ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

ফরিদপুরে দফায় দফায় সংঘর্ষে বাড়িঘরে হামলা-আগুন: আহত ৩০


নিজস্ব প্রতিবেদন
নিজস্ব প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

ফরিদপুরে দফায় দফায় সংঘর্ষে বাড়িঘরে হামলা-আগুন: আহত ৩০

ফরিদপুর জেলার সলথা ও বোয়ালমারী উপজেলার সীমান্তবর্তী ময়েনদিয়া বাজারকে কেন্দ্র করে আজ সকাল থেকে দফায় দফায় সাংগঠনিক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। নির্বাচন‑পরবর্তী এলাকার আধিপত্য, বাজার নিয়ন্ত্রণ ও রাজনৈতিক বিরোধকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষগুলোর মধ্যে উভয়পক্ষের সমর্থকরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে এবং পরিস্থিতি দ্রুত উত্তেজিত হয়, যার ফলে ব্যাপক ভাঙচুর, হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।

সংঘর্ষের সূত্রপাত আজ সকাল প্রায় ১০টার দিকে হয়, যখন স্থানীয় বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দারা ময়েনদিয়া বাজারের নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য বিস্তারের দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে মুখোমুখি দাঁড়ায়। দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই বিরোধ চলে আসছিল; সালথা উপজেলার খারদিয়া গ্রামের তুলি মিয়া ও জিহাদ মিয়া এবং বোয়ালমারীর পরমেশ্বর্দী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও স্থানীয় নেতা আব্দুল মান্নানের সমর্থকদের মধ্যে এই বিরোধ বহু বছর ধরে উত্তেজনার সৃষ্টি করছে।

ঘটনার শুরুতেই উভয়পক্ষ দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে একে অপরের ওপর হামলা চালায়। সংঘর্ষে বেশ কয়েকটি বসতঘরে ভাঙচুর চালানো হয় এবং অন্তত দুটি বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই হামলাগুলোর ফলে প্রায় ১৫টি বাড়ির ভাঙচুর ও দুইটি বাড়িতে আগুন দেওয়া হয়েছে।

সাংঘাতিক উত্তেজনার এই সময় স্থানীয় জনতা ও সমর্থকদের হাজারো লোক উপস্থিত ছিল, ফলে ঘটনার পরিধি দ্রুত বাড়ে। সংঘর্ষ বেশ কয়েক ঘন্টা চলে এবং এতে উভয়পক্ষ মিলিয়ে আহত হয়েছেন প্রায় ৩০ জন; এর মধ্যে অনেককেই ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ নিকটস্থ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের সঠিক পরিচয় ও অবস্থা এখনও অফিসিয়ালভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

পুলিশ ও সেনাবাহিনী দুরত্বে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সালথা আর্মি ক্যাম্পের কমান্ডার ও থানা পুলিশ জানিয়েছে যে, সংঘর্ষ থেকে উদ্ধারকৃত বেশ কিছু দেশীয় অস্ত্রোপকরণ ও লাঠিসোঁটা জব্দ করা হয়েছে এবং ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। স্থানীয় নেতৃত্ব ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠক করে পরিস্থিতি শান্ত রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আহতদের দ্রুত চিকিৎসা এবং আহতদের পরিবারের জন্য সহায়তা প্রদানের পাশাপাশি প্রশাসন আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়েছে। যদিও সেনাবাহিনী ও পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলেও এলাকায় থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে এবং ফের সংঘর্ষ না হওয়া পর্যন্ত নিরাপত্তা জোরদারি রাখা হচ্ছে।

এই ঘটনায়, নির্বাচনের পরবর্তী সময়ের স্থানীয় আধিপত্য ও রাজনৈতিক বিরোধ আবারও তীব্র আকার নিয়ে সামনে এসেছে, যা গ্রামীণ বাজার নিয়ন্ত্রণ ও সম্ভাব্য ব্যবসায়িক সুবিধা নিয়ে সংঘর্ষের সূচনা করেছে। প্রশাসন ও স্থানীয় নেতারা জনসাধারণকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন এবং পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। 

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


ফরিদপুরে দফায় দফায় সংঘর্ষে বাড়িঘরে হামলা-আগুন: আহত ৩০

প্রকাশের তারিখ : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image

ফরিদপুর জেলার সলথা ও বোয়ালমারী উপজেলার সীমান্তবর্তী ময়েনদিয়া বাজারকে কেন্দ্র করে আজ সকাল থেকে দফায় দফায় সাংগঠনিক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। নির্বাচন‑পরবর্তী এলাকার আধিপত্য, বাজার নিয়ন্ত্রণ ও রাজনৈতিক বিরোধকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষগুলোর মধ্যে উভয়পক্ষের সমর্থকরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে এবং পরিস্থিতি দ্রুত উত্তেজিত হয়, যার ফলে ব্যাপক ভাঙচুর, হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।

সংঘর্ষের সূত্রপাত আজ সকাল প্রায় ১০টার দিকে হয়, যখন স্থানীয় বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দারা ময়েনদিয়া বাজারের নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য বিস্তারের দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে মুখোমুখি দাঁড়ায়। দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই বিরোধ চলে আসছিল; সালথা উপজেলার খারদিয়া গ্রামের তুলি মিয়া ও জিহাদ মিয়া এবং বোয়ালমারীর পরমেশ্বর্দী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও স্থানীয় নেতা আব্দুল মান্নানের সমর্থকদের মধ্যে এই বিরোধ বহু বছর ধরে উত্তেজনার সৃষ্টি করছে।

ঘটনার শুরুতেই উভয়পক্ষ দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে একে অপরের ওপর হামলা চালায়। সংঘর্ষে বেশ কয়েকটি বসতঘরে ভাঙচুর চালানো হয় এবং অন্তত দুটি বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই হামলাগুলোর ফলে প্রায় ১৫টি বাড়ির ভাঙচুর ও দুইটি বাড়িতে আগুন দেওয়া হয়েছে।

সাংঘাতিক উত্তেজনার এই সময় স্থানীয় জনতা ও সমর্থকদের হাজারো লোক উপস্থিত ছিল, ফলে ঘটনার পরিধি দ্রুত বাড়ে। সংঘর্ষ বেশ কয়েক ঘন্টা চলে এবং এতে উভয়পক্ষ মিলিয়ে আহত হয়েছেন প্রায় ৩০ জন; এর মধ্যে অনেককেই ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ নিকটস্থ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের সঠিক পরিচয় ও অবস্থা এখনও অফিসিয়ালভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

পুলিশ ও সেনাবাহিনী দুরত্বে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সালথা আর্মি ক্যাম্পের কমান্ডার ও থানা পুলিশ জানিয়েছে যে, সংঘর্ষ থেকে উদ্ধারকৃত বেশ কিছু দেশীয় অস্ত্রোপকরণ ও লাঠিসোঁটা জব্দ করা হয়েছে এবং ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। স্থানীয় নেতৃত্ব ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠক করে পরিস্থিতি শান্ত রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আহতদের দ্রুত চিকিৎসা এবং আহতদের পরিবারের জন্য সহায়তা প্রদানের পাশাপাশি প্রশাসন আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়েছে। যদিও সেনাবাহিনী ও পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলেও এলাকায় থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে এবং ফের সংঘর্ষ না হওয়া পর্যন্ত নিরাপত্তা জোরদারি রাখা হচ্ছে।

এই ঘটনায়, নির্বাচনের পরবর্তী সময়ের স্থানীয় আধিপত্য ও রাজনৈতিক বিরোধ আবারও তীব্র আকার নিয়ে সামনে এসেছে, যা গ্রামীণ বাজার নিয়ন্ত্রণ ও সম্ভাব্য ব্যবসায়িক সুবিধা নিয়ে সংঘর্ষের সূচনা করেছে। প্রশাসন ও স্থানীয় নেতারা জনসাধারণকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন এবং পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। 


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ