পাসপোর্ট ও ভিসা জালিয়াতির ভয়াবহতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন যে জালিয়াতির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ পৃথিবীতে প্রায় চ্যাম্পিয়ন হয়ে গেছে। তিনি আক্ষেপ করে জানান যে সব কিছুতেই জালিয়াতির প্রবণতা দেশকে একটি জালিয়াতির কারখানায় পরিণত করেছে, যার ফলে বিশ্বের অনেক দেশ এখন বাংলাদেশের পাসপোর্ট গ্রহণ করতে চাইছে না। বুধবার সকালে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘ডিজিটাল ডিভাইস অ্যান্ড ইনোভেশন এক্সপো-২০২৬’-এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধান উপদেষ্টা তার অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে বলেন যে মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশ বর্তমানে বাংলাদেশিদের প্রবেশাধিকার দিচ্ছে না। তিনি একজন বিদেশি মন্ত্রীর উদ্ধৃতি দিয়ে জানান যে হাজার হাজার মানুষের শিক্ষার সার্টিফিকেট, ব্যাংকের কাগজ এবং এমনকি ডাক্তারের সার্টিফিকেট পর্যন্ত ভুয়া প্রমাণিত হচ্ছে। এই জালিয়াতির কারণে বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হচ্ছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে প্রযুক্তিতে উন্নতি করতে হলে এই জালিয়াতি ও মিথ্যার গোড়া উপড়ে ফেলতে হবে। মেধাকে খারাপ কাজে না লাগিয়ে সৃজনশীল উদ্ভাবনে কাজে লাগানোর জন্য তিনি তরুণদের প্রতি আহ্বান জানান।
জুলাই অভ্যুত্থানের গুরুত্ব স্মরণ করে ড. ইউনূস বলেন যে ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়ার ফলে তরুণদের মধ্যে যে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল, সেই শক্তির আঘাতেই একটি মহাশক্তিশালী সরকারের পতন ঘটেছে। তিনি মনে করেন চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের সামনে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে। এই বিপ্লবের নেতৃত্বে থাকা তরুণরাই ভবিষ্যতে শুধু বাংলাদেশ নয়, বরং গোটা বিশ্বকে নেতৃত্ব দেবে। আজকের তরুণ প্রজন্মকে তিনি পৃথিবীর ইতিহাসের সবচাইতে শক্তিশালী প্রজন্ম হিসেবে অভিহিত করেন।
প্রধান উপদেষ্টা দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন যে বাংলাদেশ আর জালিয়াতির কারখানা হবে না। বরং নিজ গুণে সারাবিশ্বে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে। তিনি সরকারকে মানুষের সহায়ক হিসেবে গড়ে তোলার এবং তরুণদের উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। প্রযুক্তির এই যুগে জালিয়াতি পরিহার করে ন্যায্য ও সত্যের পথে চলার মাধ্যমেই একটি নতুন ও আধুনিক বাংলাদেশ গড়া সম্ভব বলে তিনি তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৮ জানুয়ারি ২০২৬
পাসপোর্ট ও ভিসা জালিয়াতির ভয়াবহতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন যে জালিয়াতির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ পৃথিবীতে প্রায় চ্যাম্পিয়ন হয়ে গেছে। তিনি আক্ষেপ করে জানান যে সব কিছুতেই জালিয়াতির প্রবণতা দেশকে একটি জালিয়াতির কারখানায় পরিণত করেছে, যার ফলে বিশ্বের অনেক দেশ এখন বাংলাদেশের পাসপোর্ট গ্রহণ করতে চাইছে না। বুধবার সকালে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘ডিজিটাল ডিভাইস অ্যান্ড ইনোভেশন এক্সপো-২০২৬’-এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধান উপদেষ্টা তার অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে বলেন যে মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশ বর্তমানে বাংলাদেশিদের প্রবেশাধিকার দিচ্ছে না। তিনি একজন বিদেশি মন্ত্রীর উদ্ধৃতি দিয়ে জানান যে হাজার হাজার মানুষের শিক্ষার সার্টিফিকেট, ব্যাংকের কাগজ এবং এমনকি ডাক্তারের সার্টিফিকেট পর্যন্ত ভুয়া প্রমাণিত হচ্ছে। এই জালিয়াতির কারণে বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হচ্ছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে প্রযুক্তিতে উন্নতি করতে হলে এই জালিয়াতি ও মিথ্যার গোড়া উপড়ে ফেলতে হবে। মেধাকে খারাপ কাজে না লাগিয়ে সৃজনশীল উদ্ভাবনে কাজে লাগানোর জন্য তিনি তরুণদের প্রতি আহ্বান জানান।
জুলাই অভ্যুত্থানের গুরুত্ব স্মরণ করে ড. ইউনূস বলেন যে ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়ার ফলে তরুণদের মধ্যে যে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল, সেই শক্তির আঘাতেই একটি মহাশক্তিশালী সরকারের পতন ঘটেছে। তিনি মনে করেন চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের সামনে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে। এই বিপ্লবের নেতৃত্বে থাকা তরুণরাই ভবিষ্যতে শুধু বাংলাদেশ নয়, বরং গোটা বিশ্বকে নেতৃত্ব দেবে। আজকের তরুণ প্রজন্মকে তিনি পৃথিবীর ইতিহাসের সবচাইতে শক্তিশালী প্রজন্ম হিসেবে অভিহিত করেন।
প্রধান উপদেষ্টা দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন যে বাংলাদেশ আর জালিয়াতির কারখানা হবে না। বরং নিজ গুণে সারাবিশ্বে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে। তিনি সরকারকে মানুষের সহায়ক হিসেবে গড়ে তোলার এবং তরুণদের উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। প্রযুক্তির এই যুগে জালিয়াতি পরিহার করে ন্যায্য ও সত্যের পথে চলার মাধ্যমেই একটি নতুন ও আধুনিক বাংলাদেশ গড়া সম্ভব বলে তিনি তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন।

আপনার মতামত লিখুন