ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

ভাঙ্গায় ট্রেনের ধাক্কায় প্রাইভেটকার খাদে


নিজস্ব প্রতিবেদন
নিজস্ব প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৭ জানুয়ারি ২০২৬

ভাঙ্গায় ট্রেনের ধাক্কায় প্রাইভেটকার খাদে

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার নওপাড়া এলাকায় মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে একটি ভয়াবহ রেলসংঘর্ষ ঘটে, যখন ঢাকা থেকে খুলনার দিকে যাত্রী পরিবহণকারী নকশী কাঁথা ট্রেন একটি প্রাইভেটকারকে ধাক্কা দেয়। ধাক্কায় প্রাইভেটকারটি উল্টে পড়ে প্রায় ৫০ ফুট গভীর খাদে, ফলে এতে থাকা চারজন খানিকটা সময় ধরে গাড়ির ভেতরে আটকে পড়ে। এরপর স্থানীয় লোকজন ও উদ্ধারকারীরা তাদের গাড়ি থেকে বের করে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

আহতদের মধ্যে রয়েছেন সিটি ব্যাংকের ঢাকার শ্যামলী শাখার কর্মকর্তা সঞ্জীব ঘোষ, ঢাকার ব্যবসায়ী মেহেদী আল আমিন, ভাঙ্গার ব্যবসায়ী আলম মিয়া ও প্রাইভেটকার চালক রুবেল হোসেন। চিকিৎসকরা তাদের অবস্থাকে গুরুতর উল্লেখ করেছেন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুর্ঘটনাস্থলটি একটি অরক্ষিত রেলক্রসিংয়ের কাছে এবং সেখানে কোনো রেলগেট বা সুরক্ষা ব্যবস্থা ছিল না। তারা জানান, গত কয়েক মাসেও ওই একই স্থানে বিভিন্ন ধরনের যানজট ও দুর্ঘটনা ঘটেছে এবং একবার একটি নসিমন গাড়িও দুর্ঘটনায় পড়ে যায়, যেখানে চারজন মারা যান। যানবাহন ও পথচারীরা প্রতিদিন নওপাড়া-সদরপুর আঞ্চলিক সড়ক দিয়ে চলাচল করেন, ফলে রেল ও সড়কের এই সংযোগস্থলের সুরক্ষা ব্যবস্থা না থাকলে ভবিষ্যতে আরও মোটর দুর্ঘটনা হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ভাঙ্গা রেলস্টেশনের স্টেশন মাস্টার স্বপন সরকার জানান, দুপুরে দুর্ঘটনা ঘটার পর বিষয়টি রেল পুলিশ ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে এবং উদ্ধারকাজে সংশ্লিষ্ঠরা কাজ করছেন। রেলওয়ে পক্ষ থেকে আহতদের সহায়তার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং ঘটনাটির তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে।

এদিকে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল আলীম জানান, দুর্ঘটনার পর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং ঘটনার প্রাথমিক তদন্ত চালানো হচ্ছে। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যৌথভাবে এই ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করা হবে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্টদের নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে পুলিশ।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, রেলক্রসিংয়ে রেলগেট না থাকায় দিনরাত দুর্ঘটনা হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাঁরা মনে করেন, সঠিক সিগন্যাল, গেট ও সতর্কতা ব্যবস্থার অভাবে এই ধরনের দুর্ঘটনা প্রায়ই ঘটে থাকে, তাই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

এ দুর্ঘটনা ভাঙ্গা অঞ্চলের রেল ও সড়ক নিরাপত্তার আবারও একটা গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দিয়েছে যে, যথাযথ নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রিত ক্রসিং ব্যবস্থা না থাকলে ট্রেন ও পরিবহন সংঘর্ষের ঘটনা পুনরায় ঘটতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


ভাঙ্গায় ট্রেনের ধাক্কায় প্রাইভেটকার খাদে

প্রকাশের তারিখ : ২৭ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার নওপাড়া এলাকায় মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে একটি ভয়াবহ রেলসংঘর্ষ ঘটে, যখন ঢাকা থেকে খুলনার দিকে যাত্রী পরিবহণকারী নকশী কাঁথা ট্রেন একটি প্রাইভেটকারকে ধাক্কা দেয়। ধাক্কায় প্রাইভেটকারটি উল্টে পড়ে প্রায় ৫০ ফুট গভীর খাদে, ফলে এতে থাকা চারজন খানিকটা সময় ধরে গাড়ির ভেতরে আটকে পড়ে। এরপর স্থানীয় লোকজন ও উদ্ধারকারীরা তাদের গাড়ি থেকে বের করে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

আহতদের মধ্যে রয়েছেন সিটি ব্যাংকের ঢাকার শ্যামলী শাখার কর্মকর্তা সঞ্জীব ঘোষ, ঢাকার ব্যবসায়ী মেহেদী আল আমিন, ভাঙ্গার ব্যবসায়ী আলম মিয়া ও প্রাইভেটকার চালক রুবেল হোসেন। চিকিৎসকরা তাদের অবস্থাকে গুরুতর উল্লেখ করেছেন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুর্ঘটনাস্থলটি একটি অরক্ষিত রেলক্রসিংয়ের কাছে এবং সেখানে কোনো রেলগেট বা সুরক্ষা ব্যবস্থা ছিল না। তারা জানান, গত কয়েক মাসেও ওই একই স্থানে বিভিন্ন ধরনের যানজট ও দুর্ঘটনা ঘটেছে এবং একবার একটি নসিমন গাড়িও দুর্ঘটনায় পড়ে যায়, যেখানে চারজন মারা যান। যানবাহন ও পথচারীরা প্রতিদিন নওপাড়া-সদরপুর আঞ্চলিক সড়ক দিয়ে চলাচল করেন, ফলে রেল ও সড়কের এই সংযোগস্থলের সুরক্ষা ব্যবস্থা না থাকলে ভবিষ্যতে আরও মোটর দুর্ঘটনা হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ভাঙ্গা রেলস্টেশনের স্টেশন মাস্টার স্বপন সরকার জানান, দুপুরে দুর্ঘটনা ঘটার পর বিষয়টি রেল পুলিশ ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে এবং উদ্ধারকাজে সংশ্লিষ্ঠরা কাজ করছেন। রেলওয়ে পক্ষ থেকে আহতদের সহায়তার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং ঘটনাটির তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে।

এদিকে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল আলীম জানান, দুর্ঘটনার পর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং ঘটনার প্রাথমিক তদন্ত চালানো হচ্ছে। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যৌথভাবে এই ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করা হবে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্টদের নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে পুলিশ।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, রেলক্রসিংয়ে রেলগেট না থাকায় দিনরাত দুর্ঘটনা হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাঁরা মনে করেন, সঠিক সিগন্যাল, গেট ও সতর্কতা ব্যবস্থার অভাবে এই ধরনের দুর্ঘটনা প্রায়ই ঘটে থাকে, তাই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

এ দুর্ঘটনা ভাঙ্গা অঞ্চলের রেল ও সড়ক নিরাপত্তার আবারও একটা গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দিয়েছে যে, যথাযথ নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রিত ক্রসিং ব্যবস্থা না থাকলে ট্রেন ও পরিবহন সংঘর্ষের ঘটনা পুনরায় ঘটতে পারে।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ