গাছের গায়ে পেরেক ঠোকা, বিজ্ঞাপন টানানো বা যেকোনো ধাতব বস্তু ব্যবহারের মাধ্যমে গাছের ক্ষতি ঠেকাতে সরকার নতুন করে ‘বন ও বৃক্ষ সংরক্ষণ অধ্যাদেশ, ২০২৬’ জারি করেছে। মঙ্গলবার আইন মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ থেকে এই অধ্যাদেশের গেজেট প্রকাশ করা হয়। নতুন বিধান অনুযায়ী, গাছে পেরেক লাগালে বা ধাতব বস্তু প্রবেশ করালে সর্বোচ্চ ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হবে।
অধ্যাদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, বহু বছর ধরে শহর ও গ্রামে প্রচারণা, রাজনৈতিক ব্যানার, পোস্টার বা ব্যবসায়িক বিজ্ঞাপন ঝোলানোর উদ্দেশ্যে গাছের গায়ে পেরেক ঠোকা সাধারণ বিষয়ে পরিণত হয়েছে। এতে গাছের বৃদ্ধি ব্যাহত হয়, কখনও কখনও গাছ মারা যায়। পরিবেশ রক্ষা ও বৃক্ষ সংরক্ষণে এ ধরনের কর্মকাণ্ড পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট আদালত আইনভঙ্গকারীর বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ জরিমানা আরোপের ক্ষমতা পাবে।
এছাড়া গাছ কাটার ক্ষেত্রেও কঠোরতা আনা হয়েছে। নিষিদ্ধ তালিকাভুক্ত বা বিপদাপন্ন ঘোষিত গাছ কাটলে সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা জরিমানা, আর অনুমতি সাপেক্ষে কাটা যায় এমন গাছের নিয়ম লঙ্ঘন করলে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা ধার্য করা হয়েছে। ‘বন আইন, ১৯২৭’-এর আওতায় সামাজিক বন, গেজেটভুক্ত বনাঞ্চল, সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের গাছ কাটা বা অপসারণ করতে হলে অবশ্যই বন সংরক্ষণ কর্মকর্তার পূর্বানুমতি বাধ্যতামূলক।
অধ্যাদেশে ব্যক্তিমালিকানাধীন জমির গাছ কাটার প্রক্রিয়াও নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। নির্দিষ্ট ফরমে আবেদন করার পর বন বিভাগের কর্মকর্তারা বিষয়টি যাচাই ও সরেজমিন পরিদর্শন করবেন। এরপর ৩০ দিনের মধ্যে লিখিত সিদ্ধান্ত দেওয়া হবে। অনুমোদন না পাওয়া পর্যন্ত গাছ কাটলে তা আইন লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে।
পরিবেশবিদরা বলছেন, দেশে দ্রুত নগরায়ণ ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের ফলে গাছের ওপর চাপ বাড়ছে। বিশেষ করে রাস্তার ধারের গাছে পেরেক ঠুকে পোস্টার ঝোলানোর কারণে গাছ দুর্বল হয়ে পড়ে। নতুন অধ্যাদেশ পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তারা মনে করছেন। সরকারের পক্ষ থেকেও বৃক্ষ সংরক্ষণে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি আইন প্রয়োগে কঠোর অবস্থানের কথা জানানো হয়েছে।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৭ জানুয়ারি ২০২৬
গাছের গায়ে পেরেক ঠোকা, বিজ্ঞাপন টানানো বা যেকোনো ধাতব বস্তু ব্যবহারের মাধ্যমে গাছের ক্ষতি ঠেকাতে সরকার নতুন করে ‘বন ও বৃক্ষ সংরক্ষণ অধ্যাদেশ, ২০২৬’ জারি করেছে। মঙ্গলবার আইন মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ থেকে এই অধ্যাদেশের গেজেট প্রকাশ করা হয়। নতুন বিধান অনুযায়ী, গাছে পেরেক লাগালে বা ধাতব বস্তু প্রবেশ করালে সর্বোচ্চ ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হবে।
অধ্যাদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, বহু বছর ধরে শহর ও গ্রামে প্রচারণা, রাজনৈতিক ব্যানার, পোস্টার বা ব্যবসায়িক বিজ্ঞাপন ঝোলানোর উদ্দেশ্যে গাছের গায়ে পেরেক ঠোকা সাধারণ বিষয়ে পরিণত হয়েছে। এতে গাছের বৃদ্ধি ব্যাহত হয়, কখনও কখনও গাছ মারা যায়। পরিবেশ রক্ষা ও বৃক্ষ সংরক্ষণে এ ধরনের কর্মকাণ্ড পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট আদালত আইনভঙ্গকারীর বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ জরিমানা আরোপের ক্ষমতা পাবে।
এছাড়া গাছ কাটার ক্ষেত্রেও কঠোরতা আনা হয়েছে। নিষিদ্ধ তালিকাভুক্ত বা বিপদাপন্ন ঘোষিত গাছ কাটলে সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা জরিমানা, আর অনুমতি সাপেক্ষে কাটা যায় এমন গাছের নিয়ম লঙ্ঘন করলে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা ধার্য করা হয়েছে। ‘বন আইন, ১৯২৭’-এর আওতায় সামাজিক বন, গেজেটভুক্ত বনাঞ্চল, সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের গাছ কাটা বা অপসারণ করতে হলে অবশ্যই বন সংরক্ষণ কর্মকর্তার পূর্বানুমতি বাধ্যতামূলক।
অধ্যাদেশে ব্যক্তিমালিকানাধীন জমির গাছ কাটার প্রক্রিয়াও নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। নির্দিষ্ট ফরমে আবেদন করার পর বন বিভাগের কর্মকর্তারা বিষয়টি যাচাই ও সরেজমিন পরিদর্শন করবেন। এরপর ৩০ দিনের মধ্যে লিখিত সিদ্ধান্ত দেওয়া হবে। অনুমোদন না পাওয়া পর্যন্ত গাছ কাটলে তা আইন লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে।
পরিবেশবিদরা বলছেন, দেশে দ্রুত নগরায়ণ ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের ফলে গাছের ওপর চাপ বাড়ছে। বিশেষ করে রাস্তার ধারের গাছে পেরেক ঠুকে পোস্টার ঝোলানোর কারণে গাছ দুর্বল হয়ে পড়ে। নতুন অধ্যাদেশ পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তারা মনে করছেন। সরকারের পক্ষ থেকেও বৃক্ষ সংরক্ষণে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি আইন প্রয়োগে কঠোর অবস্থানের কথা জানানো হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন