ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

মদিনায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা


নিজস্ব প্রতিবেদন
নিজস্ব প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

মদিনায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা

মদিনা তখন অরক্ষিত। উসামার নেতৃত্বে মুসলিম সেনাবাহিনী শাম-ফিলিস্তিনে চলে গেছে। এদিকে মুসলিম ভূখণ্ডে ছড়িয়ে পড়া ধর্মদ্রোহ ক্রমেই রাষ্ট্রদ্রোহে রূপ নিচ্ছে।

মদিনার আশপাশের গোত্র ও কবিলাগুলো মদিনা আক্রমণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। খিলাফত রাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য এদের নিয়ন্ত্রণে রাখা অপরিহার্য হয়ে পড়ে। একে একে সব গোত্রের বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে হবে। নিয়মতান্ত্রিক সেনাবাহিনী অনুপস্থিতির কারণে খলিফা নিজের হাতে তুলে নিলেন যুদ্ধ পরিচালনার দায়িত্ব।

তারপর নিরাপত্তা ঝুঁকিতে থাকা মদিনায় উপস্থিত নারী-পুরুষের উদ্দেশে তিনি ভাষণ দিলেন।

"তোমাদের চারপাশের আরব গোত্রগুলো এখন জাকাত দিতে অস্বীকার করছে। অথচ তারা যখন দ্বীনের পথে পথচলা শুরু করেছিল, তখন আজকের তুলনায় তারা কখনোই বেশি ধার্মিক ছিল না। আর তোমরাও তোমাদের দ্বীনের ব্যাপারে আজকের মতো এত দৃঢ় কখনো ছিলে না—সবই তোমাদের নবীর বরকতে সম্ভব হয়েছে। তিনি তোমাদের দায়িত্ব সেই মহান রবের হাতে সঁপে দিয়ে গেছেন, যিনি সবকিছুর জন্য যথেষ্ট।"

খলিফা বলেন, "আল্লাহর কসম, আল্লাহর বিধান প্রতিষ্ঠার জন্য আমি যুদ্ধ বন্ধ করব না, যতক্ষণ না আল্লাহ তাঁর প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করেন এবং আমাদের সঙ্গে করা অঙ্গীকার বাস্তবায়িত করেন। আমাদের মধ্য থেকে যারা শহীদ হবে, তারা জান্নাতের মর্যাদা লাভ করবে। আর যারা জীবিত থাকবে, তারা পৃথিবীতে আল্লাহর প্রতিনিধি ও উত্তরাধিকারী হিসেবে টিকে থাকবে।"

তিনি আরও বলেন, "তোমাদের চারপাশের অঞ্চল এখন বিদ্রোহে ফেটে পড়েছে। তাদের প্রতিনিধিদল নিজের চোখে তোমাদের স্বল্প সংখ্যা দেখে গেছে। তোমরা জানো না, কখন তোমাদের ওপর অতর্কিত আক্রমণ আসবে—রাতে না দিনে। তাদের নিকটতম দলটি তোমাদের থেকে মাত্র ২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে।"

খলিফা জানান, বিদ্রোহীরা ভেবেছিল মুসলিমরা তাদের শর্ত মেনে নেবে, তাদের জাকাত না দেওয়ার দাবি স্বীকার করবে এবং তাদের সঙ্গে সন্ধি করবে। কিন্তু তাদের সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে এবং তাদের সঙ্গে করা আগের চুক্তিও বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।

"কাজেই, তোমরা প্রস্তুত হও। যুদ্ধের জন্য প্রয়োজনীয় সব সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখো," বলে শেষ করেন খলিফা।

(সূত্র: আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া, খণ্ড: ৯, পৃষ্ঠা: ৪৩৭)

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


মদিনায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা

প্রকাশের তারিখ : ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image

মদিনা তখন অরক্ষিত। উসামার নেতৃত্বে মুসলিম সেনাবাহিনী শাম-ফিলিস্তিনে চলে গেছে। এদিকে মুসলিম ভূখণ্ডে ছড়িয়ে পড়া ধর্মদ্রোহ ক্রমেই রাষ্ট্রদ্রোহে রূপ নিচ্ছে।

মদিনার আশপাশের গোত্র ও কবিলাগুলো মদিনা আক্রমণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। খিলাফত রাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য এদের নিয়ন্ত্রণে রাখা অপরিহার্য হয়ে পড়ে। একে একে সব গোত্রের বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে হবে। নিয়মতান্ত্রিক সেনাবাহিনী অনুপস্থিতির কারণে খলিফা নিজের হাতে তুলে নিলেন যুদ্ধ পরিচালনার দায়িত্ব।

তারপর নিরাপত্তা ঝুঁকিতে থাকা মদিনায় উপস্থিত নারী-পুরুষের উদ্দেশে তিনি ভাষণ দিলেন।

"তোমাদের চারপাশের আরব গোত্রগুলো এখন জাকাত দিতে অস্বীকার করছে। অথচ তারা যখন দ্বীনের পথে পথচলা শুরু করেছিল, তখন আজকের তুলনায় তারা কখনোই বেশি ধার্মিক ছিল না। আর তোমরাও তোমাদের দ্বীনের ব্যাপারে আজকের মতো এত দৃঢ় কখনো ছিলে না—সবই তোমাদের নবীর বরকতে সম্ভব হয়েছে। তিনি তোমাদের দায়িত্ব সেই মহান রবের হাতে সঁপে দিয়ে গেছেন, যিনি সবকিছুর জন্য যথেষ্ট।"

খলিফা বলেন, "আল্লাহর কসম, আল্লাহর বিধান প্রতিষ্ঠার জন্য আমি যুদ্ধ বন্ধ করব না, যতক্ষণ না আল্লাহ তাঁর প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করেন এবং আমাদের সঙ্গে করা অঙ্গীকার বাস্তবায়িত করেন। আমাদের মধ্য থেকে যারা শহীদ হবে, তারা জান্নাতের মর্যাদা লাভ করবে। আর যারা জীবিত থাকবে, তারা পৃথিবীতে আল্লাহর প্রতিনিধি ও উত্তরাধিকারী হিসেবে টিকে থাকবে।"

তিনি আরও বলেন, "তোমাদের চারপাশের অঞ্চল এখন বিদ্রোহে ফেটে পড়েছে। তাদের প্রতিনিধিদল নিজের চোখে তোমাদের স্বল্প সংখ্যা দেখে গেছে। তোমরা জানো না, কখন তোমাদের ওপর অতর্কিত আক্রমণ আসবে—রাতে না দিনে। তাদের নিকটতম দলটি তোমাদের থেকে মাত্র ২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে।"

খলিফা জানান, বিদ্রোহীরা ভেবেছিল মুসলিমরা তাদের শর্ত মেনে নেবে, তাদের জাকাত না দেওয়ার দাবি স্বীকার করবে এবং তাদের সঙ্গে সন্ধি করবে। কিন্তু তাদের সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে এবং তাদের সঙ্গে করা আগের চুক্তিও বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।

"কাজেই, তোমরা প্রস্তুত হও। যুদ্ধের জন্য প্রয়োজনীয় সব সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখো," বলে শেষ করেন খলিফা।

(সূত্র: আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া, খণ্ড: ৯, পৃষ্ঠা: ৪৩৭)


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ