দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় পর বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে সরাসরি আকাশপথে যোগাযোগ পুনরায় শুরু হচ্ছে; বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি ২০২৬) রাতে ঢাকা থেকে করাচির উদ্দেশে প্রথম বাণিজ্যিক ফ্লাইট পরিচালনা করবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স।
দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর ঢাকা–করাচি রুটে আবারও সরাসরি ফ্লাইট চালুর উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় পতাকাবাহী সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি ২০২৬) রাত ৮টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে যাত্রী নিয়ে করাচির উদ্দেশে যাত্রা করবে উদ্বোধনী ফ্লাইটটি। টানা প্রায় তিন ঘণ্টা আকাশপথ পাড়ি দিয়ে ফ্লাইটটি করাচি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের কথা রয়েছে।
বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ড. সাফিকুর রহমান মঙ্গলবার জানান, ১৬২ আসনবিশিষ্ট এই উদ্বোধনী ফ্লাইটের সব টিকিট ইতিমধ্যে বিক্রি হয়ে গেছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ২০১২ সালে ঢাকা–করাচি রুটে বিমানের কার্যক্রম বন্ধ হওয়ার পর এটিই হবে এ রুটে সংস্থাটির প্রথম বাণিজ্যিক ফ্লাইট।
বিমানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানান, উদ্বোধনী ফ্লাইটে সাধারণ যাত্রীদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও কূটনৈতিক প্রতিনিধিরাও সফরসঙ্গী হিসেবে থাকবেন। এ ফ্লাইটের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে যাত্রী চলাচল ও পারস্পরিক যোগাযোগে নতুন গতি আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সূত্র জানায়, ২০২৪ সালে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে এই রুটে সরাসরি ফ্লাইট চালুর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। এর ধারাবাহিকতায় পাকিস্তান বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ বিমান বাংলাদেশকে ঢাকা–করাচি রুট ব্যবহারের আনুষ্ঠানিক অনুমতি দেয়, যা প্রাথমিকভাবে ২০২৬ সালের ৩০ মার্চ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
পাকিস্তান বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নির্ধারিত আকাশসীমা ও রুট কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে এবং করাচি বিমানবন্দরে এই ফ্লাইটের জন্য নির্দিষ্ট সময়সূচি বা ‘স্লট’ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, প্রতিটি ফ্লাইট পরিচালনার আগে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও অপারেশনাল তথ্য করাচি বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষকে সরবরাহ করতে হবে।
বেসামরিক বিমান পরিবহন খাতের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, সরাসরি আকাশপথ চালু হওয়ায় দুই দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য, চিকিৎসা, শিক্ষা ও পারিবারিক যাতায়াতে দীর্ঘদিনের ভোগান্তি কমবে। একই সঙ্গে দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক সংযোগ জোরদারে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
২০১২ সালে নানা প্রশাসনিক ও অপারেশনাল কারণে ঢাকা–করাচি রুটে বিমানের ফ্লাইট স্থগিত করা হয়েছিল। প্রায় ১৪ বছর পর এই রুটে পুনরায় ফ্লাইট চালুকে বাংলাদেশ–পাকিস্তান কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিমানের কর্মকর্তারা আরও জানান, প্রাথমিকভাবে যাত্রীবাহী ফ্লাইট দিয়ে কার্যক্রম শুরু হলেও ভবিষ্যতে চাহিদা অনুযায়ী ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়ানো এবং কার্গো পরিবহন চালুর বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হতে পারে। একই সঙ্গে পরবর্তী সময়ে লাহোর বা ইসলামাবাদ রুটে সরাসরি ফ্লাইট চালুর সম্ভাবনাও উন্মুক্ত থাকছে।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৮ জানুয়ারি ২০২৬
দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় পর বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে সরাসরি আকাশপথে যোগাযোগ পুনরায় শুরু হচ্ছে; বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি ২০২৬) রাতে ঢাকা থেকে করাচির উদ্দেশে প্রথম বাণিজ্যিক ফ্লাইট পরিচালনা করবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স।
দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর ঢাকা–করাচি রুটে আবারও সরাসরি ফ্লাইট চালুর উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় পতাকাবাহী সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি ২০২৬) রাত ৮টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে যাত্রী নিয়ে করাচির উদ্দেশে যাত্রা করবে উদ্বোধনী ফ্লাইটটি। টানা প্রায় তিন ঘণ্টা আকাশপথ পাড়ি দিয়ে ফ্লাইটটি করাচি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের কথা রয়েছে।
বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ড. সাফিকুর রহমান মঙ্গলবার জানান, ১৬২ আসনবিশিষ্ট এই উদ্বোধনী ফ্লাইটের সব টিকিট ইতিমধ্যে বিক্রি হয়ে গেছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ২০১২ সালে ঢাকা–করাচি রুটে বিমানের কার্যক্রম বন্ধ হওয়ার পর এটিই হবে এ রুটে সংস্থাটির প্রথম বাণিজ্যিক ফ্লাইট।
বিমানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানান, উদ্বোধনী ফ্লাইটে সাধারণ যাত্রীদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও কূটনৈতিক প্রতিনিধিরাও সফরসঙ্গী হিসেবে থাকবেন। এ ফ্লাইটের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে যাত্রী চলাচল ও পারস্পরিক যোগাযোগে নতুন গতি আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সূত্র জানায়, ২০২৪ সালে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে এই রুটে সরাসরি ফ্লাইট চালুর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। এর ধারাবাহিকতায় পাকিস্তান বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ বিমান বাংলাদেশকে ঢাকা–করাচি রুট ব্যবহারের আনুষ্ঠানিক অনুমতি দেয়, যা প্রাথমিকভাবে ২০২৬ সালের ৩০ মার্চ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
পাকিস্তান বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নির্ধারিত আকাশসীমা ও রুট কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে এবং করাচি বিমানবন্দরে এই ফ্লাইটের জন্য নির্দিষ্ট সময়সূচি বা ‘স্লট’ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, প্রতিটি ফ্লাইট পরিচালনার আগে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও অপারেশনাল তথ্য করাচি বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষকে সরবরাহ করতে হবে।
বেসামরিক বিমান পরিবহন খাতের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, সরাসরি আকাশপথ চালু হওয়ায় দুই দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য, চিকিৎসা, শিক্ষা ও পারিবারিক যাতায়াতে দীর্ঘদিনের ভোগান্তি কমবে। একই সঙ্গে দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক সংযোগ জোরদারে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
২০১২ সালে নানা প্রশাসনিক ও অপারেশনাল কারণে ঢাকা–করাচি রুটে বিমানের ফ্লাইট স্থগিত করা হয়েছিল। প্রায় ১৪ বছর পর এই রুটে পুনরায় ফ্লাইট চালুকে বাংলাদেশ–পাকিস্তান কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিমানের কর্মকর্তারা আরও জানান, প্রাথমিকভাবে যাত্রীবাহী ফ্লাইট দিয়ে কার্যক্রম শুরু হলেও ভবিষ্যতে চাহিদা অনুযায়ী ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়ানো এবং কার্গো পরিবহন চালুর বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হতে পারে। একই সঙ্গে পরবর্তী সময়ে লাহোর বা ইসলামাবাদ রুটে সরাসরি ফ্লাইট চালুর সম্ভাবনাও উন্মুক্ত থাকছে।

আপনার মতামত লিখুন