অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ থেকে পদত্যাগ করার ৫০ দিন পার হলেও এখনো সরকারি বাসভবন ছাড়েননি ছাত্র আন্দোলনের দুই প্রতিনিধি আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও মাহফুজ আলম। পদত্যাগের পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও রাজধানীর হেয়ার রোডের মিন্টো রোডের সরকারি বাংলোতে তাদের অবস্থান নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নীতি-নৈতিকতার প্রশ্ন উঠেছে।
গেল বছরের ১০ ডিসেম্বর প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন স্থানীয় সরকার এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ এবং তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম। ১১ ডিসেম্বর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকেই তাদের পদত্যাগ কার্যকর হয়। নিয়ম অনুযায়ী পদত্যাগপত্র গৃহীত হওয়ার পর সরকারি সুযোগ-সুবিধা ত্যাগের কথা থাকলেও তারা এখনো মিন্টো রোডের বরাদ্দকৃত বাসভবনগুলো ব্যবহার করছেন।
সরেজমিনে তদন্তে দেখা গেছে, আসিফ মাহমুদ হেয়ার রোডের ‘নিলয়-৬’ এবং মাহফুজ আলম ‘উত্তরায়ন-৩’ নম্বর ডুপ্লেক্স বাংলোতে থাকছেন। যদিও আসিফ মাহমুদ দাবি করেছেন যে তিনি প্রায় এক মাস আগে বাসা ছেড়ে পরিবাগের বাসায় উঠেছেন, তবে তার সরকারি বাসভবনে দায়িত্বরত কর্মচারীরা জানিয়েছেন যে তিনি এখনো সেখানে যাতায়াত করছেন এবং কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। অন্যদিকে, মাহফুজ আলম জানিয়েছেন যে নীতিমালা অনুযায়ী বাসা ছাড়ার নির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ না থাকলেও নির্বাচনের আগেই তিনি বাসা বুঝিয়ে দেবেন।
সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের পরিচালক মো. আসাদুজ্জামান জানান, আবাসন নীতিমালায় সরকারি কর্মকর্তাদের অবসরের পর দুই মাস থাকার সুযোগ থাকলেও মন্ত্রী বা উপদেষ্টাদের ক্ষেত্রে এমন কোনো সুনির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ নেই। সাবেক উপদেষ্টারা এখনো বাসা না ছাড়ার বিষয়টি তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছেন এবং মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার অপেক্ষায় রয়েছেন।
বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাবেক সচিব ও লোকপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ এ কে এম আবদুল আউয়াল মজুমদার। তিনি ১৯৭৮ সালে কাজী জাফর আহমদের পদত্যাগের উদাহরণ টেনে বলেন, “সে সময় তিনি পদত্যাগপত্র দেওয়ার দুই দিন আগেই সরকারি বাসা ছেড়ে দিয়েছিলেন এবং পদত্যাগের পর সরকারি গাড়িতেও ওঠেননি। নীতি-নৈতিকতার দিক থেকে আমরা কতটা পিছিয়েছি, তা এই সাবেক দুই উপদেষ্টার বাসা না ছাড়ার মাধ্যমেই স্পষ্ট হচ্ছে।” বর্তমানে আসিফ মাহমুদ জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, যা সরকারি বাসভবনে বসে করার বিষয়টিকে আরও বিতর্কিত করে তুলেছে।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৯ জানুয়ারি ২০২৬
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ থেকে পদত্যাগ করার ৫০ দিন পার হলেও এখনো সরকারি বাসভবন ছাড়েননি ছাত্র আন্দোলনের দুই প্রতিনিধি আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও মাহফুজ আলম। পদত্যাগের পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও রাজধানীর হেয়ার রোডের মিন্টো রোডের সরকারি বাংলোতে তাদের অবস্থান নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নীতি-নৈতিকতার প্রশ্ন উঠেছে।
গেল বছরের ১০ ডিসেম্বর প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন স্থানীয় সরকার এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ এবং তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম। ১১ ডিসেম্বর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকেই তাদের পদত্যাগ কার্যকর হয়। নিয়ম অনুযায়ী পদত্যাগপত্র গৃহীত হওয়ার পর সরকারি সুযোগ-সুবিধা ত্যাগের কথা থাকলেও তারা এখনো মিন্টো রোডের বরাদ্দকৃত বাসভবনগুলো ব্যবহার করছেন।
সরেজমিনে তদন্তে দেখা গেছে, আসিফ মাহমুদ হেয়ার রোডের ‘নিলয়-৬’ এবং মাহফুজ আলম ‘উত্তরায়ন-৩’ নম্বর ডুপ্লেক্স বাংলোতে থাকছেন। যদিও আসিফ মাহমুদ দাবি করেছেন যে তিনি প্রায় এক মাস আগে বাসা ছেড়ে পরিবাগের বাসায় উঠেছেন, তবে তার সরকারি বাসভবনে দায়িত্বরত কর্মচারীরা জানিয়েছেন যে তিনি এখনো সেখানে যাতায়াত করছেন এবং কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। অন্যদিকে, মাহফুজ আলম জানিয়েছেন যে নীতিমালা অনুযায়ী বাসা ছাড়ার নির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ না থাকলেও নির্বাচনের আগেই তিনি বাসা বুঝিয়ে দেবেন।
সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের পরিচালক মো. আসাদুজ্জামান জানান, আবাসন নীতিমালায় সরকারি কর্মকর্তাদের অবসরের পর দুই মাস থাকার সুযোগ থাকলেও মন্ত্রী বা উপদেষ্টাদের ক্ষেত্রে এমন কোনো সুনির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ নেই। সাবেক উপদেষ্টারা এখনো বাসা না ছাড়ার বিষয়টি তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছেন এবং মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার অপেক্ষায় রয়েছেন।
বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাবেক সচিব ও লোকপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ এ কে এম আবদুল আউয়াল মজুমদার। তিনি ১৯৭৮ সালে কাজী জাফর আহমদের পদত্যাগের উদাহরণ টেনে বলেন, “সে সময় তিনি পদত্যাগপত্র দেওয়ার দুই দিন আগেই সরকারি বাসা ছেড়ে দিয়েছিলেন এবং পদত্যাগের পর সরকারি গাড়িতেও ওঠেননি। নীতি-নৈতিকতার দিক থেকে আমরা কতটা পিছিয়েছি, তা এই সাবেক দুই উপদেষ্টার বাসা না ছাড়ার মাধ্যমেই স্পষ্ট হচ্ছে।” বর্তমানে আসিফ মাহমুদ জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, যা সরকারি বাসভবনে বসে করার বিষয়টিকে আরও বিতর্কিত করে তুলেছে।

আপনার মতামত লিখুন