ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখ সারির যোদ্ধা শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদির চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলায় পলাতক প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) দুপুরে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতে আনুষ্ঠানিকভাবে এই চার্জশিট জমা দেন।
এদিন মিন্টো রোডের ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করেন ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) প্রধান মো. শফিকুল ইসলাম। তিনি জানান, তদন্তে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় চার্জশিট দেওয়া হয়েছে এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকেই তাজুল ইসলাম বাপ্পির সংশ্লিষ্টতায় এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে।
অভিযুক্ত ফয়সালের ভিডিওবার্তা প্রসঙ্গে ডিবি প্রধান বলেন, ভিডিওবার্তা দেওয়ার সুযোগ থাকলেও তদন্তে তার জড়িত থাকার পর্যাপ্ত প্রমাণ পাওয়া গেছে। এর আগে সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানিয়েছিলেন, হাদি হত্যা মামলার চার্জশিট বুধবারের (৭ জানুয়ারি) মধ্যেই দেওয়া হবে।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে মামলাটি দেখছে এবং দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই সরকারের মেয়াদেই এ হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) এস এন মো. নজরুল ইসলাম জানান, তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এখন পর্যন্ত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ১১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তাদের মধ্যে ছয়জন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
গ্রেফতারদের মধ্যে রয়েছেন মূল পরিকল্পনাকারী ফয়সাল করিম মাসুদের বাবা হুমায়ুন কবির, মা হাসি বেগম, স্ত্রী শাহেদা পারভিন সামিয়া, শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ শিপু, বান্ধবী মারিয়া আক্তার লিমা, পাশাপাশি মো. কবির, নুরুজ্জামান নোমানী ওরফে উজ্জ্বল, সিবিয়ন ডিও, সঞ্জয় চিসিম, আমিনুল ইসলাম রাজু এবং আব্দুল হান্নান।
পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ডটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত। প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর শেখ এখনো পলাতক। তদন্তকালে দুটি বিদেশি পিস্তল, ৫২ রাউন্ড গুলি, একটি মোটরসাইকেল, জাল নম্বরপ্লেট এবং ৫৩টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ২১৮ কোটি টাকার চেক উদ্ধার করা হয়েছে।
ডিবি প্রধান শফিকুল ইসলাম আরও জানান, হত্যাকাণ্ডে জড়িত আরও কয়েকজনকে শনাক্ত করা হয়েছে, তবে তদন্তের স্বার্থে সবার নাম প্রকাশ করা যাচ্ছে না। উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর দুপুর সোয়া দুইটার দিকে পল্টন থানার বিজয়নগর বক্স কালভার্ট রোডে হাদিকে গুলি করা হয়। গুরুতর অবস্থায় তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়।
পরবর্তীতে অবস্থার অবনতি হলে গত ১৫ ডিসেম্বর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। ১৮ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন। পরে তাকে শাহবাগে জাতীয় কবির কবরের পাশে সমাহিত করা হয়।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৬ জানুয়ারি ২০২৬
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখ সারির যোদ্ধা শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদির চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলায় পলাতক প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) দুপুরে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতে আনুষ্ঠানিকভাবে এই চার্জশিট জমা দেন।
এদিন মিন্টো রোডের ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করেন ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) প্রধান মো. শফিকুল ইসলাম। তিনি জানান, তদন্তে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় চার্জশিট দেওয়া হয়েছে এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকেই তাজুল ইসলাম বাপ্পির সংশ্লিষ্টতায় এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে।
অভিযুক্ত ফয়সালের ভিডিওবার্তা প্রসঙ্গে ডিবি প্রধান বলেন, ভিডিওবার্তা দেওয়ার সুযোগ থাকলেও তদন্তে তার জড়িত থাকার পর্যাপ্ত প্রমাণ পাওয়া গেছে। এর আগে সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানিয়েছিলেন, হাদি হত্যা মামলার চার্জশিট বুধবারের (৭ জানুয়ারি) মধ্যেই দেওয়া হবে।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে মামলাটি দেখছে এবং দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই সরকারের মেয়াদেই এ হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) এস এন মো. নজরুল ইসলাম জানান, তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এখন পর্যন্ত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ১১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তাদের মধ্যে ছয়জন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
গ্রেফতারদের মধ্যে রয়েছেন মূল পরিকল্পনাকারী ফয়সাল করিম মাসুদের বাবা হুমায়ুন কবির, মা হাসি বেগম, স্ত্রী শাহেদা পারভিন সামিয়া, শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ শিপু, বান্ধবী মারিয়া আক্তার লিমা, পাশাপাশি মো. কবির, নুরুজ্জামান নোমানী ওরফে উজ্জ্বল, সিবিয়ন ডিও, সঞ্জয় চিসিম, আমিনুল ইসলাম রাজু এবং আব্দুল হান্নান।
পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ডটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত। প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর শেখ এখনো পলাতক। তদন্তকালে দুটি বিদেশি পিস্তল, ৫২ রাউন্ড গুলি, একটি মোটরসাইকেল, জাল নম্বরপ্লেট এবং ৫৩টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ২১৮ কোটি টাকার চেক উদ্ধার করা হয়েছে।
ডিবি প্রধান শফিকুল ইসলাম আরও জানান, হত্যাকাণ্ডে জড়িত আরও কয়েকজনকে শনাক্ত করা হয়েছে, তবে তদন্তের স্বার্থে সবার নাম প্রকাশ করা যাচ্ছে না। উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর দুপুর সোয়া দুইটার দিকে পল্টন থানার বিজয়নগর বক্স কালভার্ট রোডে হাদিকে গুলি করা হয়। গুরুতর অবস্থায় তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়।
পরবর্তীতে অবস্থার অবনতি হলে গত ১৫ ডিসেম্বর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। ১৮ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন। পরে তাকে শাহবাগে জাতীয় কবির কবরের পাশে সমাহিত করা হয়।

আপনার মতামত লিখুন