এক-এগারোর সরকারের সময় নির্যাতনের শিকার হয়ে চিকিৎসার জন্য লন্ডন যাত্রা করেছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এরপর পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের নানা রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রে দীর্ঘ সময় প্রবাস জীবন কাটাতে বাধ্য হন তিনি। অবশেষে দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশের মাটিতে পা রাখলেন তারেক রহমান।
প্রয়াত সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমানকে বহনকারী বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইটটি বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) বেলা ১১টা ৪৫ মিনিটে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
তারেক রহমানের সঙ্গে স্থায়ীভাবে দেশে ফিরেছেন তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান এবং একমাত্র কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। বিমানবন্দর থেকে বেরিয়ে তারা নির্ধারিত কর্মসূচিতে অংশ নেবেন বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।
বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিমানবন্দর থেকে বুলেটপ্রুফ গাড়িতে করে তারেক রহমান ৩০০ ফিট এলাকায় আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। সেখানে তিনি একমাত্র বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখবেন। সংবর্ধনা শেষে তিনি এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মা খালেদা জিয়াকে দেখতে যাবেন।
এর আগে বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ সময় রাত আটটার পর লন্ডনের বাসা থেকে রওনা হয়ে হিথ্রো বিমানবন্দরে পৌঁছান তারেক রহমান ও তার পরিবার। রাত সোয়া ১২টায় তাদের বহনকারী ফ্লাইটটি বাংলাদেশের উদ্দেশে যাত্রা করে। দুবাই হয়ে প্রথমে সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রা বিরতি দিয়ে পরে ঢাকায় পৌঁছায় বিমানটি।
দেশে অবস্থানকালে শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) তিনি বাবা জিয়াউর রহমানের কবর জিয়ারত করবেন। এরপর সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন। একই দিনে শহীদ শরীফ ওসমান হাদির কবর জিয়ারতের কথাও রয়েছে তার কর্মসূচিতে।
তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে ৩০০ ফিট এলাকায় তৈরি করা হয়েছে বিশাল মঞ্চ। বুধবার সকাল থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিএনপির লাখো নেতাকর্মী সেখানে জড়ো হন। এলাকাটি জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে।
২০০৮ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে কারাবন্দি অবস্থায় নির্যাতনের শিকার হন তারেক রহমান। সে বছরের ৩ সেপ্টেম্বর তিনি সব মামলায় জামিন পান এবং ১১ সেপ্টেম্বর উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডনে যান। এরপর দীর্ঘ সময় দেশে ফিরতে পারেননি।
গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তার দেশে ফেরার পথ সুগম হয়। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে জন্মভূমিতে ফিরলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান।
দলীয় নেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, তারেক রহমানকে কেন্দ্র করেই বিএনপি আগামী দিনের রাজনৈতিক পথচলা নির্ধারণ করছে। তারা বলছেন, তার প্রত্যাবর্তনের মধ্য দিয়ে দেশে গণতান্ত্রিক রাজনীতির নতুন অধ্যায় শুরু হবে।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫
এক-এগারোর সরকারের সময় নির্যাতনের শিকার হয়ে চিকিৎসার জন্য লন্ডন যাত্রা করেছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এরপর পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের নানা রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রে দীর্ঘ সময় প্রবাস জীবন কাটাতে বাধ্য হন তিনি। অবশেষে দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশের মাটিতে পা রাখলেন তারেক রহমান।
প্রয়াত সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমানকে বহনকারী বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইটটি বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) বেলা ১১টা ৪৫ মিনিটে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
তারেক রহমানের সঙ্গে স্থায়ীভাবে দেশে ফিরেছেন তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান এবং একমাত্র কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। বিমানবন্দর থেকে বেরিয়ে তারা নির্ধারিত কর্মসূচিতে অংশ নেবেন বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।
বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিমানবন্দর থেকে বুলেটপ্রুফ গাড়িতে করে তারেক রহমান ৩০০ ফিট এলাকায় আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। সেখানে তিনি একমাত্র বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখবেন। সংবর্ধনা শেষে তিনি এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মা খালেদা জিয়াকে দেখতে যাবেন।
এর আগে বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ সময় রাত আটটার পর লন্ডনের বাসা থেকে রওনা হয়ে হিথ্রো বিমানবন্দরে পৌঁছান তারেক রহমান ও তার পরিবার। রাত সোয়া ১২টায় তাদের বহনকারী ফ্লাইটটি বাংলাদেশের উদ্দেশে যাত্রা করে। দুবাই হয়ে প্রথমে সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রা বিরতি দিয়ে পরে ঢাকায় পৌঁছায় বিমানটি।
দেশে অবস্থানকালে শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) তিনি বাবা জিয়াউর রহমানের কবর জিয়ারত করবেন। এরপর সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন। একই দিনে শহীদ শরীফ ওসমান হাদির কবর জিয়ারতের কথাও রয়েছে তার কর্মসূচিতে।
তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে ৩০০ ফিট এলাকায় তৈরি করা হয়েছে বিশাল মঞ্চ। বুধবার সকাল থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিএনপির লাখো নেতাকর্মী সেখানে জড়ো হন। এলাকাটি জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে।
২০০৮ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে কারাবন্দি অবস্থায় নির্যাতনের শিকার হন তারেক রহমান। সে বছরের ৩ সেপ্টেম্বর তিনি সব মামলায় জামিন পান এবং ১১ সেপ্টেম্বর উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডনে যান। এরপর দীর্ঘ সময় দেশে ফিরতে পারেননি।
গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তার দেশে ফেরার পথ সুগম হয়। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে জন্মভূমিতে ফিরলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান।
দলীয় নেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, তারেক রহমানকে কেন্দ্র করেই বিএনপি আগামী দিনের রাজনৈতিক পথচলা নির্ধারণ করছে। তারা বলছেন, তার প্রত্যাবর্তনের মধ্য দিয়ে দেশে গণতান্ত্রিক রাজনীতির নতুন অধ্যায় শুরু হবে।

আপনার মতামত লিখুন