ঢাকা    শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

পোরশায় নকল নবীস আমির উদ্দিন বাবু সাময়িক বরখাস্ত



পোরশায় নকল নবীস আমির উদ্দিন বাবু সাময়িক বরখাস্ত
বালাম বইয়ে নথি টেম্পারিংয়ের অভিযোগ, তদন্ত চলছে: জেলা রেজিস্ট্রার অফিস সূত্র

নওগাঁর পোরশা উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের নকল নবীস আমির উদ্দিন বাবুকে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নথিতে কাটাছেঁড়া বা টেম্পারিংয়ের অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই ঘটনায় আরও দুজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয় বলে জেলা রেজিস্ট্রার অফিস সূত্রে জানা গেছে।

জেলা রেজিস্ট্রার অফিস সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য ও সংশ্লিষ্ট নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২৯ মে পোরশা উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয় থেকে একটি চিঠি জেলা রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে পাঠানো হয়। ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ১৪২১/৪৭১ নম্বর বালাম বইয়ের একটি স্থানে ‘১২৫’ সংখ্যাটি কেটে ‘১৩৫’ করা হয়েছে।

গুরুত্বপূর্ণ সরকারি রেকর্ডে এ ধরনের পরিবর্তনের বিষয়টি নজরে আসার পর পোরশা সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয় থেকে রেকর্ডরুমের রেজিস্টার যাচাই করা হয়। রেজিস্টার পর্যালোচনায় দেখা যায়, সংশ্লিষ্ট বালামটি পর্যায়ক্রমে ইসমত আলী, রাবেয়া বেগম এবং সর্বশেষ ২০২৫ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি নকল নবীস আমির উদ্দিন বাবু বের করেছিলেন।

এরপর সংশ্লিষ্ট তিনজনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। তাদের দাখিল করা জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় তাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয় বলে জেলা রেজিস্ট্রার অফিস সূত্রে জানা গেছে।

পরবর্তীতে জেলা রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের নির্দেশে বিষয়টি তদন্তের জন্য ধামইরহাটের সংশ্লিষ্ট রেজিস্ট্রারের কাছে পাঠানো হয়। তদন্তের সময় সংশ্লিষ্ট নথির হাতের লেখা ও অন্যান্য বিষয় পর্যালোচনা করা হলেও বিষয়টি বৈজ্ঞানিকভাবে নিশ্চিত হওয়ার প্রয়োজন দেখা দেয়। এ কারণে ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে বিষয়টি যাচাই করার সুপারিশ করে জেলা রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে প্রতিবেদন দেওয়া হয়।

পরে অধিকতর তদন্তের জন্য বিষয়টি মান্দার সংশ্লিষ্ট রেজিস্ট্রারের কাছে পাঠানো হয়েছে বলে জেলা রেজিস্ট্রার অফিস সূত্রে জানা গেছে। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে এবং কথিত নথি টেম্পারিংয়ের সঙ্গে কারা সরাসরি জড়িত সে বিষয়ে তদন্তের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়নি।

এদিকে, গত ২৩ আগস্ট ২০২৬ পোরশা সদর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে কথিত দালাল সিন্ডিকেট নিয়ে সংবাদ সংগ্রহের সময় আমির উদ্দিন বাবুসহ কয়েকজনের উপস্থিতি দেখা যায়। পরে ওই ভূমি অফিসকেন্দ্রিক দালাল সিন্ডিকেটের অভিযোগ নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়।

স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযোগ করেন, আমির উদ্দিন বাবু সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন ভূমি অফিসে দালালি করেন এবং ভূমি-সংক্রান্ত কাজে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করেন। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

নথি টেম্পারিং এবং দালালি সংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে আমির উদ্দিন বাবুর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

জেলা রেজিস্ট্রার সাইফুল ইসলাম জানান, ইতিমধ্যেই অভিযুক্তদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা এবং নিয়মিত মামলা করা হবে।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬


পোরশায় নকল নবীস আমির উদ্দিন বাবু সাময়িক বরখাস্ত

প্রকাশের তারিখ : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

নওগাঁর পোরশা উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের নকল নবীস আমির উদ্দিন বাবুকে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নথিতে কাটাছেঁড়া বা টেম্পারিংয়ের অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই ঘটনায় আরও দুজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয় বলে জেলা রেজিস্ট্রার অফিস সূত্রে জানা গেছে।


জেলা রেজিস্ট্রার অফিস সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য ও সংশ্লিষ্ট নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২৯ মে পোরশা উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয় থেকে একটি চিঠি জেলা রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে পাঠানো হয়। ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ১৪২১/৪৭১ নম্বর বালাম বইয়ের একটি স্থানে ‘১২৫’ সংখ্যাটি কেটে ‘১৩৫’ করা হয়েছে।


গুরুত্বপূর্ণ সরকারি রেকর্ডে এ ধরনের পরিবর্তনের বিষয়টি নজরে আসার পর পোরশা সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয় থেকে রেকর্ডরুমের রেজিস্টার যাচাই করা হয়। রেজিস্টার পর্যালোচনায় দেখা যায়, সংশ্লিষ্ট বালামটি পর্যায়ক্রমে ইসমত আলী, রাবেয়া বেগম এবং সর্বশেষ ২০২৫ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি নকল নবীস আমির উদ্দিন বাবু বের করেছিলেন।


এরপর সংশ্লিষ্ট তিনজনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। তাদের দাখিল করা জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় তাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয় বলে জেলা রেজিস্ট্রার অফিস সূত্রে জানা গেছে।


পরবর্তীতে জেলা রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের নির্দেশে বিষয়টি তদন্তের জন্য ধামইরহাটের সংশ্লিষ্ট রেজিস্ট্রারের কাছে পাঠানো হয়। তদন্তের সময় সংশ্লিষ্ট নথির হাতের লেখা ও অন্যান্য বিষয় পর্যালোচনা করা হলেও বিষয়টি বৈজ্ঞানিকভাবে নিশ্চিত হওয়ার প্রয়োজন দেখা দেয়। এ কারণে ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে বিষয়টি যাচাই করার সুপারিশ করে জেলা রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে প্রতিবেদন দেওয়া হয়।


পরে অধিকতর তদন্তের জন্য বিষয়টি মান্দার সংশ্লিষ্ট রেজিস্ট্রারের কাছে পাঠানো হয়েছে বলে জেলা রেজিস্ট্রার অফিস সূত্রে জানা গেছে। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে এবং কথিত নথি টেম্পারিংয়ের সঙ্গে কারা সরাসরি জড়িত সে বিষয়ে তদন্তের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়নি।


এদিকে, গত ২৩ আগস্ট ২০২৬ পোরশা সদর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে কথিত দালাল সিন্ডিকেট নিয়ে সংবাদ সংগ্রহের সময় আমির উদ্দিন বাবুসহ কয়েকজনের উপস্থিতি দেখা যায়। পরে ওই ভূমি অফিসকেন্দ্রিক দালাল সিন্ডিকেটের অভিযোগ নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়।


স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযোগ করেন, আমির উদ্দিন বাবু সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন ভূমি অফিসে দালালি করেন এবং ভূমি-সংক্রান্ত কাজে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করেন। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।


নথি টেম্পারিং এবং দালালি সংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে আমির উদ্দিন বাবুর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


জেলা রেজিস্ট্রার সাইফুল ইসলাম জানান, ইতিমধ্যেই অভিযুক্তদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা এবং নিয়মিত মামলা করা হবে।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ