ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

ঠাকুরগাঁওয়ে চাঞ্চল্য

বাসররাতে মুখ ধোয়ার পর কনেকে চিনতে পারছেন না বর


নিজস্ব প্রতিবেদক :
নিজস্ব প্রতিবেদক :
প্রকাশ : ২০ জানুয়ারি ২০২৬

বাসররাতে মুখ ধোয়ার পর কনেকে চিনতে পারছেন না বর

বিয়ের আগে দেখা কনের বদলে বাসর রাতে ভিন্ন নারী দেখতে পাওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে ঠাকুরগাঁওয়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। কনে বদল, যৌতুক দাবি ও প্রতারণার পাল্টাপাল্টি মামলায় শেষ পর্যন্ত জামিন না পেয়ে জেলহাজতে যেতে হয়েছে বরকে।

ভুক্তভোগী বর রায়হান কবিরের অভিযোগ, পারিবারিকভাবে দেখা ও পছন্দ করা কনের পরিবর্তে বাসর রাতে ভিন্ন নারীকে পান তিনি। তবে মেয়ের পরিবার এ অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে একে যৌতুক আদায়ের কৌশল বলে দাবি করেছে।

ঘটনার অভিযুক্ত কনে ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার ভান্ডার এলাকার জিয়ারুল হকের মেয়ে জেমিন আক্তার। তার সঙ্গে বিয়ে হয় পীরগঞ্জ উপজেলার চন্ডিপুর এলাকার মৃত ইব্রাহীমের ছেলে রায়হান কবিরের।

দীর্ঘদিন মীমাংসার চেষ্টা ব্যর্থ হলে বিষয়টি আদালতে গড়ায়। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার (১৯ জানুয়ারি) জামিন নামঞ্জুর হওয়ায় বর রায়হান কবিরকে জেলহাজতে পাঠানো হয়।

ঘটনার সূত্রপাত :

বর পক্ষের অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটক মোতালেবের মাধ্যমে পাত্রী খোঁজার সময় গত জুলাইয়ের শেষ দিকে রাণীশংকৈলের শিবদিঘী এলাকার একটি চায়ের দোকানে কনে দেখানো হয়। পছন্দ হওয়ার পর মেয়ের পরিবার দ্রুত বিয়ের প্রস্তাব দেয় এবং আর নতুন করে মেয়ে দেখার প্রয়োজন নেই জানায়।

বর পক্ষ জানায়, ১ আগস্ট রাত ১১টার দিকে মেয়ের বাড়িতে বিয়ে অনুষ্ঠিত হয়। ভোরে বর-কনে নিজ বাড়িতে ফেরেন। তবে বাসর রাতে বর বুঝতে পারেন, যাকে আগে দেখানো হয়েছিল তিনি এই কনে নন।

বরের মামা বাদল জানান, অতিরিক্ত মেকআপের কারণে বিয়ের রাতে বিষয়টি বোঝা যায়নি। কিন্তু মুখ ধোয়ার পর কনের চেহারা দেখে নিশ্চিত হওয়া যায় কনে বদল হয়েছে। পরদিন মেয়েকে বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

মেয়ের পরিবারের দাবি :

মেয়ের বাবা জিয়ারুল হক বলেন, কনে বদলের অভিযোগ ভিত্তিহীন। ছেলেপক্ষ নিজেরাই বাড়িতে এসে মেয়ে দেখে গেছে এবং বিয়েতে বহু বরযাত্রী উপস্থিত ছিল। তার দাবি, বিয়ের পর ১০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করা হয়। টাকা না দেওয়ায় কনে বদলের মিথ্যা অভিযোগ তোলা হয়েছে।

পাল্টাপাল্টি মামলা :

ঘটনার জেরে গত ২৭ আগস্ট মেয়ের বাবা আদালতে মামলা করেন। পরে ২ সেপ্টেম্বর বর পক্ষও পৃথক মামলা দায়ের করে। উভয় মামলাই বর্তমানে বিচারাধীন।

ঘটক মোতালেব অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, মেয়ের বাড়িতেই কনে দেখানো হয়েছিল এবং পরবর্তী ঘটনায় তিনি জড়িত নন।

আইনজীবীর বক্তব্য :

ঠাকুরগাঁও বার কাউন্সিলের সভাপতি ও বর পক্ষের আইনজীবী জয়নাল আবেদিন বলেন, কনে বদলের অভিযোগে মামলা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে জামিন দেওয়া হলেও মীমাংসা না হওয়ায় বর্তমানে বিচারিক প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

এ ঘটনায় পুরো জেলায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। আদালতের রায়ের দিকেই এখন তাকিয়ে সংশ্লিষ্ট সবাই।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


বাসররাতে মুখ ধোয়ার পর কনেকে চিনতে পারছেন না বর

প্রকাশের তারিখ : ২০ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image

বিয়ের আগে দেখা কনের বদলে বাসর রাতে ভিন্ন নারী দেখতে পাওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে ঠাকুরগাঁওয়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। কনে বদল, যৌতুক দাবি ও প্রতারণার পাল্টাপাল্টি মামলায় শেষ পর্যন্ত জামিন না পেয়ে জেলহাজতে যেতে হয়েছে বরকে।


ভুক্তভোগী বর রায়হান কবিরের অভিযোগ, পারিবারিকভাবে দেখা ও পছন্দ করা কনের পরিবর্তে বাসর রাতে ভিন্ন নারীকে পান তিনি। তবে মেয়ের পরিবার এ অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে একে যৌতুক আদায়ের কৌশল বলে দাবি করেছে।


ঘটনার অভিযুক্ত কনে ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার ভান্ডার এলাকার জিয়ারুল হকের মেয়ে জেমিন আক্তার। তার সঙ্গে বিয়ে হয় পীরগঞ্জ উপজেলার চন্ডিপুর এলাকার মৃত ইব্রাহীমের ছেলে রায়হান কবিরের।


দীর্ঘদিন মীমাংসার চেষ্টা ব্যর্থ হলে বিষয়টি আদালতে গড়ায়। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার (১৯ জানুয়ারি) জামিন নামঞ্জুর হওয়ায় বর রায়হান কবিরকে জেলহাজতে পাঠানো হয়।


ঘটনার সূত্রপাত :

বর পক্ষের অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটক মোতালেবের মাধ্যমে পাত্রী খোঁজার সময় গত জুলাইয়ের শেষ দিকে রাণীশংকৈলের শিবদিঘী এলাকার একটি চায়ের দোকানে কনে দেখানো হয়। পছন্দ হওয়ার পর মেয়ের পরিবার দ্রুত বিয়ের প্রস্তাব দেয় এবং আর নতুন করে মেয়ে দেখার প্রয়োজন নেই জানায়।


বর পক্ষ জানায়, ১ আগস্ট রাত ১১টার দিকে মেয়ের বাড়িতে বিয়ে অনুষ্ঠিত হয়। ভোরে বর-কনে নিজ বাড়িতে ফেরেন। তবে বাসর রাতে বর বুঝতে পারেন, যাকে আগে দেখানো হয়েছিল তিনি এই কনে নন।


বরের মামা বাদল জানান, অতিরিক্ত মেকআপের কারণে বিয়ের রাতে বিষয়টি বোঝা যায়নি। কিন্তু মুখ ধোয়ার পর কনের চেহারা দেখে নিশ্চিত হওয়া যায় কনে বদল হয়েছে। পরদিন মেয়েকে বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।


মেয়ের পরিবারের দাবি :

মেয়ের বাবা জিয়ারুল হক বলেন, কনে বদলের অভিযোগ ভিত্তিহীন। ছেলেপক্ষ নিজেরাই বাড়িতে এসে মেয়ে দেখে গেছে এবং বিয়েতে বহু বরযাত্রী উপস্থিত ছিল। তার দাবি, বিয়ের পর ১০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করা হয়। টাকা না দেওয়ায় কনে বদলের মিথ্যা অভিযোগ তোলা হয়েছে।


পাল্টাপাল্টি মামলা :

ঘটনার জেরে গত ২৭ আগস্ট মেয়ের বাবা আদালতে মামলা করেন। পরে ২ সেপ্টেম্বর বর পক্ষও পৃথক মামলা দায়ের করে। উভয় মামলাই বর্তমানে বিচারাধীন।


ঘটক মোতালেব অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, মেয়ের বাড়িতেই কনে দেখানো হয়েছিল এবং পরবর্তী ঘটনায় তিনি জড়িত নন।


আইনজীবীর বক্তব্য :

ঠাকুরগাঁও বার কাউন্সিলের সভাপতি ও বর পক্ষের আইনজীবী জয়নাল আবেদিন বলেন, কনে বদলের অভিযোগে মামলা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে জামিন দেওয়া হলেও মীমাংসা না হওয়ায় বর্তমানে বিচারিক প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।


এ ঘটনায় পুরো জেলায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। আদালতের রায়ের দিকেই এখন তাকিয়ে সংশ্লিষ্ট সবাই।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ