আসন্ন সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজপথের পাশাপাশি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মেও প্রচার-প্রচারণা তুঙ্গে উঠেছে। বড় রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি প্রার্থীরা এখন ব্যক্তিগত উদ্যোগে গান বানিয়ে ভোটারদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছেন। এসব গানে উঠে আসছে দলীয় প্রতীক, উন্নয়ন প্রতিশ্রুতি এবং ১৭ বছর পর উৎসবে ফেরার আহ্বান। সংগীত ও রাজনীতি বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ভোটারদের মনস্তত্ত্বে প্রভাব ফেলতে নির্বাচনী গানের ব্যবহার দলগুলোর একটি অত্যন্ত সময়োপযোগী ও কার্যকর কৌশল।
বিএনপি সম্প্রতি তাদের অফিশিয়াল প্ল্যাটফর্ম থেকে ‘ভোট দিব কিসে, ধানের শীষে’ শীর্ষক একটি নতুন গান প্রকাশ করেছে। মো. তানভীর চৌধুরীর কথা ও সুরে আতিয়া আনিশা এবং নিলয়ের গাওয়া এই গানটি প্রকাশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দশ লাখের বেশি মানুষ দেখেছে। গানে গ্রামবাংলার প্রকৃতি এবং দলটির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক নেতৃত্বের দেশ গড়ার অবদানের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। দলের সিনিয়র নেতাদের প্রচারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে বানানো গানও ইউটিউবে বেশ জনপ্রিয়তা পাচ্ছে।
নির্বাচনী গানে বড় চমক দেখিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির প্রতীক দাঁড়িপাল্লা নিয়ে নির্মিত একটি নাশিদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। 'বদলে যাচ্ছে দ্যাখো খেলা' শীর্ষক এই গানটি ইউটিউবে ২১ লাখের বেশিবার দেখা হয়েছে এবং ফেসবুকে এটি নিয়ে কয়েক লাখ রিলস তৈরি হয়েছে। এআই প্রযুক্তির সহায়তায় সুর করা এই গানে বর্তমান রাজনীতির প্রেক্ষাপট ও জনমতের পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছে। দলটির কেন্দ্রীয় নেতাদের নামেও স্থানীয়ভাবে আলাদা আলাদা গান ছড়িয়ে পড়েছে।
জুলাই অভ্যুত্থান থেকে জন্ম নেওয়া নতুন দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) প্রচারণায় প্রযুক্তির ব্যবহারে সবাইকে ছাড়িয়ে গেছে। তাদের প্রতীক ‘শাপলা কলি’ নিয়ে তৈরি গানটি এআই প্রযুক্তিতে তৈরি করেছেন ছাত্রশক্তির নেতা জোবায়ের হোসেন। দলটির শীর্ষ নেতা নাহিদ ইসলাম, নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী ও হাসনাত আব্দুল্লাহর নামেও ভিন্ন ভিন্ন গান জনপ্রিয় হয়েছে। পাশাপাশি গণভোটের পক্ষে তাদের তৈরি ‘হ্যাঁ’ ভোটের গানটিও ডিজিটাল মাধ্যমে বেশ আলোচিত।
বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারও গণভোট নিয়ে সচেতনতা তৈরিতে আঞ্চলিক ভাষায় আটটি গান তৈরি করেছে। জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী আসিফ আকবর একটি গানের মাধ্যমে ভোটারদের নির্ভয়ে কেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। এছাড়া রিকশা ও হাতপাখা প্রতীক নিয়েও বিভিন্ন ইসলামী দল গান প্রকাশ করেছে। সংগীতশিল্পী মনির খান এবং চলচ্চিত্র পরিচালক মালেক আফসারী এই ধারাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, গান উৎসবের আমেজ বাড়িয়ে দেয় এবং ভালো লিরিকের গান ভোটারদের সিদ্ধান্ত নিতেও প্রভাব ফেলতে পারে।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩০ জানুয়ারি ২০২৬
আসন্ন সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজপথের পাশাপাশি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মেও প্রচার-প্রচারণা তুঙ্গে উঠেছে। বড় রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি প্রার্থীরা এখন ব্যক্তিগত উদ্যোগে গান বানিয়ে ভোটারদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছেন। এসব গানে উঠে আসছে দলীয় প্রতীক, উন্নয়ন প্রতিশ্রুতি এবং ১৭ বছর পর উৎসবে ফেরার আহ্বান। সংগীত ও রাজনীতি বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ভোটারদের মনস্তত্ত্বে প্রভাব ফেলতে নির্বাচনী গানের ব্যবহার দলগুলোর একটি অত্যন্ত সময়োপযোগী ও কার্যকর কৌশল।
বিএনপি সম্প্রতি তাদের অফিশিয়াল প্ল্যাটফর্ম থেকে ‘ভোট দিব কিসে, ধানের শীষে’ শীর্ষক একটি নতুন গান প্রকাশ করেছে। মো. তানভীর চৌধুরীর কথা ও সুরে আতিয়া আনিশা এবং নিলয়ের গাওয়া এই গানটি প্রকাশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দশ লাখের বেশি মানুষ দেখেছে। গানে গ্রামবাংলার প্রকৃতি এবং দলটির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক নেতৃত্বের দেশ গড়ার অবদানের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। দলের সিনিয়র নেতাদের প্রচারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে বানানো গানও ইউটিউবে বেশ জনপ্রিয়তা পাচ্ছে।
নির্বাচনী গানে বড় চমক দেখিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির প্রতীক দাঁড়িপাল্লা নিয়ে নির্মিত একটি নাশিদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। 'বদলে যাচ্ছে দ্যাখো খেলা' শীর্ষক এই গানটি ইউটিউবে ২১ লাখের বেশিবার দেখা হয়েছে এবং ফেসবুকে এটি নিয়ে কয়েক লাখ রিলস তৈরি হয়েছে। এআই প্রযুক্তির সহায়তায় সুর করা এই গানে বর্তমান রাজনীতির প্রেক্ষাপট ও জনমতের পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছে। দলটির কেন্দ্রীয় নেতাদের নামেও স্থানীয়ভাবে আলাদা আলাদা গান ছড়িয়ে পড়েছে।
জুলাই অভ্যুত্থান থেকে জন্ম নেওয়া নতুন দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) প্রচারণায় প্রযুক্তির ব্যবহারে সবাইকে ছাড়িয়ে গেছে। তাদের প্রতীক ‘শাপলা কলি’ নিয়ে তৈরি গানটি এআই প্রযুক্তিতে তৈরি করেছেন ছাত্রশক্তির নেতা জোবায়ের হোসেন। দলটির শীর্ষ নেতা নাহিদ ইসলাম, নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী ও হাসনাত আব্দুল্লাহর নামেও ভিন্ন ভিন্ন গান জনপ্রিয় হয়েছে। পাশাপাশি গণভোটের পক্ষে তাদের তৈরি ‘হ্যাঁ’ ভোটের গানটিও ডিজিটাল মাধ্যমে বেশ আলোচিত।
বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারও গণভোট নিয়ে সচেতনতা তৈরিতে আঞ্চলিক ভাষায় আটটি গান তৈরি করেছে। জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী আসিফ আকবর একটি গানের মাধ্যমে ভোটারদের নির্ভয়ে কেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। এছাড়া রিকশা ও হাতপাখা প্রতীক নিয়েও বিভিন্ন ইসলামী দল গান প্রকাশ করেছে। সংগীতশিল্পী মনির খান এবং চলচ্চিত্র পরিচালক মালেক আফসারী এই ধারাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, গান উৎসবের আমেজ বাড়িয়ে দেয় এবং ভালো লিরিকের গান ভোটারদের সিদ্ধান্ত নিতেও প্রভাব ফেলতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন