ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

বিটিআরসি ভাঙচুর : ৫৫ জনের নামসহ অজ্ঞাত ৫০০-৬০০ জনের নামে মামলা


নিজস্ব প্রতিবেদন
নিজস্ব প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০২ জানুয়ারি ২০২৬

বিটিআরসি ভাঙচুর : ৫৫ জনের নামসহ অজ্ঞাত ৫০০-৬০০ জনের নামে মামলা

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) ভবনে ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (NEIR) সিস্টেমের চালু হওয়া উপলক্ষে বৃহস্পতিবার বিকেল আক্রমণ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে, যা আইনশৃঙ্খলা ও বাণিজ্য সম্প্রদায়ের বিরোধের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীর আগারগাঁও এলাকায় এ ঘটনা সংঘটিত হয় যখন মোবাইল ফোন ব্যবসায়ীরা NEIR সিস্টেমের বাস্তবায়নের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে বিক্ষোভ করে এবং এক পর্যায়ে ভবনের কাচ ভাঙচুর করে, ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে এবং অফিসের অভ্যন্তরীণ অংশেও ক্ষতি করে। 

ভাঙচুরের সময় পুলিশ ও র‌্যাবসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং কিছু অস্থিরতা পাঠিয়ে দেয়। অভিযোগ রয়েছে, মোবাইল ব্যবসায়ীদের সংগঠিত বিক্ষোভের পাশাপাশি কিছু অননুমোদিত ব্যক্তি এ হামলায় জড়িত হয়েছে, যদিও ব্যবসায়ী নেতারা বলেন তারা নিজরা কোনো সহিংসতায় অংশ নেননি। 

সরকারি ও স্থানীয় পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শের-এ-বাংলা নগর থানায় ৫৫ জনের নাম উল্লেখ করে এবং প্রায় ৫০০-৬০০ অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে, যেখানে ভাঙচুর, সরকারি সম্পত্তি ক্ষতি ও অশান্তি সৃষ্টির মতো অভিযোগ অন্তর্ভুক্ত। এই মামলায় সহায়তা বা সংগঠনে জড়িত বলে সন্দেহভাজন হিসেবে অজ্ঞাতদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, এবং পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থা তাদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য কাজ করছে। 

ঘটনাটি উপেক্ষা করে NEIR সিস্টেম বৃহস্পতিবার থেকেই কার্যকর করা হয়েছে, যার আওতায় মোবাইল ফোনগুলোকে সরকার অনুমোদিত ডাটাবেসে নিবন্ধন করার বাধ্যতামূলক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, অবৈধ ও চোরাইভাবে আমদানি করা মোবাইল ফোনগুলি NEIR সিস্টেমে না থাকলে তারা স্থানীয় নেটওয়ার্কে সংযোগ করতে পারবে না, এবং এটি গ্রাহক নিরাপত্তা, সেবা মান ও কর অব্যবস্থাপনা রোধে সহায়তা করবে। 

বিক্ষোভ ও হামলার পেছনের কারণ হিসেবে ব্যবসায়ীরা উল্লেখ করেছেন যে, NEIR বাস্তবায়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নিয়ম ও করনীতি তাদের জন্য অসম্ভাব্যভাবে কঠিন এবং তাদের ব্যবসায় বিপর্যয় সৃষ্টি করতে পারে। তারা দাবি করেছে যে সরকার পূর্বে তাদের হাতে তিন মাসের মতো ‘গ্রেস পিরিয়ড’ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, যা হঠাৎ করে বাতিল হয়ে যাওয়ায় এই উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। 

বিটিআরসি এবং সরকারের কর্মকর্তারা টেলিযোগাযোগ বাজারকে নিয়মিত করার বাস্তব প্রয়োজনে NEIR সিস্টেম চালু করার পক্ষে সচেতনতা ব্যক্ত করেছেন এবং বলেছেন যে প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থার আওতায় থাকা সত্ত্বেও সহিংসতা বরদাস্তযোগ্য নয়। ক্ষেত্রের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং প্রশাসন পরিস্থিতি শীতল করার পাশাপাশি তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে, এবং ভবিষ্যতে আরও গ্রেপ্তারির সম্ভাবনাও দেখাচ্ছে। 

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


বিটিআরসি ভাঙচুর : ৫৫ জনের নামসহ অজ্ঞাত ৫০০-৬০০ জনের নামে মামলা

প্রকাশের তারিখ : ০২ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) ভবনে ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (NEIR) সিস্টেমের চালু হওয়া উপলক্ষে বৃহস্পতিবার বিকেল আক্রমণ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে, যা আইনশৃঙ্খলা ও বাণিজ্য সম্প্রদায়ের বিরোধের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীর আগারগাঁও এলাকায় এ ঘটনা সংঘটিত হয় যখন মোবাইল ফোন ব্যবসায়ীরা NEIR সিস্টেমের বাস্তবায়নের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে বিক্ষোভ করে এবং এক পর্যায়ে ভবনের কাচ ভাঙচুর করে, ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে এবং অফিসের অভ্যন্তরীণ অংশেও ক্ষতি করে। 

ভাঙচুরের সময় পুলিশ ও র‌্যাবসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং কিছু অস্থিরতা পাঠিয়ে দেয়। অভিযোগ রয়েছে, মোবাইল ব্যবসায়ীদের সংগঠিত বিক্ষোভের পাশাপাশি কিছু অননুমোদিত ব্যক্তি এ হামলায় জড়িত হয়েছে, যদিও ব্যবসায়ী নেতারা বলেন তারা নিজরা কোনো সহিংসতায় অংশ নেননি। 

সরকারি ও স্থানীয় পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শের-এ-বাংলা নগর থানায় ৫৫ জনের নাম উল্লেখ করে এবং প্রায় ৫০০-৬০০ অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে, যেখানে ভাঙচুর, সরকারি সম্পত্তি ক্ষতি ও অশান্তি সৃষ্টির মতো অভিযোগ অন্তর্ভুক্ত। এই মামলায় সহায়তা বা সংগঠনে জড়িত বলে সন্দেহভাজন হিসেবে অজ্ঞাতদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, এবং পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থা তাদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য কাজ করছে। 

ঘটনাটি উপেক্ষা করে NEIR সিস্টেম বৃহস্পতিবার থেকেই কার্যকর করা হয়েছে, যার আওতায় মোবাইল ফোনগুলোকে সরকার অনুমোদিত ডাটাবেসে নিবন্ধন করার বাধ্যতামূলক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, অবৈধ ও চোরাইভাবে আমদানি করা মোবাইল ফোনগুলি NEIR সিস্টেমে না থাকলে তারা স্থানীয় নেটওয়ার্কে সংযোগ করতে পারবে না, এবং এটি গ্রাহক নিরাপত্তা, সেবা মান ও কর অব্যবস্থাপনা রোধে সহায়তা করবে। 

বিক্ষোভ ও হামলার পেছনের কারণ হিসেবে ব্যবসায়ীরা উল্লেখ করেছেন যে, NEIR বাস্তবায়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নিয়ম ও করনীতি তাদের জন্য অসম্ভাব্যভাবে কঠিন এবং তাদের ব্যবসায় বিপর্যয় সৃষ্টি করতে পারে। তারা দাবি করেছে যে সরকার পূর্বে তাদের হাতে তিন মাসের মতো ‘গ্রেস পিরিয়ড’ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, যা হঠাৎ করে বাতিল হয়ে যাওয়ায় এই উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। 

বিটিআরসি এবং সরকারের কর্মকর্তারা টেলিযোগাযোগ বাজারকে নিয়মিত করার বাস্তব প্রয়োজনে NEIR সিস্টেম চালু করার পক্ষে সচেতনতা ব্যক্ত করেছেন এবং বলেছেন যে প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থার আওতায় থাকা সত্ত্বেও সহিংসতা বরদাস্তযোগ্য নয়। ক্ষেত্রের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং প্রশাসন পরিস্থিতি শীতল করার পাশাপাশি তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে, এবং ভবিষ্যতে আরও গ্রেপ্তারির সম্ভাবনাও দেখাচ্ছে। 


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ