনেকাংশে প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ