হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে আর দালালদের প্রতারণার শিকার হতে হবে না—এমন আশার আলো দেখছেন কিশোরগঞ্জবাসী। দীর্ঘদিনের অভিযোগ ও ভুক্তভোগী রোগীদের ক্ষোভের পর অবশেষে কিশোরগঞ্জের প্রধান দুই চিকিৎসা কেন্দ্রে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়েছে জেলা পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থা (ডিবি)।
আজ মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর ) কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল এবং শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এক যৌথ অভিযান পরিচালনা করে দালাল চক্রের ১৭ জন সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের এই আকস্মিক ও দৃঢ় পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছে সচেতন নাগরিক সমাজ।
জেলার সাধারণ ও দূর-দূরান্ত থেকে আসা দরিদ্র রোগীরা দীর্ঘদিন ধরে এই দুই হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা নিতে এসে নানা হয়রানির শিকার হচ্ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, দালাল চক্রের সদস্যরা রোগীদের বিভ্রান্ত করে সরকারি বিনামূল্যে পাওয়ার সুবিধা থেকে বঞ্চিত করত এবং বেশি কমিশনের লোভে বিভিন্ন বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ক্লিনিকে নিয়ে গিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিত। অনেক সময় সঠিক সময়ে উন্নত চিকিৎসা না পেয়ে বিপদে পড়তেন রোগীরা। সাধারণ মানুষের এ দুর্ভোগ দূর করতেই জেলা পুলিশ প্রশাসন এই বড় ধরনের অ্যাকশনে নামে।
অভিযান শেষে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান সাংবাদিকদের বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে জানান, "হাসপাতাল হচ্ছে সাধারণ ও অসহায় মানুষের চিকিৎসাপ্রাপ্তির অন্যতম প্রধান ভরসাস্থল। সেখানে কোনো ধরনের চাঁদাবাজি, জালিয়াতি বা দালালদের দৌরাত্ম্য সহ্য করা হবে না। প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে ডিবি পুলিশ ও জেলা পুলিশের যৌথ টিম একযোগে দুই হাসপাতালে ঝটিকা অভিযান চালায় এবং হাতেনাতে ১৭ জন দালালকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।" পুলিশ সুপার আরও দৃঢ়তার সঙ্গে স্পষ্ট করেন যে, স্বাস্থ্যখাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে পুলিশ প্রশাসন জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। এই ধরনের অভিযান ভবিষ্যতে আরও জোড়ালোভাবে অব্যাহত থাকবে এবং কোনো প্রভাবশালী চক্রকেও ছাড় দেওয়া হবে না।
ডিবি ও জেলা পুলিশের এই ঝটিকা অভিযানে সাধারণ রোগী ও স্বজনদের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। জেলার সচেতন নাগরিক সমাজ পুলিশের এ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে সাধুবাদ প্রস্তাব করেছেন। স্থানীয় এক বিশিষ্ট নাগরিক বলেন, "সরকারি হাসপাতালে সাধারণ মানুষের সহজ সেবা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। পুলিশ প্রশাসনের এই উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। তবে খেয়াল রাখতে হবে, কিছুদিন পর যেন এই চক্রগুলো আবারও সক্রিয় হতে না পারে। সেজন্য হাসপাতালের নিয়মিত নজরদারি রক্ষা করা দরকার।"
গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। একইসঙ্গে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাথে সমন্বয় করে ভবিষ্যতে সাধারণ রোগীরা যেন নির্বিঘ্নে ও নিরাপদে সেবা গ্রহণ করতে পারেন, সেই পরিবেশ তৈরির অঙ্গীকার করেছে পুলিশ প্রশাসন। পুলিশের এই দৃশ্যমান পদক্ষেপে পুরো জেলায় ইতিবাচক আলোড়ন তৈরি হয়েছে।

মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে আর দালালদের প্রতারণার শিকার হতে হবে না—এমন আশার আলো দেখছেন কিশোরগঞ্জবাসী। দীর্ঘদিনের অভিযোগ ও ভুক্তভোগী রোগীদের ক্ষোভের পর অবশেষে কিশোরগঞ্জের প্রধান দুই চিকিৎসা কেন্দ্রে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়েছে জেলা পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থা (ডিবি)।
আজ মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর ) কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল এবং শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এক যৌথ অভিযান পরিচালনা করে দালাল চক্রের ১৭ জন সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের এই আকস্মিক ও দৃঢ় পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছে সচেতন নাগরিক সমাজ।
জেলার সাধারণ ও দূর-দূরান্ত থেকে আসা দরিদ্র রোগীরা দীর্ঘদিন ধরে এই দুই হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা নিতে এসে নানা হয়রানির শিকার হচ্ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, দালাল চক্রের সদস্যরা রোগীদের বিভ্রান্ত করে সরকারি বিনামূল্যে পাওয়ার সুবিধা থেকে বঞ্চিত করত এবং বেশি কমিশনের লোভে বিভিন্ন বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ক্লিনিকে নিয়ে গিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিত। অনেক সময় সঠিক সময়ে উন্নত চিকিৎসা না পেয়ে বিপদে পড়তেন রোগীরা। সাধারণ মানুষের এ দুর্ভোগ দূর করতেই জেলা পুলিশ প্রশাসন এই বড় ধরনের অ্যাকশনে নামে।
অভিযান শেষে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান সাংবাদিকদের বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে জানান, "হাসপাতাল হচ্ছে সাধারণ ও অসহায় মানুষের চিকিৎসাপ্রাপ্তির অন্যতম প্রধান ভরসাস্থল। সেখানে কোনো ধরনের চাঁদাবাজি, জালিয়াতি বা দালালদের দৌরাত্ম্য সহ্য করা হবে না। প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে ডিবি পুলিশ ও জেলা পুলিশের যৌথ টিম একযোগে দুই হাসপাতালে ঝটিকা অভিযান চালায় এবং হাতেনাতে ১৭ জন দালালকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।" পুলিশ সুপার আরও দৃঢ়তার সঙ্গে স্পষ্ট করেন যে, স্বাস্থ্যখাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে পুলিশ প্রশাসন জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। এই ধরনের অভিযান ভবিষ্যতে আরও জোড়ালোভাবে অব্যাহত থাকবে এবং কোনো প্রভাবশালী চক্রকেও ছাড় দেওয়া হবে না।
ডিবি ও জেলা পুলিশের এই ঝটিকা অভিযানে সাধারণ রোগী ও স্বজনদের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। জেলার সচেতন নাগরিক সমাজ পুলিশের এ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে সাধুবাদ প্রস্তাব করেছেন। স্থানীয় এক বিশিষ্ট নাগরিক বলেন, "সরকারি হাসপাতালে সাধারণ মানুষের সহজ সেবা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। পুলিশ প্রশাসনের এই উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। তবে খেয়াল রাখতে হবে, কিছুদিন পর যেন এই চক্রগুলো আবারও সক্রিয় হতে না পারে। সেজন্য হাসপাতালের নিয়মিত নজরদারি রক্ষা করা দরকার।"
গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। একইসঙ্গে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাথে সমন্বয় করে ভবিষ্যতে সাধারণ রোগীরা যেন নির্বিঘ্নে ও নিরাপদে সেবা গ্রহণ করতে পারেন, সেই পরিবেশ তৈরির অঙ্গীকার করেছে পুলিশ প্রশাসন। পুলিশের এই দৃশ্যমান পদক্ষেপে পুরো জেলায় ইতিবাচক আলোড়ন তৈরি হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন