নওগাঁয় নবম পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশসহ ৭ দফা দাবি বাস্তবায়নের দাবিতে জেলার সকল সরকারি দফতরের কর্মচারীরা অবস্থান কর্মসূচি, বিক্ষোভ মিছিল, কলম বিরতি ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন। “আমাদের দাবি আমাদের অধিকার, নতুন পে-স্কেল চাই এবার”, “দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, পে-স্কেল এখন জরুরি নীতি”—এমন নানা স্লোগানে সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে নওগাঁ জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণ মুখরিত হয়ে ওঠে।
কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে রোববার থেকে শুরু হওয়া এই আন্দোলনের দ্বিতীয় দিনে সকাল ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত জেলার সকল সরকারি দফতরে কলম বিরতি পালন করেন কর্মচারীরা। এদিন সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে কার্যালয় প্রাঙ্গণের বিভিন্ন স্থান প্রদক্ষিণ করে প্রধান সড়কে এসে ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধনে অংশ নেন তারা। এসময় জেলা প্রশাসনের রাজস্ব শাখার নাজির কাম-ক্যাশিয়ার নাহিদ আল-সালাম, সার্টিফিকেট সহকারী মিজানুর রহমান, ঋষিকেশ চন্দ্র মণ্ডল, মামুন আক্তার, নওশাদ হোসেন, রাকিবুল ইসলাম, ওমর সাগর, মোহাইমিনুল ইসলাম মিঠু ও আব্দুল্লাহ আল এরশাদসহ অন্যান্যরা বক্তব্য রাখেন।
বক্তারা বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতির কারণে বর্তমান ভাতা দিয়ে সরকারি কর্মচারীদের পরিবার পরিচালনা করা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। সরকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার দাবি মেনে নিলেও দীর্ঘদিন ধরে সরকারি কর্মচারীদের ন্যায্য পে-স্কেল বাস্তবায়নে টালবাহানা করছে। তারা বলেন, দেশের সকল সরকারি কর্মচারীরা এবার নবম পে-স্কেল বাস্তবায়ন করেই ঘরে ফিরবেন, অন্যথায় আরও কঠোর কর্মসূচির মাধ্যমে আন্দোলন জোরদার করা হবে।
জেলা প্রশাসনের রাজস্ব শাখার নাজির কাম-ক্যাশিয়ার নাহিদ আল-সালাম বলেন, জেলা প্রশাসকের কার্যালয় নাগরিকদের ভূমি সংক্রান্ত সেবা, খাস জমি বন্দোবস্ত, ভূমি উন্নয়ন কর নির্ধারণ ও আদায়, ভূমি অধিগ্রহণ, লাইসেন্স ও সনদপত্র প্রদান, রাজস্ব ও বিচারিক কার্যক্রম, মোবাইল কোর্ট পরিচালনা, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ত্রাণ বিতরণ, নির্বাচন ও জনশুমারি আয়োজন, পাবলিক পরীক্ষা পরিচালনা, নাগরিক অভিযোগ গ্রহণ এবং জেলা ই-সেবা কেন্দ্রের মাধ্যমে অনলাইন সেবাসহ বহুমুখী গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে থাকে। এত গুরুত্বপূর্ণ কাজ সম্পাদনের পরও যদি সরকারি কর্মচারীরা ন্যায্য পে-স্কেল থেকে বঞ্চিত হন, তবে তা অত্যন্ত দুঃখজনক। তাই তারা নবম পে-স্কেল নিয়েই পরিবারের কাছে ফিরবেন বলে জানান।
এই আন্দোলনের ফলে জেলার বিভিন্ন সরকারি দফতরে সেবা কার্যক্রম বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ সেবা প্রত্যাশীরা। রাণীনগর উপজেলা থেকে আসা মো. সাইফুল ইসলাম জানান, খাস জমির বন্দোবস্তের শেষ তারিখ হওয়ায় তিনি রাজস্ব শাখায় আসেন, কিন্তু এসে দেখেন সকল কর্মচারী আন্দোলনে ব্যস্ত থাকায় কোনো কাজই হচ্ছে না। কতক্ষণ অপেক্ষা করতে হবে তা তিনি জানেন না। একইভাবে সাপাহার উপজেলা থেকে আসা রহিদুল সরকার জানান, তার একটি দেওয়ানি মামলার আপিল শুনানি থাকায় প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুতের জন্য অফিসে এসেছিলেন, কিন্তু কোনো কর্মচারী না থাকায় তিনি চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। আজ শুনানি না হলে তাকে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে হবে বলেও জানান তিনি।
নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের এই আন্দোলনে একদিকে যেমন প্রশাসনিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের ভোগান্তিও চরম আকার ধারণ করেছে। এখন দেখার বিষয়, সরকারি কর্মচারীদের দাবি দ্রুত মেনে নিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী ধরনের সিদ্ধান্ত নেয়।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
নওগাঁয় নবম পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশসহ ৭ দফা দাবি বাস্তবায়নের দাবিতে জেলার সকল সরকারি দফতরের কর্মচারীরা অবস্থান কর্মসূচি, বিক্ষোভ মিছিল, কলম বিরতি ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন। “আমাদের দাবি আমাদের অধিকার, নতুন পে-স্কেল চাই এবার”, “দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, পে-স্কেল এখন জরুরি নীতি”—এমন নানা স্লোগানে সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে নওগাঁ জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণ মুখরিত হয়ে ওঠে।
কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে রোববার থেকে শুরু হওয়া এই আন্দোলনের দ্বিতীয় দিনে সকাল ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত জেলার সকল সরকারি দফতরে কলম বিরতি পালন করেন কর্মচারীরা। এদিন সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে কার্যালয় প্রাঙ্গণের বিভিন্ন স্থান প্রদক্ষিণ করে প্রধান সড়কে এসে ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধনে অংশ নেন তারা। এসময় জেলা প্রশাসনের রাজস্ব শাখার নাজির কাম-ক্যাশিয়ার নাহিদ আল-সালাম, সার্টিফিকেট সহকারী মিজানুর রহমান, ঋষিকেশ চন্দ্র মণ্ডল, মামুন আক্তার, নওশাদ হোসেন, রাকিবুল ইসলাম, ওমর সাগর, মোহাইমিনুল ইসলাম মিঠু ও আব্দুল্লাহ আল এরশাদসহ অন্যান্যরা বক্তব্য রাখেন।
বক্তারা বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতির কারণে বর্তমান ভাতা দিয়ে সরকারি কর্মচারীদের পরিবার পরিচালনা করা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। সরকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার দাবি মেনে নিলেও দীর্ঘদিন ধরে সরকারি কর্মচারীদের ন্যায্য পে-স্কেল বাস্তবায়নে টালবাহানা করছে। তারা বলেন, দেশের সকল সরকারি কর্মচারীরা এবার নবম পে-স্কেল বাস্তবায়ন করেই ঘরে ফিরবেন, অন্যথায় আরও কঠোর কর্মসূচির মাধ্যমে আন্দোলন জোরদার করা হবে।
জেলা প্রশাসনের রাজস্ব শাখার নাজির কাম-ক্যাশিয়ার নাহিদ আল-সালাম বলেন, জেলা প্রশাসকের কার্যালয় নাগরিকদের ভূমি সংক্রান্ত সেবা, খাস জমি বন্দোবস্ত, ভূমি উন্নয়ন কর নির্ধারণ ও আদায়, ভূমি অধিগ্রহণ, লাইসেন্স ও সনদপত্র প্রদান, রাজস্ব ও বিচারিক কার্যক্রম, মোবাইল কোর্ট পরিচালনা, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ত্রাণ বিতরণ, নির্বাচন ও জনশুমারি আয়োজন, পাবলিক পরীক্ষা পরিচালনা, নাগরিক অভিযোগ গ্রহণ এবং জেলা ই-সেবা কেন্দ্রের মাধ্যমে অনলাইন সেবাসহ বহুমুখী গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে থাকে। এত গুরুত্বপূর্ণ কাজ সম্পাদনের পরও যদি সরকারি কর্মচারীরা ন্যায্য পে-স্কেল থেকে বঞ্চিত হন, তবে তা অত্যন্ত দুঃখজনক। তাই তারা নবম পে-স্কেল নিয়েই পরিবারের কাছে ফিরবেন বলে জানান।
এই আন্দোলনের ফলে জেলার বিভিন্ন সরকারি দফতরে সেবা কার্যক্রম বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ সেবা প্রত্যাশীরা। রাণীনগর উপজেলা থেকে আসা মো. সাইফুল ইসলাম জানান, খাস জমির বন্দোবস্তের শেষ তারিখ হওয়ায় তিনি রাজস্ব শাখায় আসেন, কিন্তু এসে দেখেন সকল কর্মচারী আন্দোলনে ব্যস্ত থাকায় কোনো কাজই হচ্ছে না। কতক্ষণ অপেক্ষা করতে হবে তা তিনি জানেন না। একইভাবে সাপাহার উপজেলা থেকে আসা রহিদুল সরকার জানান, তার একটি দেওয়ানি মামলার আপিল শুনানি থাকায় প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুতের জন্য অফিসে এসেছিলেন, কিন্তু কোনো কর্মচারী না থাকায় তিনি চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। আজ শুনানি না হলে তাকে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে হবে বলেও জানান তিনি।
নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের এই আন্দোলনে একদিকে যেমন প্রশাসনিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের ভোগান্তিও চরম আকার ধারণ করেছে। এখন দেখার বিষয়, সরকারি কর্মচারীদের দাবি দ্রুত মেনে নিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী ধরনের সিদ্ধান্ত নেয়।

আপনার মতামত লিখুন