ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

যান্ত্রিকতার মাঝেও গরুর হালে চাষ, ঐতিহ্য ধরে রেখেছেন কৃষক সাহাদুল ইসলাম



যান্ত্রিকতার মাঝেও গরুর হালে চাষ, ঐতিহ্য ধরে রেখেছেন কৃষক সাহাদুল ইসলাম
ছবি: গরুর হাল দিয়ে জমি চাষে ব্যস্ত কৃষক সাহাদুল ইসলাম

আধুনিক কৃষিযন্ত্রের ব্যাপক ব্যবহারের এ সময়ে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী গরুর হাল দিয়ে জমি চাষের দৃশ্য এখন খুব একটা চোখে পড়ে না। ট্রাক্টর ও পাওয়ার টিলারের দখলে চলে যাওয়া মাঠে প্রাচীন সেই পদ্ধতি অনেকটাই হারিয়ে যেতে বসেছে।

তবে দিনাজপুরের এক গ্রামে এখনো টিকে আছে সেই চিরচেনা দৃশ্য। দিনাজপুর জেলার ঘোড়াঘাট উপজেলার বুলাকীপুর ইউনিয়নের বরাতীপুর গ্রামে সরেজমিনে দেখা গেছে, কৃষক সাহাদুল ইসলাম দুইটি গরু জুড়ে মনোযোগ দিয়ে জমি চাষ করছেন।

সম্প্রতি গ্রামের একটি কৃষিজমিতে তার এমন চাষাবাদের দৃশ্য স্থানীয়দের নজর কাড়ে। আধুনিক যন্ত্রের সহজলভ্যতার মাঝেও প্রথাগত এই পদ্ধতি অব্যাহত রাখায় এলাকাবাসীর মধ্যে কৌতূহল তৈরি হয়েছে।

কৃষক সাহাদুল ইসলাম জানান, বর্তমানে যন্ত্রচালিত কৃষিকাজ দ্রুত ও সময় সাশ্রয়ী হলেও সব জমিতে তা সমানভাবে উপযোগী নয়। তার মতে, গরুর হাল দিয়ে চাষ করলে জমির মাটির স্বাভাবিক গঠন অক্ষুণ্ন থাকে এবং মাটির উর্বরতা বজায় রাখতে সহায়ক ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি জ্বালানি খরচ না থাকায় অনেক ক্ষেত্রে ব্যয় তুলনামূলক কম পড়ে। এছাড়া গবাদিপশু পালনেও উৎসাহ তৈরি হয়, যা গ্রামীণ অর্থনীতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

স্থানীয় একাধিক কৃষকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এলাকায় ট্রাক্টর ও পাওয়ার টিলারের ব্যবহার বেড়েছে ঠিকই, তবে কিছু কৃষক এখনো প্রথাগত পদ্ধতিতে চাষাবাদ করে আসছেন। তাদের মতে, এতে একদিকে গ্রামীণ ঐতিহ্য সংরক্ষিত হচ্ছে, অন্যদিকে পরিবেশবান্ধব কৃষি চর্চাও বজায় থাকছে। বিশেষ করে ছোট ও মাঝারি আকারের জমিতে গরুর হাল এখনো কার্যকর বলে তারা মনে করেন।

এ বিষয়ে ঘোড়াঘাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রফিকুজ্জামান বলেন, গরুর হাল দিয়ে জমি চাষ গ্রামবাংলার একটি প্রাচীন ও পরিবেশবান্ধব পদ্ধতি। এতে মাটির উপরের স্তর ধীরে ও স্বাভাবিকভাবে উল্টে যায়, ফলে মাটির জীববৈচিত্র‍্য ও গঠন তুলনামূলকভাবে অক্ষুণ্ন থাকে। তিনি আরও বলেন, আধুনিক কৃষিযন্ত্র ব্যবহারের পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতির চর্চা অব্যাহত থাকলে কৃষি আরও টেকসই হবে এবং কিছু ক্ষেত্রে উৎপাদন ব্যয়ও নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

বরাতীপুর গ্রামের মাঠে গরুর হাল দিয়ে জমি চাষের এই দৃশ্য যেন প্রযুক্তিনির্ভর সময়েও গ্রামবাংলার শেকড়কে স্মরণ করিয়ে দেয়। স্থানীয়দের ভাষ্য, পরিবর্তনের এই যুগেও এমন চর্চা প্রমাণ করে—ঐতিহ্য পুরোপুরি হারিয়ে যায়নি, বরং সচেতন কৃষকের হাত ধরে এখনো বেঁচে আছে।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


যান্ত্রিকতার মাঝেও গরুর হালে চাষ, ঐতিহ্য ধরে রেখেছেন কৃষক সাহাদুল ইসলাম

প্রকাশের তারিখ : ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image

আধুনিক কৃষিযন্ত্রের ব্যাপক ব্যবহারের এ সময়ে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী গরুর হাল দিয়ে জমি চাষের দৃশ্য এখন খুব একটা চোখে পড়ে না। ট্রাক্টর ও পাওয়ার টিলারের দখলে চলে যাওয়া মাঠে প্রাচীন সেই পদ্ধতি অনেকটাই হারিয়ে যেতে বসেছে।

তবে দিনাজপুরের এক গ্রামে এখনো টিকে আছে সেই চিরচেনা দৃশ্য। দিনাজপুর জেলার ঘোড়াঘাট উপজেলার বুলাকীপুর ইউনিয়নের বরাতীপুর গ্রামে সরেজমিনে দেখা গেছে, কৃষক সাহাদুল ইসলাম দুইটি গরু জুড়ে মনোযোগ দিয়ে জমি চাষ করছেন।

সম্প্রতি গ্রামের একটি কৃষিজমিতে তার এমন চাষাবাদের দৃশ্য স্থানীয়দের নজর কাড়ে। আধুনিক যন্ত্রের সহজলভ্যতার মাঝেও প্রথাগত এই পদ্ধতি অব্যাহত রাখায় এলাকাবাসীর মধ্যে কৌতূহল তৈরি হয়েছে।

কৃষক সাহাদুল ইসলাম জানান, বর্তমানে যন্ত্রচালিত কৃষিকাজ দ্রুত ও সময় সাশ্রয়ী হলেও সব জমিতে তা সমানভাবে উপযোগী নয়। তার মতে, গরুর হাল দিয়ে চাষ করলে জমির মাটির স্বাভাবিক গঠন অক্ষুণ্ন থাকে এবং মাটির উর্বরতা বজায় রাখতে সহায়ক ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি জ্বালানি খরচ না থাকায় অনেক ক্ষেত্রে ব্যয় তুলনামূলক কম পড়ে। এছাড়া গবাদিপশু পালনেও উৎসাহ তৈরি হয়, যা গ্রামীণ অর্থনীতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

স্থানীয় একাধিক কৃষকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এলাকায় ট্রাক্টর ও পাওয়ার টিলারের ব্যবহার বেড়েছে ঠিকই, তবে কিছু কৃষক এখনো প্রথাগত পদ্ধতিতে চাষাবাদ করে আসছেন। তাদের মতে, এতে একদিকে গ্রামীণ ঐতিহ্য সংরক্ষিত হচ্ছে, অন্যদিকে পরিবেশবান্ধব কৃষি চর্চাও বজায় থাকছে। বিশেষ করে ছোট ও মাঝারি আকারের জমিতে গরুর হাল এখনো কার্যকর বলে তারা মনে করেন।

এ বিষয়ে ঘোড়াঘাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রফিকুজ্জামান বলেন, গরুর হাল দিয়ে জমি চাষ গ্রামবাংলার একটি প্রাচীন ও পরিবেশবান্ধব পদ্ধতি। এতে মাটির উপরের স্তর ধীরে ও স্বাভাবিকভাবে উল্টে যায়, ফলে মাটির জীববৈচিত্র‍্য ও গঠন তুলনামূলকভাবে অক্ষুণ্ন থাকে। তিনি আরও বলেন, আধুনিক কৃষিযন্ত্র ব্যবহারের পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতির চর্চা অব্যাহত থাকলে কৃষি আরও টেকসই হবে এবং কিছু ক্ষেত্রে উৎপাদন ব্যয়ও নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

বরাতীপুর গ্রামের মাঠে গরুর হাল দিয়ে জমি চাষের এই দৃশ্য যেন প্রযুক্তিনির্ভর সময়েও গ্রামবাংলার শেকড়কে স্মরণ করিয়ে দেয়। স্থানীয়দের ভাষ্য, পরিবর্তনের এই যুগেও এমন চর্চা প্রমাণ করে—ঐতিহ্য পুরোপুরি হারিয়ে যায়নি, বরং সচেতন কৃষকের হাত ধরে এখনো বেঁচে আছে।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ