ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

কলেজ শিক্ষককে কুপিয়ে হত্যা, বিক্ষুব্ধ জনতার দেওয়া আগুনে বৃদ্ধার মৃত্যু


নিজস্ব প্রতিবেদন
নিজস্ব প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২২ জানুয়ারি ২০২৬

কলেজ শিক্ষককে কুপিয়ে হত্যা, বিক্ষুব্ধ জনতার দেওয়া আগুনে বৃদ্ধার মৃত্যু

নাটোরের সিংড়া উপজেলার কুমারপাড়া এলাকায় গত ২১ জানুয়ারি বুধবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে এক মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয়ভাবে বিশিষ্ট কলেজ শিক্ষক ও রাজনৈতিক নেতাকে দুর্বৃত্তরা কুপিয়ে হত্যা করেছে এবং এ ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় বিক্ষুব্ধ জনতা প্রতিবেশীর বাড়িতে আগুন দেয়, এতে এক বৃদ্ধা নিহত হয়েছেন।

ঘটনার শিকার কলেজ শিক্ষক রেজাউল করিম (৫৩) ছিলেন সিংড়া উপজেলার কুমারপাড়া গ্রামের বাসিন্দা এবং বিলহালতি ক্রিমোহনী ডিগ্রি কলেজের ইতিহাস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক। তিনি স্থানীয় রাজনৈতিক দল জিয়া পরিষদ‑এর সদস্য ও নাটোর জেলা আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি সংসদের সহসভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন বলে জানা গেছে। স্থানীয় পুলিশ ও ঘনিষ্ঠরা বলেছে, রেজাউল করিমকে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে।

হত্যাকাণ্ডের পর খবর ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাস্থলের কাছাকাছি এক প্রতিবেশীর বাড়িতে বিক্ষুব্ধ জনতা হামলা চালায় এবং সেখানে অগ্নিসংযোগ করে। আগুনে ভস্মীর মধ্যে আটকা পড়ে ছাবিহা বেগম (৭০) নামের এক বৃদ্ধা মারা যায়; মৃত ব্যক্তির বাড়িটিও আগুনে পুড়ে যায়। উদ্ধারকাজে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা স্থানীয়দের সহায়তায় দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে এবং বৃদ্ধার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পুলিশের খবর অনুযায়ী, নিহত ছাত্র‑শিক্ষক রেজাউল করিমের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নাটোর সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। সিংড়া থানার পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত ও গ্রেফতারের জন্য তল্লাশি চালাচ্ছে। সিংড়া থানার তদন্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও এর পেছনের শিকড় জানতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

স্থানীয় প্রশাসনও দ্রুত ব্যবস্থা নিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। সেখানে সিংড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), সহকারী পুলিশ সুপার এবং সেনাবাহিনীর সদস্যরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার নির্দেশ দেন।

স্থানীয়রা জানায়, হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই এলাকায় ভয়, শোক ও উদ্বেগের আবহ তৈরি হয়েছে। অনেকেই ভয় পাচ্ছেন যে, এরকম সহিংস ঘটনা পুনরায় ঘটতে পারে। সামাজিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে এই ধরনের সহিংস প্রতিক্রিয়া জনমানসের মধ্যে অস্থিরতা বৃদ্ধি করতে পারে এবং এর কারণে সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি পেতে পারে।

এই ঘটনায় প্রশাসনকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা, সঠিক তদন্ত পরিচালনা ও দোষীদের আইনের আওতায় আনা জরুরি, এমনটাই স্থানীয়দের দাবী।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


কলেজ শিক্ষককে কুপিয়ে হত্যা, বিক্ষুব্ধ জনতার দেওয়া আগুনে বৃদ্ধার মৃত্যু

প্রকাশের তারিখ : ২২ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image

নাটোরের সিংড়া উপজেলার কুমারপাড়া এলাকায় গত ২১ জানুয়ারি বুধবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে এক মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয়ভাবে বিশিষ্ট কলেজ শিক্ষক ও রাজনৈতিক নেতাকে দুর্বৃত্তরা কুপিয়ে হত্যা করেছে এবং এ ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় বিক্ষুব্ধ জনতা প্রতিবেশীর বাড়িতে আগুন দেয়, এতে এক বৃদ্ধা নিহত হয়েছেন।

ঘটনার শিকার কলেজ শিক্ষক রেজাউল করিম (৫৩) ছিলেন সিংড়া উপজেলার কুমারপাড়া গ্রামের বাসিন্দা এবং বিলহালতি ক্রিমোহনী ডিগ্রি কলেজের ইতিহাস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক। তিনি স্থানীয় রাজনৈতিক দল জিয়া পরিষদ‑এর সদস্য ও নাটোর জেলা আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি সংসদের সহসভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন বলে জানা গেছে। স্থানীয় পুলিশ ও ঘনিষ্ঠরা বলেছে, রেজাউল করিমকে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে।

হত্যাকাণ্ডের পর খবর ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাস্থলের কাছাকাছি এক প্রতিবেশীর বাড়িতে বিক্ষুব্ধ জনতা হামলা চালায় এবং সেখানে অগ্নিসংযোগ করে। আগুনে ভস্মীর মধ্যে আটকা পড়ে ছাবিহা বেগম (৭০) নামের এক বৃদ্ধা মারা যায়; মৃত ব্যক্তির বাড়িটিও আগুনে পুড়ে যায়। উদ্ধারকাজে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা স্থানীয়দের সহায়তায় দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে এবং বৃদ্ধার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পুলিশের খবর অনুযায়ী, নিহত ছাত্র‑শিক্ষক রেজাউল করিমের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নাটোর সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। সিংড়া থানার পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত ও গ্রেফতারের জন্য তল্লাশি চালাচ্ছে। সিংড়া থানার তদন্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও এর পেছনের শিকড় জানতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

স্থানীয় প্রশাসনও দ্রুত ব্যবস্থা নিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। সেখানে সিংড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), সহকারী পুলিশ সুপার এবং সেনাবাহিনীর সদস্যরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার নির্দেশ দেন।

স্থানীয়রা জানায়, হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই এলাকায় ভয়, শোক ও উদ্বেগের আবহ তৈরি হয়েছে। অনেকেই ভয় পাচ্ছেন যে, এরকম সহিংস ঘটনা পুনরায় ঘটতে পারে। সামাজিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে এই ধরনের সহিংস প্রতিক্রিয়া জনমানসের মধ্যে অস্থিরতা বৃদ্ধি করতে পারে এবং এর কারণে সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি পেতে পারে।

এই ঘটনায় প্রশাসনকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা, সঠিক তদন্ত পরিচালনা ও দোষীদের আইনের আওতায় আনা জরুরি, এমনটাই স্থানীয়দের দাবী।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ