রাজধানীতে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের পদযাত্রা কেন্দ্র করে পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ায় অন্তত ১৪ জন আহত হয়েছেন।
দ্রুততম সময়ের মধ্যে নবম জাতীয় পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ ও তা বাস্তবায়নের দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের বিক্ষোভ মিছিলকে কেন্দ্র করে আজ শুক্রবার রাজধানীর মিন্টো রোড ও প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন ‘যমুনা’ সংলগ্ন এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। বেলা সাড়ে ১১টার পর থেকে শুরু হওয়া এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে পুলিশ টিয়ার শেল, সাউন্ড গ্রেনেড ও জলকামান ব্যবহার করে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধির সঙ্গে সংগতি রেখে নতুন বেতন কাঠামোর দাবিতে এদিন সকালে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সরকারি দপ্তরের কর্মচারীরা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সমবেত হন। সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ শেষে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে তারা প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবন অভিমুখে রওনা হন। বেলা ১১টার দিকে মিছিলটি হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছালে পুলিশ কাঁটাতারের ব্যারিকেড দিয়ে তাদের পথরোধ করে।
আন্দোলনকারীরা ব্যারিকেড ভেঙে সামনে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে ব্যাপক ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। একপর্যায়ে দুপুর ১২টার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে যমুনা ভবনের সামনে অবস্থান নেওয়া বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে। পুলিশের কঠোর অবস্থানের মুখে হুড়োহুড়ি ও সংঘর্ষে অন্তত ১৪ জন কর্মচারী আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে তাৎক্ষণিকভাবে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়েছে।
সহিংসতার খবর পেয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন। এসময় পুলিশের পক্ষ থেকে মাইকিং করে এলাকা ত্যাগের অনুরোধ জানানো হলেও আন্দোলনকারীরা তাদের দাবিতে অনড় থেকে দীর্ঘক্ষণ স্লোগান দিতে থাকেন। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ওই এলাকায় বিপুল সংখ্যক দাঙ্গা পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়।
আন্দোলনরত কর্মচারীদের দাবি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির এই সময়ে বর্তমান বেতন কাঠামো দিয়ে জীবনধারণ অসম্ভব হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে নবম পে-স্কেল ঘোষণার দাবি জানিয়ে আসলেও সরকারের পক্ষ থেকে কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ না নেওয়ায় তারা রাজপথে নামতে বাধ্য হয়েছেন। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তারা।
এই সংঘর্ষের প্রভাবে যমুনা ভবন ও মিন্টো রোডসহ আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে যান চলাচল দীর্ঘক্ষণ বন্ধ থাকে, যার ফলে জুমার নামাজের সময় সাধারণ যাত্রীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। বিকেলের দিকে পরিস্থিতি কিছুটা শিথিল হলে যান চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করে। তবে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা রোধে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
রাজধানীতে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের পদযাত্রা কেন্দ্র করে পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ায় অন্তত ১৪ জন আহত হয়েছেন।
দ্রুততম সময়ের মধ্যে নবম জাতীয় পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ ও তা বাস্তবায়নের দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের বিক্ষোভ মিছিলকে কেন্দ্র করে আজ শুক্রবার রাজধানীর মিন্টো রোড ও প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন ‘যমুনা’ সংলগ্ন এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। বেলা সাড়ে ১১টার পর থেকে শুরু হওয়া এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে পুলিশ টিয়ার শেল, সাউন্ড গ্রেনেড ও জলকামান ব্যবহার করে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধির সঙ্গে সংগতি রেখে নতুন বেতন কাঠামোর দাবিতে এদিন সকালে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সরকারি দপ্তরের কর্মচারীরা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সমবেত হন। সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ শেষে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে তারা প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবন অভিমুখে রওনা হন। বেলা ১১টার দিকে মিছিলটি হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছালে পুলিশ কাঁটাতারের ব্যারিকেড দিয়ে তাদের পথরোধ করে।
আন্দোলনকারীরা ব্যারিকেড ভেঙে সামনে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে ব্যাপক ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। একপর্যায়ে দুপুর ১২টার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে যমুনা ভবনের সামনে অবস্থান নেওয়া বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে। পুলিশের কঠোর অবস্থানের মুখে হুড়োহুড়ি ও সংঘর্ষে অন্তত ১৪ জন কর্মচারী আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে তাৎক্ষণিকভাবে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়েছে।
সহিংসতার খবর পেয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন। এসময় পুলিশের পক্ষ থেকে মাইকিং করে এলাকা ত্যাগের অনুরোধ জানানো হলেও আন্দোলনকারীরা তাদের দাবিতে অনড় থেকে দীর্ঘক্ষণ স্লোগান দিতে থাকেন। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ওই এলাকায় বিপুল সংখ্যক দাঙ্গা পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়।
আন্দোলনরত কর্মচারীদের দাবি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির এই সময়ে বর্তমান বেতন কাঠামো দিয়ে জীবনধারণ অসম্ভব হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে নবম পে-স্কেল ঘোষণার দাবি জানিয়ে আসলেও সরকারের পক্ষ থেকে কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ না নেওয়ায় তারা রাজপথে নামতে বাধ্য হয়েছেন। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তারা।
এই সংঘর্ষের প্রভাবে যমুনা ভবন ও মিন্টো রোডসহ আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে যান চলাচল দীর্ঘক্ষণ বন্ধ থাকে, যার ফলে জুমার নামাজের সময় সাধারণ যাত্রীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। বিকেলের দিকে পরিস্থিতি কিছুটা শিথিল হলে যান চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করে। তবে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা রোধে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন