নববর্ষের আগের রাত ছড়িয়ে ছিল উৎসব ও আনন্দে; কিন্তু একই সময় চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মো. জাহিদুল ইসলাম মিঞা মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। গভীর রাতে শীতার্ত ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে তিনি সরকারি বাসভবন থেকে বের হয়ে নগরীর বিভিন্ন স্থানে নিজ হাতে কম্বল বিতরণ করেন, যেগুলো তিনি সরাসরি ঘুমে থাকা পথশিশু, ভিক্ষুক ও স্থায়ী আবাসহীন মানুষদের শরীরে জড়িয়ে দেন।
রাতের অন্ধকারে যখন শহর প্রায় ঘুমিয়ে পড়েছিল, তখন ডিসির নজরে পড়ে ষোলশহর রেলওয়ে স্টেশনের পাশে শীতের কনকনে রাতে কাঁপতে থাকা দুই পথশিশু—ঝুমুর ও শাহীন। তাদের পাশে দাঁড়িয়ে দীর্ঘক্ষণ কথা বলার পর নিজের হাতেই তাদের গায়ে কম্বল জড়িয়ে দেন তিনি। ছিন্নমূল শিশুদের না খেয়ে থাকার কথা শুনে ডিসি তাৎক্ষণিকভাবে তাদের রাতের খাবারের জন্য আর্থিক সহায়তাও প্রদান করেন।
শুধু পথশিশুরাই নয়, ডিসি নগরীর মহসীন কলেজ এলাকায় শারীরিক প্রতিবন্ধী আব্দুল মজিদ ও তার সাত বছর বয়সী কন্যা ইয়াসমিন-এর ক্ষেত্রেও মানবিক দৃষ্টি রাখেন। ফুটপাতে বসে থাকা এই বাবা-মেয়ের সঙ্গেও দীর্ঘক্ষণ কথা বলার পর তিনি তাদের পুনর্বাসনের জন্য জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে যোগাযোগের আহ্বান জানান এবং ভবিষ্যতে সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেন।
ডিসি উল্লেখ করেন, শীতার্ত মানুষের কষ্ট শুধু তাদের ব্যক্তিগত নয়, এটি সমাজের দায়িত্ব এবং প্রশাসনের নৈতিক কর্তব্য। তিনি বলেন, “থার্টি ফার্স্ট নাইট উদযাপনে শহরের অনেক মানুষ লাখ লাখ টাকা খরচ করবেন, অথচ কিছু শিশু একবেলা খাবারও পায় না—এটা একজন মানুষ হিসেবে আমাকে অত্যন্ত কষ্ট দেয়।”
এদিন নগরীর বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ৬০০টি কম্বল অসহায়দের মাঝে বিতরণ করা হয়। কম্বলগুলো গিয়েছে দামপাড়া গরীবউল্লাহ মাজার এলাকা, ষোলশহর রেলস্টেশন, মুরাদপুর, চকবাজার, চেরাগী পাহাড় মোড়, লালদিঘী এলাকা ও জেল রোডের আমানত শাহ মাজার এলাকা সহ বিভিন্ন স্থানে। ডিসি নিজেই ঘুরে ঘুরে ভাসমান, দরিদ্র ও প্রতিবন্ধী মানুষের কাছে এসব শীতবস্ত্র পৌঁছে দেন এবং তাদের খোঁজ-খবর নেন।
এই উদ্যোগ শুধু কম্বল বিতরণেই সীমাবদ্ধ ছিল না; ডিসি এই মানবিক কার্যক্রমকে শীতের কঠিন পরিস্থিতিতে মানুষের জন্য আশার বার্তা হিসেবে উল্লেখ করেন এবং বলেন, প্রশাসনের দায়িত্ব শুধু কাজের তালিকা নয়, মানবিক সহানুভূতিও তার অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০১ জানুয়ারি ২০২৬
নববর্ষের আগের রাত ছড়িয়ে ছিল উৎসব ও আনন্দে; কিন্তু একই সময় চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মো. জাহিদুল ইসলাম মিঞা মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। গভীর রাতে শীতার্ত ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে তিনি সরকারি বাসভবন থেকে বের হয়ে নগরীর বিভিন্ন স্থানে নিজ হাতে কম্বল বিতরণ করেন, যেগুলো তিনি সরাসরি ঘুমে থাকা পথশিশু, ভিক্ষুক ও স্থায়ী আবাসহীন মানুষদের শরীরে জড়িয়ে দেন।
রাতের অন্ধকারে যখন শহর প্রায় ঘুমিয়ে পড়েছিল, তখন ডিসির নজরে পড়ে ষোলশহর রেলওয়ে স্টেশনের পাশে শীতের কনকনে রাতে কাঁপতে থাকা দুই পথশিশু—ঝুমুর ও শাহীন। তাদের পাশে দাঁড়িয়ে দীর্ঘক্ষণ কথা বলার পর নিজের হাতেই তাদের গায়ে কম্বল জড়িয়ে দেন তিনি। ছিন্নমূল শিশুদের না খেয়ে থাকার কথা শুনে ডিসি তাৎক্ষণিকভাবে তাদের রাতের খাবারের জন্য আর্থিক সহায়তাও প্রদান করেন।
শুধু পথশিশুরাই নয়, ডিসি নগরীর মহসীন কলেজ এলাকায় শারীরিক প্রতিবন্ধী আব্দুল মজিদ ও তার সাত বছর বয়সী কন্যা ইয়াসমিন-এর ক্ষেত্রেও মানবিক দৃষ্টি রাখেন। ফুটপাতে বসে থাকা এই বাবা-মেয়ের সঙ্গেও দীর্ঘক্ষণ কথা বলার পর তিনি তাদের পুনর্বাসনের জন্য জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে যোগাযোগের আহ্বান জানান এবং ভবিষ্যতে সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেন।
ডিসি উল্লেখ করেন, শীতার্ত মানুষের কষ্ট শুধু তাদের ব্যক্তিগত নয়, এটি সমাজের দায়িত্ব এবং প্রশাসনের নৈতিক কর্তব্য। তিনি বলেন, “থার্টি ফার্স্ট নাইট উদযাপনে শহরের অনেক মানুষ লাখ লাখ টাকা খরচ করবেন, অথচ কিছু শিশু একবেলা খাবারও পায় না—এটা একজন মানুষ হিসেবে আমাকে অত্যন্ত কষ্ট দেয়।”
এদিন নগরীর বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ৬০০টি কম্বল অসহায়দের মাঝে বিতরণ করা হয়। কম্বলগুলো গিয়েছে দামপাড়া গরীবউল্লাহ মাজার এলাকা, ষোলশহর রেলস্টেশন, মুরাদপুর, চকবাজার, চেরাগী পাহাড় মোড়, লালদিঘী এলাকা ও জেল রোডের আমানত শাহ মাজার এলাকা সহ বিভিন্ন স্থানে। ডিসি নিজেই ঘুরে ঘুরে ভাসমান, দরিদ্র ও প্রতিবন্ধী মানুষের কাছে এসব শীতবস্ত্র পৌঁছে দেন এবং তাদের খোঁজ-খবর নেন।
এই উদ্যোগ শুধু কম্বল বিতরণেই সীমাবদ্ধ ছিল না; ডিসি এই মানবিক কার্যক্রমকে শীতের কঠিন পরিস্থিতিতে মানুষের জন্য আশার বার্তা হিসেবে উল্লেখ করেন এবং বলেন, প্রশাসনের দায়িত্ব শুধু কাজের তালিকা নয়, মানবিক সহানুভূতিও তার অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ।

আপনার মতামত লিখুন