ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে আশাবাদী পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক থমকে আছে, নতুন সরকার মসৃণ করবে


নিজস্ব প্রতিবেদক :
নিজস্ব প্রতিবেদক :
প্রকাশ : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক থমকে আছে, নতুন সরকার মসৃণ করবে
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার সম্পর্ক বর্তমানে এক ধরনের টানাপোড়েন বা ‘থমকে থাকা’ অবস্থায় রয়েছে বলে অকপটে স্বীকার করেছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। তার মতে, নানা বাস্তবতায় অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে দুই দেশের সম্পর্ক প্রত্যাশিত মাত্রায় মসৃণ ছিল না। তবে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন, এই সরকারের উত্তরসূরি হিসেবে যে নতুন সরকার দায়িত্ব নেবে, তারা এই অচলাবস্থা কাটিয়ে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আবারও গতিশীল করতে পারবে।

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা। তিনি বলেন, ভারতের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক গড়ার বিষয়ে সরকারের অবস্থানে কোনো দ্বন্দ্ব নেই। পারস্পরিক বোঝাপড়া ও দায়দায়িত্বের জায়গা থেকে বাংলাদেশ সব সময়ই ভারতের সঙ্গে কার্যকর ও সহযোগিতামূলক সম্পর্ক চেয়েছে। তার ভাষায়, সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি ও নীতিগত অবস্থান স্পষ্ট ছিল এবং সেটি কখনো বদলায়নি।

সম্পর্ক প্রত্যাশিত পর্যায়ে না পৌঁছানোর বিষয়টি স্বীকার করে মো. তৌহিদ হোসেন বলেন, অনেক ক্ষেত্রে এই সম্পর্ক কার্যত থমকে আছে। তবে তিনি এটিকে বড় কোনো সংকট হিসেবে দেখতে নারাজ। তার মতে, এটি কোনো ভয়াবহ পরিস্থিতি নয়, বরং অগ্রগতির গতি কমে যাওয়ার একটি অবস্থা।

এই পরিস্থিতির জন্য কাউকে এককভাবে দায়ী করতে চান না পররাষ্ট্র উপদেষ্টা। তিনি বলেন, ভারত তাদের নিজস্ব স্বার্থের জায়গা থেকে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যেমনটি বাংলাদেশও নিজের স্বার্থ রক্ষার চেষ্টা করেছে। কিন্তু দুই পক্ষের স্বার্থের ধারণা অনেক ক্ষেত্রে মেলেনি, ফলে বিভিন্ন ইস্যুতে এগোনো সম্ভব হয়নি। এই স্বার্থগত পার্থক্যই সম্পর্কের গতি শ্লথ হওয়ার অন্যতম কারণ বলে তিনি মনে করেন।

পরবর্তী সরকারের সময়ে সম্পর্কের উন্নতির বিষয়ে আশাবাদ প্রকাশ করে মো. তৌহিদ হোসেন বলেন, তার উত্তরাধিকারী ও নতুন সরকার দায়িত্ব নিলে অমীমাংসিত বিষয়গুলো নিয়ে আবারও এগোনোর সুযোগ তৈরি হবে। ইস্যু সব দেশেই থাকে এবং স্বার্থের সংঘাতও স্বাভাবিক, তবে সেসবের মধ্যেও একটি মসৃণ সম্পর্ক বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি স্বীকার করেন, বর্তমান সরকারের সময়ে সম্পর্ক খুব একটা স্মুথ ছিল না এবং একাধিক পিছুটান এই বাস্তবতাকে আরও স্পষ্ট করেছে।

ভারতে অবস্থানরত ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কেন্দ্র করে সম্পর্ক কতটা স্বাভাবিক হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, নৈরাশ্যবাদী হওয়ার সুযোগ নেই। বরং আশাবাদী দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই সমস্যার সমাধানের পথ খুঁজতে হবে। তার মতে, এই জটিলতা নিরসনের জন্য কোনো না কোনো সমাধান অবশ্যই বের হবে।

শেখ হাসিনাকে ফেরত দেওয়ার বিষয়ে ভারতের মনোভাব সম্পর্কে জানতে চাইলে মো. তৌহিদ হোসেন বলেন, মনোভাব একটি বিমূর্ত বিষয় এবং তা নিয়ে আলোচনা করা সমীচীন নয়। তিনি জানান, বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে ফেরত চেয়েছে, কিন্তু এখনো ভারতের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। এর বাইরে অনুমানভিত্তিক আলোচনা করা ঠিক হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক থমকে আছে, নতুন সরকার মসৃণ করবে

প্রকাশের তারিখ : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার সম্পর্ক বর্তমানে এক ধরনের টানাপোড়েন বা ‘থমকে থাকা’ অবস্থায় রয়েছে বলে অকপটে স্বীকার করেছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। তার মতে, নানা বাস্তবতায় অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে দুই দেশের সম্পর্ক প্রত্যাশিত মাত্রায় মসৃণ ছিল না। তবে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন, এই সরকারের উত্তরসূরি হিসেবে যে নতুন সরকার দায়িত্ব নেবে, তারা এই অচলাবস্থা কাটিয়ে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আবারও গতিশীল করতে পারবে।


বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা। তিনি বলেন, ভারতের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক গড়ার বিষয়ে সরকারের অবস্থানে কোনো দ্বন্দ্ব নেই। পারস্পরিক বোঝাপড়া ও দায়দায়িত্বের জায়গা থেকে বাংলাদেশ সব সময়ই ভারতের সঙ্গে কার্যকর ও সহযোগিতামূলক সম্পর্ক চেয়েছে। তার ভাষায়, সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি ও নীতিগত অবস্থান স্পষ্ট ছিল এবং সেটি কখনো বদলায়নি।


সম্পর্ক প্রত্যাশিত পর্যায়ে না পৌঁছানোর বিষয়টি স্বীকার করে মো. তৌহিদ হোসেন বলেন, অনেক ক্ষেত্রে এই সম্পর্ক কার্যত থমকে আছে। তবে তিনি এটিকে বড় কোনো সংকট হিসেবে দেখতে নারাজ। তার মতে, এটি কোনো ভয়াবহ পরিস্থিতি নয়, বরং অগ্রগতির গতি কমে যাওয়ার একটি অবস্থা।


এই পরিস্থিতির জন্য কাউকে এককভাবে দায়ী করতে চান না পররাষ্ট্র উপদেষ্টা। তিনি বলেন, ভারত তাদের নিজস্ব স্বার্থের জায়গা থেকে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যেমনটি বাংলাদেশও নিজের স্বার্থ রক্ষার চেষ্টা করেছে। কিন্তু দুই পক্ষের স্বার্থের ধারণা অনেক ক্ষেত্রে মেলেনি, ফলে বিভিন্ন ইস্যুতে এগোনো সম্ভব হয়নি। এই স্বার্থগত পার্থক্যই সম্পর্কের গতি শ্লথ হওয়ার অন্যতম কারণ বলে তিনি মনে করেন।


পরবর্তী সরকারের সময়ে সম্পর্কের উন্নতির বিষয়ে আশাবাদ প্রকাশ করে মো. তৌহিদ হোসেন বলেন, তার উত্তরাধিকারী ও নতুন সরকার দায়িত্ব নিলে অমীমাংসিত বিষয়গুলো নিয়ে আবারও এগোনোর সুযোগ তৈরি হবে। ইস্যু সব দেশেই থাকে এবং স্বার্থের সংঘাতও স্বাভাবিক, তবে সেসবের মধ্যেও একটি মসৃণ সম্পর্ক বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি স্বীকার করেন, বর্তমান সরকারের সময়ে সম্পর্ক খুব একটা স্মুথ ছিল না এবং একাধিক পিছুটান এই বাস্তবতাকে আরও স্পষ্ট করেছে।


ভারতে অবস্থানরত ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কেন্দ্র করে সম্পর্ক কতটা স্বাভাবিক হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, নৈরাশ্যবাদী হওয়ার সুযোগ নেই। বরং আশাবাদী দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই সমস্যার সমাধানের পথ খুঁজতে হবে। তার মতে, এই জটিলতা নিরসনের জন্য কোনো না কোনো সমাধান অবশ্যই বের হবে।


শেখ হাসিনাকে ফেরত দেওয়ার বিষয়ে ভারতের মনোভাব সম্পর্কে জানতে চাইলে মো. তৌহিদ হোসেন বলেন, মনোভাব একটি বিমূর্ত বিষয় এবং তা নিয়ে আলোচনা করা সমীচীন নয়। তিনি জানান, বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে ফেরত চেয়েছে, কিন্তু এখনো ভারতের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। এর বাইরে অনুমানভিত্তিক আলোচনা করা ঠিক হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ