ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই খুলনা মহানগর ও জেলা আওয়ামী লীগের দীর্ঘদিন নিষিদ্ধ ও পরিত্যক্ত দলীয় কার্যালয়ে এক অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটে। রোববার বিকেলে একটি দলের নেতাকর্মী দল কার্যালয়ের তালা ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনার প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন এবং জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। পরে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেয়ার ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার পায় এবং তা স্থানীয় রাজনৈতিক পরিবেশে উত্তেজনা তৈরি করে।
এই কার্যালয় দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে বন্ধ ও নিষিদ্ধ ছিল, ২০২৪ সালের অগ্নিসংযোগের পর থেকে কার্যক্রম স্থগিত ছিল। শুক্রবার বিকেল ৪টার দিকে নেতা‑কর্মীরা শঙ্খ মার্কেট এলাকায় অবস্থিত কার্যালয়ের তালা ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করেন, জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন এবং বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার ছবিতে মাল্যদান করেন। উপস্থিতরা দাবি করেন এটি একটি তৃণমূল উদ্যোগ ছিল, কেন্দ্রীয় কোন নির্দেশনা ছিল না।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঐ সময় দেড় হাজারে কম লোক মিছিলসহ সেখানে উপস্থিত ছিলেন এবং অনুষ্ঠান শেষে তারা দ্রুত নেমে যান। ভিডিও ফুটেজ দ্রুত সামাজিক মাধ্যম ও বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
তবে বিকেলের শান্তিপূর্ণ এই অনুষ্ঠান দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। সন্ধ্যায় ভিন্ন একটি স্বতন্ত্র গোষ্ঠী এসে কার্যালয়ের ভিতরের কাঠের দরজা ও কিছু কাগজপত্রে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং ভাঙচুর করে বলে পুলিশ জানায়। ফায়ার সার্ভিস দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আগুন লাগানোর ঘটনাটির সঙ্গে যারা যুক্ত ছিল তাদের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং তা থেকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে।
ওসি মোঃ কবির হোসেন বলেন, বিকেলে যারা কার্যালয় খুলেছিলেন তাদেরও শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে এবং রাতে যারা ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে তাদেরও শনাক্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি উল্লেখ করেন, ভিডিও ফুটেজ ও আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরা বিশ্লেষণ করে তদন্ত করা হচ্ছে।
ঘটনায় খুলনা মহানগর বিএনপি নেতৃবৃন্দ তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা জানিয়েছে। তাদের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই ধরনের রাজনৈতিক উত্তেজনামূলক কার্যক্রম স্থানীয় শান্তি ও স্থিতিশীলতায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে এবং সাধারণ মানুষ এতে উদ্বিগ্ন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, দীর্ঘদিন নিষিদ্ধ অবস্থায় থাকা দলীয় কার্যালয়ে এইভাবে পুনরায় পতাকা উত্তোলন ও মাল্যদান করার ঘটনা স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। যদিও অনেকেই এটি তৃণমূল কর্মীদের একটি উদ্যোগ হিসাবে দেখছেন, রাতের অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর পরিস্থিতি আরও টানাপোড়েন তৈরি করেছে।
পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয় ও দায়ীদের শনাক্তের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। নিরাপত্তা বাহিনী পরিস্থিতি মনিটর করছে এবং স্থানীয় প্রশাসনের তৎপরতায় পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। তবে রাজনৈতিক পর্যালোচনায় বলা হচ্ছে, এই ঘটনার পরও খুলনা অঞ্চলে রাজনৈতিক উত্তেজনা কিছুটা দৃঢ় অবস্থায় রয়ে গেছে।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই খুলনা মহানগর ও জেলা আওয়ামী লীগের দীর্ঘদিন নিষিদ্ধ ও পরিত্যক্ত দলীয় কার্যালয়ে এক অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটে। রোববার বিকেলে একটি দলের নেতাকর্মী দল কার্যালয়ের তালা ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনার প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন এবং জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। পরে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেয়ার ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার পায় এবং তা স্থানীয় রাজনৈতিক পরিবেশে উত্তেজনা তৈরি করে।
এই কার্যালয় দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে বন্ধ ও নিষিদ্ধ ছিল, ২০২৪ সালের অগ্নিসংযোগের পর থেকে কার্যক্রম স্থগিত ছিল। শুক্রবার বিকেল ৪টার দিকে নেতা‑কর্মীরা শঙ্খ মার্কেট এলাকায় অবস্থিত কার্যালয়ের তালা ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করেন, জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন এবং বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার ছবিতে মাল্যদান করেন। উপস্থিতরা দাবি করেন এটি একটি তৃণমূল উদ্যোগ ছিল, কেন্দ্রীয় কোন নির্দেশনা ছিল না।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঐ সময় দেড় হাজারে কম লোক মিছিলসহ সেখানে উপস্থিত ছিলেন এবং অনুষ্ঠান শেষে তারা দ্রুত নেমে যান। ভিডিও ফুটেজ দ্রুত সামাজিক মাধ্যম ও বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
তবে বিকেলের শান্তিপূর্ণ এই অনুষ্ঠান দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। সন্ধ্যায় ভিন্ন একটি স্বতন্ত্র গোষ্ঠী এসে কার্যালয়ের ভিতরের কাঠের দরজা ও কিছু কাগজপত্রে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং ভাঙচুর করে বলে পুলিশ জানায়। ফায়ার সার্ভিস দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আগুন লাগানোর ঘটনাটির সঙ্গে যারা যুক্ত ছিল তাদের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং তা থেকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে।
ওসি মোঃ কবির হোসেন বলেন, বিকেলে যারা কার্যালয় খুলেছিলেন তাদেরও শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে এবং রাতে যারা ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে তাদেরও শনাক্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি উল্লেখ করেন, ভিডিও ফুটেজ ও আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরা বিশ্লেষণ করে তদন্ত করা হচ্ছে।
ঘটনায় খুলনা মহানগর বিএনপি নেতৃবৃন্দ তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা জানিয়েছে। তাদের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই ধরনের রাজনৈতিক উত্তেজনামূলক কার্যক্রম স্থানীয় শান্তি ও স্থিতিশীলতায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে এবং সাধারণ মানুষ এতে উদ্বিগ্ন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, দীর্ঘদিন নিষিদ্ধ অবস্থায় থাকা দলীয় কার্যালয়ে এইভাবে পুনরায় পতাকা উত্তোলন ও মাল্যদান করার ঘটনা স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। যদিও অনেকেই এটি তৃণমূল কর্মীদের একটি উদ্যোগ হিসাবে দেখছেন, রাতের অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর পরিস্থিতি আরও টানাপোড়েন তৈরি করেছে।
পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয় ও দায়ীদের শনাক্তের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। নিরাপত্তা বাহিনী পরিস্থিতি মনিটর করছে এবং স্থানীয় প্রশাসনের তৎপরতায় পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। তবে রাজনৈতিক পর্যালোচনায় বলা হচ্ছে, এই ঘটনার পরও খুলনা অঞ্চলে রাজনৈতিক উত্তেজনা কিছুটা দৃঢ় অবস্থায় রয়ে গেছে।

আপনার মতামত লিখুন