ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

৯৩ শতাংশ বন্দির ভোট বর্জন: কারাবন্দিদের ঐতিহাসিক ভোটে অনীহা


 নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

৯৩ শতাংশ বন্দির ভোট বর্জন: কারাবন্দিদের ঐতিহাসিক ভোটে অনীহা


ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কারাবন্দিদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ দেওয়া হলেও তাতে আশানুরূপ সাড়া মেলেনি। সারা দেশে প্রায় ৮৫ হাজার বন্দির মধ্যে মাত্র ৪ হাজার ৫৩৮ জন অর্থাৎ ৭ শতাংশ বন্দি ভোট দিয়েছেন। ফলে কারাগারে ভোটের সুযোগ থাকলেও ৯৩ শতাংশ বন্দিই এই প্রক্রিয়ায় অংশ নেননি।

কারা অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গত ৩ ফেব্রুয়ারি থেকে পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে কারাগারে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। শনিবার ৫ হাজার ৯৪০ জন নিবন্ধিত বন্দির মধ্যে ভোট দেওয়ার শেষ দিন থাকলেও বাকিদের সুযোগ দিতে সময় আরও এক দিন বাড়িয়ে আজ রবিবার পর্যন্ত করা হয়েছে। অধিদপ্তরের তথ্যমতে, মোট ৮৫ হাজার বন্দির মধ্যে নিবন্ধনের আবেদন করেছিলেন ৬ হাজার ৩১৩ জন, যার মধ্যে ত্রুটিমুক্ত ৫ হাজার ৯৪০ জনের আবেদন বৈধ বলে গণ্য করা হয়।

সবচেয়ে বেশি কৌতূহল ছিল কারাবন্দি ভিআইপি আসামিদের নিয়ে। ৩৯ জন ভিআইপি বন্দি নিবন্ধিত থাকলেও তাদের মধ্যে রাশেদ খান মেনন ও হাসানুল হক ইনুসহ ২২ জন রাজনৈতিক নেতা এবং ১১ জন সাবেক সচিব রয়েছেন। তবে ব্যাপকভাবে আলোচিত সালমান এফ রহমান, আনিসুল হক এবং জুনাইদ আহমেদ পলক ভোট দেওয়ার জন্য কোনো নিবন্ধনই করেননি বলে কারা কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে।

বন্দিদের ভোটে কম অংশগ্রহণের পেছনে মূলত দুটি কারণকে দায়ী করছে কারা কর্তৃপক্ষ। প্রথমত, অনেকের কাছে জাতীয় পরিচয়পত্র বা এনআইডি কার্ড না থাকায় তারা নিবন্ধন করতে পারেননি। দ্বিতীয়ত, অনেক বন্দি ভেবেছিলেন নির্বাচনের আগে তারা জামিন পেয়ে যাবেন। কারাগারে ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত হলে বাইরে ভোট দেওয়ার সুযোগ থাকবে না—এমন আশঙ্কা থেকেই অনেকে অনাগ্রহ দেখিয়েছেন।

এছাড়া রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও আইনজীবীদের মতে, কারাগারে থাকা বন্দিদের একটি বড় অংশই ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী। যেহেতু এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশগ্রহণ করছে না, তাই তাদের অনুসারী বন্দিরা ভোটদান থেকে বিরত থেকেছেন। আজ রোববার বিশেষ এই ভোটগ্রহণের সময়সীমা শেষ হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


৯৩ শতাংশ বন্দির ভোট বর্জন: কারাবন্দিদের ঐতিহাসিক ভোটে অনীহা

প্রকাশের তারিখ : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image


ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কারাবন্দিদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ দেওয়া হলেও তাতে আশানুরূপ সাড়া মেলেনি। সারা দেশে প্রায় ৮৫ হাজার বন্দির মধ্যে মাত্র ৪ হাজার ৫৩৮ জন অর্থাৎ ৭ শতাংশ বন্দি ভোট দিয়েছেন। ফলে কারাগারে ভোটের সুযোগ থাকলেও ৯৩ শতাংশ বন্দিই এই প্রক্রিয়ায় অংশ নেননি।

কারা অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গত ৩ ফেব্রুয়ারি থেকে পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে কারাগারে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। শনিবার ৫ হাজার ৯৪০ জন নিবন্ধিত বন্দির মধ্যে ভোট দেওয়ার শেষ দিন থাকলেও বাকিদের সুযোগ দিতে সময় আরও এক দিন বাড়িয়ে আজ রবিবার পর্যন্ত করা হয়েছে। অধিদপ্তরের তথ্যমতে, মোট ৮৫ হাজার বন্দির মধ্যে নিবন্ধনের আবেদন করেছিলেন ৬ হাজার ৩১৩ জন, যার মধ্যে ত্রুটিমুক্ত ৫ হাজার ৯৪০ জনের আবেদন বৈধ বলে গণ্য করা হয়।

সবচেয়ে বেশি কৌতূহল ছিল কারাবন্দি ভিআইপি আসামিদের নিয়ে। ৩৯ জন ভিআইপি বন্দি নিবন্ধিত থাকলেও তাদের মধ্যে রাশেদ খান মেনন ও হাসানুল হক ইনুসহ ২২ জন রাজনৈতিক নেতা এবং ১১ জন সাবেক সচিব রয়েছেন। তবে ব্যাপকভাবে আলোচিত সালমান এফ রহমান, আনিসুল হক এবং জুনাইদ আহমেদ পলক ভোট দেওয়ার জন্য কোনো নিবন্ধনই করেননি বলে কারা কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে।

বন্দিদের ভোটে কম অংশগ্রহণের পেছনে মূলত দুটি কারণকে দায়ী করছে কারা কর্তৃপক্ষ। প্রথমত, অনেকের কাছে জাতীয় পরিচয়পত্র বা এনআইডি কার্ড না থাকায় তারা নিবন্ধন করতে পারেননি। দ্বিতীয়ত, অনেক বন্দি ভেবেছিলেন নির্বাচনের আগে তারা জামিন পেয়ে যাবেন। কারাগারে ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত হলে বাইরে ভোট দেওয়ার সুযোগ থাকবে না—এমন আশঙ্কা থেকেই অনেকে অনাগ্রহ দেখিয়েছেন।

এছাড়া রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও আইনজীবীদের মতে, কারাগারে থাকা বন্দিদের একটি বড় অংশই ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী। যেহেতু এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশগ্রহণ করছে না, তাই তাদের অনুসারী বন্দিরা ভোটদান থেকে বিরত থেকেছেন। আজ রোববার বিশেষ এই ভোটগ্রহণের সময়সীমা শেষ হচ্ছে।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ