ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

এলপিজির সংকট মোকাবিলায় সরকারি পর্যায়ে সরাসরি আমদানির উদ্যোগ


অনলাইন ডেস্ক রিপোর্ট
অনলাইন ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ : ১৫ জানুয়ারি ২০২৬

এলপিজির সংকট মোকাবিলায় সরকারি পর্যায়ে সরাসরি আমদানির উদ্যোগ

দেশে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) চলমান সংকট ও অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে সরকারিভাবে সরাসরি এলপিজি আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)।

দেশে এলপিজি সিলিন্ডারের সরবরাহ ঘাটতি ও খুচরা বাজারে মূল্য অস্থিতিশীলতা নিরসনে সরকারিভাবে সরাসরি আমদানির প্রক্রিয়া শুরু করেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বাজারে সিলিন্ডারের সংকট কমার পাশাপাশি দামও কিছুটা স্থিতিশীল হতে পারে।

বিপিসি সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ জানুয়ারি ২০২৬ সালে সরকার থেকে সরকার (জিটুজি) ভিত্তিতে এলপিজি আমদানির অনুমতি চেয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে দেশের এলপিজি বাজারের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে দ্রুত সরকারি উদ্যোগ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করা হয়।

জ্বালানি বিভাগ ও বিপিসির কর্মকর্তারা বলছেন, বর্তমানে দেশের এলপিজি বাজার প্রায় পুরোপুরি বেসরকারি খাতনির্ভর। ফলে খুচরা পর্যায়ে সিলিন্ডারের দামের ওপর সরকারের কার্যকর নিয়ন্ত্রণ নেই। দীর্ঘদিন ধরেই সরবরাহ ঘাটতি ও অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির অভিযোগ উঠে আসছে। এই প্রেক্ষাপটে সরকারি উদ্যোগে এলপিজি আমদানির মাধ্যমে বাজারে ভারসাম্য ফিরিয়ে আনা এবং কৃত্রিম সংকট প্রতিরোধই বিপিসির প্রধান লক্ষ্য।

বিপিসির চেয়ারম্যান মো. আমিন উল আহসান জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগে পাঠানো চিঠিতে উল্লেখ করেন, বর্তমানে বাজারে এলপিজি সিলিন্ডারের তীব্র সংকট ও অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিভিন্ন জটিলতার কারণে অনেক বেসরকারি অপারেটর নিয়মিত আমদানি করতে পারছেন না। এই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে কিছু এলাকায় কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি হচ্ছে বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।

চিঠিতে আরও বলা হয়, সরকারিভাবে এলপিজি আমদানি করা হলে তা বেসরকারি অপারেটরদের মাধ্যমেই দ্রুত বাজারে সরবরাহ করা সম্ভব হবে। এতে করে বাজার স্থিতিশীল রাখতে সরকারের হাতে একটি কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গড়ে উঠবে। তবে বিপিসির নিজস্ব অবকাঠামো না থাকায় বেসরকারি অপারেটরদের টার্মিনাল ও খালাস সুবিধা ব্যবহার করেই এই কার্যক্রম পরিচালনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেন, সরকার ইতোমধ্যে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে জিটুজি ভিত্তিতে এলপিজি আমদানির সম্ভাবনা যাচাই করছে। তিনি জানান, সরকার প্রাথমিকভাবে আমদানির দায়িত্ব নেবে, আর সংরক্ষণ ও বোতলজাতকরণের কাজ বেসরকারি খাতের মাধ্যমেই সম্পন্ন করা হবে।

এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (লোয়াব) সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক বলেন, বর্তমানে নানা কারণে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো এলপিজি আমদানিতে ব্যর্থ হচ্ছে। সরকার যদি নিজ উদ্যোগে আমদানি করতে পারে, তাহলে দেশের ভোক্তারা উপকৃত হবেন। তিনি সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানান।

সংশ্লিষ্টদের তথ্যমতে, বর্তমানে দেশে বছরে প্রায় ১৭ লাখ টন এলপিজির চাহিদা রয়েছে, যার প্রায় ৮০ শতাংশ ব্যবহৃত হয় গৃহস্থালি রান্নায়। সরকার নির্ধারিত ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৩০৬ টাকা হলেও বাস্তবে অনেক এলাকায় এর চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। বিপিসির উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে সরবরাহ বাড়বে এবং ভোক্তারা তুলনামূলক সাশ্রয়ী দামে এলপিজি পাওয়ার প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


এলপিজির সংকট মোকাবিলায় সরকারি পর্যায়ে সরাসরি আমদানির উদ্যোগ

প্রকাশের তারিখ : ১৫ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image

দেশে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) চলমান সংকট ও অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে সরকারিভাবে সরাসরি এলপিজি আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)।

দেশে এলপিজি সিলিন্ডারের সরবরাহ ঘাটতি ও খুচরা বাজারে মূল্য অস্থিতিশীলতা নিরসনে সরকারিভাবে সরাসরি আমদানির প্রক্রিয়া শুরু করেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বাজারে সিলিন্ডারের সংকট কমার পাশাপাশি দামও কিছুটা স্থিতিশীল হতে পারে।

বিপিসি সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ জানুয়ারি ২০২৬ সালে সরকার থেকে সরকার (জিটুজি) ভিত্তিতে এলপিজি আমদানির অনুমতি চেয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে দেশের এলপিজি বাজারের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে দ্রুত সরকারি উদ্যোগ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করা হয়।

জ্বালানি বিভাগ ও বিপিসির কর্মকর্তারা বলছেন, বর্তমানে দেশের এলপিজি বাজার প্রায় পুরোপুরি বেসরকারি খাতনির্ভর। ফলে খুচরা পর্যায়ে সিলিন্ডারের দামের ওপর সরকারের কার্যকর নিয়ন্ত্রণ নেই। দীর্ঘদিন ধরেই সরবরাহ ঘাটতি ও অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির অভিযোগ উঠে আসছে। এই প্রেক্ষাপটে সরকারি উদ্যোগে এলপিজি আমদানির মাধ্যমে বাজারে ভারসাম্য ফিরিয়ে আনা এবং কৃত্রিম সংকট প্রতিরোধই বিপিসির প্রধান লক্ষ্য।

বিপিসির চেয়ারম্যান মো. আমিন উল আহসান জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগে পাঠানো চিঠিতে উল্লেখ করেন, বর্তমানে বাজারে এলপিজি সিলিন্ডারের তীব্র সংকট ও অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিভিন্ন জটিলতার কারণে অনেক বেসরকারি অপারেটর নিয়মিত আমদানি করতে পারছেন না। এই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে কিছু এলাকায় কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি হচ্ছে বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।

চিঠিতে আরও বলা হয়, সরকারিভাবে এলপিজি আমদানি করা হলে তা বেসরকারি অপারেটরদের মাধ্যমেই দ্রুত বাজারে সরবরাহ করা সম্ভব হবে। এতে করে বাজার স্থিতিশীল রাখতে সরকারের হাতে একটি কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গড়ে উঠবে। তবে বিপিসির নিজস্ব অবকাঠামো না থাকায় বেসরকারি অপারেটরদের টার্মিনাল ও খালাস সুবিধা ব্যবহার করেই এই কার্যক্রম পরিচালনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেন, সরকার ইতোমধ্যে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে জিটুজি ভিত্তিতে এলপিজি আমদানির সম্ভাবনা যাচাই করছে। তিনি জানান, সরকার প্রাথমিকভাবে আমদানির দায়িত্ব নেবে, আর সংরক্ষণ ও বোতলজাতকরণের কাজ বেসরকারি খাতের মাধ্যমেই সম্পন্ন করা হবে।

এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (লোয়াব) সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক বলেন, বর্তমানে নানা কারণে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো এলপিজি আমদানিতে ব্যর্থ হচ্ছে। সরকার যদি নিজ উদ্যোগে আমদানি করতে পারে, তাহলে দেশের ভোক্তারা উপকৃত হবেন। তিনি সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানান।

সংশ্লিষ্টদের তথ্যমতে, বর্তমানে দেশে বছরে প্রায় ১৭ লাখ টন এলপিজির চাহিদা রয়েছে, যার প্রায় ৮০ শতাংশ ব্যবহৃত হয় গৃহস্থালি রান্নায়। সরকার নির্ধারিত ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৩০৬ টাকা হলেও বাস্তবে অনেক এলাকায় এর চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। বিপিসির উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে সরবরাহ বাড়বে এবং ভোক্তারা তুলনামূলক সাশ্রয়ী দামে এলপিজি পাওয়ার প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ