ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

নীতিসংলাপে প্রেস সচিবের অভিযোগ

ভারতীয় গণমাধ্যম ও আওয়ামী লীগ প্রতিনিয়ত অপতথ্য ছড়াচ্ছে: প্রেস সচিব


নিজস্ব প্রতিবেদক :
নিজস্ব প্রতিবেদক :
প্রকাশ : ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

ভারতীয় গণমাধ্যম ও আওয়ামী লীগ প্রতিনিয়ত অপতথ্য ছড়াচ্ছে: প্রেস সচিব
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

ভারতীয় কিছু গণমাধ্যম এবং আওয়ামী লীগ পরিকল্পিতভাবে বাংলাদেশকে নিয়ে অপতথ্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তিনি বলেছেন, এ ধরনের মিসইনফরমেশন ও ডিজইনফরমেশন গণতন্ত্র ও সুশাসনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (ডিআইইউ) কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে ‘পলিসি কনক্লেভ অন মিসইনফরমেশন: চ্যালেঞ্জেস টু গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেমোক্রেসি’ শীর্ষক এক নীতিসংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি সাংবাদিক সমিতি (ডিআইইউসাস) এর আয়োজন করে, এতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করে।

প্রেস সচিব বলেন, ভারতের অনেক সংবাদমাধ্যম দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ নিয়ে সঠিক তথ্য প্রকাশ করছে না। এমনকি আনন্দবাজার পত্রিকার মতো সর্বাধিক পঠিত বাংলা পত্রিকাও মিথ্যা তথ্য দিয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। শফিকুল আলম বলেন, গত ১৮ মাসে ভারতীয় মিডিয়া বাংলাদেশ নিয়ে ভয়াবহ মাত্রায় মিসইনফরমেশন ছড়িয়েছে।

তিনি আরও বলেন, গত ৫৪ বছরে বাংলাদেশের কোনো সরকার এ ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়নি। প্রতিদিন পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। এটি তারা নিজেরাই করছে, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো শক্তি কলকাঠি নাড়ছে—সেই প্রশ্নও থেকে যাচ্ছে।

শফিকুল আলম বলেন, সরকার একটি মসৃণ ক্ষমতার রূপান্তর ও একটি ভালো নির্বাচন চায়। কিন্তু বাইরে এমন একটি চিত্র তুলে ধরা হচ্ছে যে, গণতন্ত্র এলেও বাংলাদেশে সংখ্যালঘুরা নিরাপদ নয় এবং বড় রাজনৈতিক দলগুলোর রাজনৈতিক অধিকার সংকুচিত করা হচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, ভারতীয় মিডিয়া ও আওয়ামী লীগ নিয়মিতভাবে এসব অপপ্রচার চালাচ্ছে, যা সরকার ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে হুমকির মুখে ফেলছে।

নীতিসংলাপে বক্তব্য দেন দৈনিক প্রতিদিনের বাংলাদেশ-এর সম্পাদক ও বিএনপি চেয়ারপারসনের সাবেক প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান। তিনি বলেন, তথ্য সংবাদের কাঁচামাল হলেও সব তথ্যই সংবাদ নয়। ইচ্ছাকৃতভাবে তথ্য বিকৃত করার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

মারুফ কামাল খান বলেন, দীর্ঘদিন গণমাধ্যম গণমানুষের কথা না বলে নির্দিষ্ট একটি পক্ষকে প্রমোট করেছে এবং অন্য পক্ষকে নিশ্চিহ্ন করার চেষ্টা করেছে, যা অপতথ্যেরই একটি অংশ। ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার অবসানের পরও গণমাধ্যম সেই চিন্তা-চেতনা থেকে পুরোপুরি বের হতে পারেনি বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ডিআইইউ উপাচার্য অধ্যাপক ড. জাহিদুল ইসলাম বলেন, এআই যুগে বিভ্রান্তি আরও বেড়েছে এবং রাষ্ট্রও এখনো সেই বিভ্রান্তি কাটিয়ে উঠতে পারেনি। তিনি বলেন, আগের সরকারের সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এক ধরনের মানসিক ট্রমার মধ্যে ছিল, যার ফলে প্রয়োজনীয় আলোচনা ও মত প্রকাশ বাধাগ্রস্ত হয়েছে।

সংলাপে আরও বক্তব্য দেন ডিআইইউ মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান ড. শেখ মোহাম্মদ শফিউল ইসলাম, ছাত্রকল্যাণ উপদেষ্টা অধ্যাপক শাহ আলম চৌধুরী, ইউএনবি সম্পাদক মাহফুজুর রহমান, ডিআইইউসাসের প্রধান উপদেষ্টা রাজিউর রহমান, সাবেক সভাপতি মুছা মল্লিক ও বর্তমান সভাপতি কালাম মুহাম্মদ। এতে পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেন।

অনুষ্ঠান শেষে ২০২৫ সালের সেরা চারজন প্রতিবেদকের হাতে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ‘এম আই পাটোয়ারী বেস্ট রিপোর্টিং অ্যাওয়ার্ড’ তুলে দেওয়া হয়।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


ভারতীয় গণমাধ্যম ও আওয়ামী লীগ প্রতিনিয়ত অপতথ্য ছড়াচ্ছে: প্রেস সচিব

প্রকাশের তারিখ : ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image

ভারতীয় কিছু গণমাধ্যম এবং আওয়ামী লীগ পরিকল্পিতভাবে বাংলাদেশকে নিয়ে অপতথ্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তিনি বলেছেন, এ ধরনের মিসইনফরমেশন ও ডিজইনফরমেশন গণতন্ত্র ও সুশাসনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।


সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (ডিআইইউ) কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে ‘পলিসি কনক্লেভ অন মিসইনফরমেশন: চ্যালেঞ্জেস টু গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেমোক্রেসি’ শীর্ষক এক নীতিসংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি সাংবাদিক সমিতি (ডিআইইউসাস) এর আয়োজন করে, এতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করে।


প্রেস সচিব বলেন, ভারতের অনেক সংবাদমাধ্যম দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ নিয়ে সঠিক তথ্য প্রকাশ করছে না। এমনকি আনন্দবাজার পত্রিকার মতো সর্বাধিক পঠিত বাংলা পত্রিকাও মিথ্যা তথ্য দিয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। শফিকুল আলম বলেন, গত ১৮ মাসে ভারতীয় মিডিয়া বাংলাদেশ নিয়ে ভয়াবহ মাত্রায় মিসইনফরমেশন ছড়িয়েছে।


তিনি আরও বলেন, গত ৫৪ বছরে বাংলাদেশের কোনো সরকার এ ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়নি। প্রতিদিন পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। এটি তারা নিজেরাই করছে, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো শক্তি কলকাঠি নাড়ছে—সেই প্রশ্নও থেকে যাচ্ছে।


শফিকুল আলম বলেন, সরকার একটি মসৃণ ক্ষমতার রূপান্তর ও একটি ভালো নির্বাচন চায়। কিন্তু বাইরে এমন একটি চিত্র তুলে ধরা হচ্ছে যে, গণতন্ত্র এলেও বাংলাদেশে সংখ্যালঘুরা নিরাপদ নয় এবং বড় রাজনৈতিক দলগুলোর রাজনৈতিক অধিকার সংকুচিত করা হচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, ভারতীয় মিডিয়া ও আওয়ামী লীগ নিয়মিতভাবে এসব অপপ্রচার চালাচ্ছে, যা সরকার ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে হুমকির মুখে ফেলছে।


নীতিসংলাপে বক্তব্য দেন দৈনিক প্রতিদিনের বাংলাদেশ-এর সম্পাদক ও বিএনপি চেয়ারপারসনের সাবেক প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান। তিনি বলেন, তথ্য সংবাদের কাঁচামাল হলেও সব তথ্যই সংবাদ নয়। ইচ্ছাকৃতভাবে তথ্য বিকৃত করার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।


মারুফ কামাল খান বলেন, দীর্ঘদিন গণমাধ্যম গণমানুষের কথা না বলে নির্দিষ্ট একটি পক্ষকে প্রমোট করেছে এবং অন্য পক্ষকে নিশ্চিহ্ন করার চেষ্টা করেছে, যা অপতথ্যেরই একটি অংশ। ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার অবসানের পরও গণমাধ্যম সেই চিন্তা-চেতনা থেকে পুরোপুরি বের হতে পারেনি বলে মন্তব্য করেন তিনি।


ডিআইইউ উপাচার্য অধ্যাপক ড. জাহিদুল ইসলাম বলেন, এআই যুগে বিভ্রান্তি আরও বেড়েছে এবং রাষ্ট্রও এখনো সেই বিভ্রান্তি কাটিয়ে উঠতে পারেনি। তিনি বলেন, আগের সরকারের সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এক ধরনের মানসিক ট্রমার মধ্যে ছিল, যার ফলে প্রয়োজনীয় আলোচনা ও মত প্রকাশ বাধাগ্রস্ত হয়েছে।


সংলাপে আরও বক্তব্য দেন ডিআইইউ মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান ড. শেখ মোহাম্মদ শফিউল ইসলাম, ছাত্রকল্যাণ উপদেষ্টা অধ্যাপক শাহ আলম চৌধুরী, ইউএনবি সম্পাদক মাহফুজুর রহমান, ডিআইইউসাসের প্রধান উপদেষ্টা রাজিউর রহমান, সাবেক সভাপতি মুছা মল্লিক ও বর্তমান সভাপতি কালাম মুহাম্মদ। এতে পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেন।


অনুষ্ঠান শেষে ২০২৫ সালের সেরা চারজন প্রতিবেদকের হাতে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ‘এম আই পাটোয়ারী বেস্ট রিপোর্টিং অ্যাওয়ার্ড’ তুলে দেওয়া হয়।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ