দেশের জ্বালানি খাতে নতুন সংকট হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে এলপি গ্যাস। গত এক মাস ধরে বাজারে তীব্র সরবরাহ সংকট, সিলিন্ডার উধাও এবং অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন সাধারণ ভোক্তারা। সংশ্লিষ্টদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজার বা নিষেধাজ্ঞার অজুহাত দেখানো হলেও মূলত একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেটের দীর্ঘদিনের পরিকল্পিত সিদ্ধান্তেই এই অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
গত ১৫ বছরে দেশে এলপিজির চাহিদা অন্তত ২৫ গুণ বাড়লেও বর্তমানে এই খাতটি গভীর সংকটের মুখে। বর্তমানে দেশের এলপিজি বাজারের নিয়ন্ত্রণ মূলত ১০টি বড় শিল্পগ্রুপের হাতে। অভিযোগ উঠেছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের ঘনিষ্ঠ অন্তত আটটি প্রতিষ্ঠান গত দেড় বছর ধরে রহস্যজনকভাবে আমদানি কমিয়ে দিয়েছে। এর ফলে বাজারে চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে বিশাল ব্যবধান তৈরি হয়েছে। একই সময়ে ইরান থেকে এলপিজি বহনকারী জাহাজের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ফলে সরবরাহ ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে।
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) ও বিপিসির তথ্য অনুযায়ী, দেশে ৩০টি প্রতিষ্ঠানের আমদানির অনুমোদন থাকলেও বাজারের সিংহভাগ নিয়ন্ত্রণ করে শীর্ষ কয়েকটি গ্রুপ। পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, এক সময়ের শীর্ষ আমদানিকারক বসুন্ধরা এলপি গ্যাস গত তিন বছরে তাদের আমদানি অর্ধেকের বেশি কমিয়ে দিয়েছে। একইভাবে বেক্সিমকো, এস আলমের মালিকানাধীন ইউনিটেক্স এবং অরিয়ন গ্রুপের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোও হঠাৎ করে আমদানি কমিয়ে বা বন্ধ করে দিয়েছে। গত অর্থবছরে যেখানে এলপিজির চাহিদা বেড়েছে, সেখানে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্যমতে আমদানি কমেছে প্রায় দেড় লাখ টন।
ব্যবসায়ী ও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অনেক প্রতিষ্ঠানের ব্যাংকিং জটিলতা ও এলসি খোলার সমস্যা তৈরি হয়েছে। তবে লিকুইফাইড পেট্রোলিয়াম গ্যাস অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (লোয়াব) সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক জানান, আটটি কোম্পানি আগে থেকেই আমদানি কমিয়ে দিয়েছিল, যা সরকারকে জানানো হয়েছিল। সময়মতো সঠিক সিদ্ধান্ত নিলে এই সংকট এড়ানো সম্ভব হতো।
কনজুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক এম শামসুল আলম এই পরিস্থিতিকে পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি মনে করেন, এই শক্তিশালী সিন্ডিকেট ভাঙতে হলে সরকারকে সরাসরি এলপিজি ব্যবসায় নামতে হবে। নিজস্ব অবকাঠামো না থাকলেও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সহায়তা নিয়ে সরকারকে বাজার নিয়ন্ত্রণ করার পরামর্শ দেন তিনি।
এদিকে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সরকার তাদের এলপিজি আমদানির নির্দেশনা দিলেও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও অভিজ্ঞতার অভাবে তারা বেসরকারি কোম্পানির ওপর নির্ভরশীল। বর্তমানে নতুন আমদানির উৎস খোঁজার পাশাপাশি সমন্বিত বিপণনের মাধ্যমে সংকট কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা চলছে। তবে অদূর ভবিষ্যতে এই অস্থিরতা থেকে মুক্তির কোনো সুনির্দিষ্ট নিশ্চয়তা দিতে পারছে না সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৯ জানুয়ারি ২০২৬
দেশের জ্বালানি খাতে নতুন সংকট হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে এলপি গ্যাস। গত এক মাস ধরে বাজারে তীব্র সরবরাহ সংকট, সিলিন্ডার উধাও এবং অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন সাধারণ ভোক্তারা। সংশ্লিষ্টদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজার বা নিষেধাজ্ঞার অজুহাত দেখানো হলেও মূলত একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেটের দীর্ঘদিনের পরিকল্পিত সিদ্ধান্তেই এই অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
গত ১৫ বছরে দেশে এলপিজির চাহিদা অন্তত ২৫ গুণ বাড়লেও বর্তমানে এই খাতটি গভীর সংকটের মুখে। বর্তমানে দেশের এলপিজি বাজারের নিয়ন্ত্রণ মূলত ১০টি বড় শিল্পগ্রুপের হাতে। অভিযোগ উঠেছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের ঘনিষ্ঠ অন্তত আটটি প্রতিষ্ঠান গত দেড় বছর ধরে রহস্যজনকভাবে আমদানি কমিয়ে দিয়েছে। এর ফলে বাজারে চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে বিশাল ব্যবধান তৈরি হয়েছে। একই সময়ে ইরান থেকে এলপিজি বহনকারী জাহাজের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ফলে সরবরাহ ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে।
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) ও বিপিসির তথ্য অনুযায়ী, দেশে ৩০টি প্রতিষ্ঠানের আমদানির অনুমোদন থাকলেও বাজারের সিংহভাগ নিয়ন্ত্রণ করে শীর্ষ কয়েকটি গ্রুপ। পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, এক সময়ের শীর্ষ আমদানিকারক বসুন্ধরা এলপি গ্যাস গত তিন বছরে তাদের আমদানি অর্ধেকের বেশি কমিয়ে দিয়েছে। একইভাবে বেক্সিমকো, এস আলমের মালিকানাধীন ইউনিটেক্স এবং অরিয়ন গ্রুপের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোও হঠাৎ করে আমদানি কমিয়ে বা বন্ধ করে দিয়েছে। গত অর্থবছরে যেখানে এলপিজির চাহিদা বেড়েছে, সেখানে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্যমতে আমদানি কমেছে প্রায় দেড় লাখ টন।
ব্যবসায়ী ও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অনেক প্রতিষ্ঠানের ব্যাংকিং জটিলতা ও এলসি খোলার সমস্যা তৈরি হয়েছে। তবে লিকুইফাইড পেট্রোলিয়াম গ্যাস অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (লোয়াব) সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক জানান, আটটি কোম্পানি আগে থেকেই আমদানি কমিয়ে দিয়েছিল, যা সরকারকে জানানো হয়েছিল। সময়মতো সঠিক সিদ্ধান্ত নিলে এই সংকট এড়ানো সম্ভব হতো।
কনজুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক এম শামসুল আলম এই পরিস্থিতিকে পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি মনে করেন, এই শক্তিশালী সিন্ডিকেট ভাঙতে হলে সরকারকে সরাসরি এলপিজি ব্যবসায় নামতে হবে। নিজস্ব অবকাঠামো না থাকলেও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সহায়তা নিয়ে সরকারকে বাজার নিয়ন্ত্রণ করার পরামর্শ দেন তিনি।
এদিকে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সরকার তাদের এলপিজি আমদানির নির্দেশনা দিলেও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও অভিজ্ঞতার অভাবে তারা বেসরকারি কোম্পানির ওপর নির্ভরশীল। বর্তমানে নতুন আমদানির উৎস খোঁজার পাশাপাশি সমন্বিত বিপণনের মাধ্যমে সংকট কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা চলছে। তবে অদূর ভবিষ্যতে এই অস্থিরতা থেকে মুক্তির কোনো সুনির্দিষ্ট নিশ্চয়তা দিতে পারছে না সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

আপনার মতামত লিখুন