দুর্নীতির বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ জোরদার এবং স্থানীয় পর্যায়ে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার প্রত্যয়ে কিশোরগঞ্জে অনুষ্ঠিত হয়েছে দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনের অভিজ্ঞতা বিনিময় ও দিকনির্দেশনামূলক মতবিনিময় সভা। ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে দৃঢ়ভাবে একসঙ্গে’—এই প্রত্যয়কে সামনে রেখে কিশোরগঞ্জ শহরের সিটি কনভেনশন হলে সচেতন নাগরিক কমিটির (সনাক) উদ্যোগে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে শিক্ষাবিদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা, সাংবাদিক, মানবাধিকার কর্মী, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি ও তরুণরা অংশ নেন। সভায় সরকারি সেবা খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার পাশাপাশি দুর্নীতি প্রতিরোধে নাগরিকদের আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে স্থানীয় পর্যায়ে নাগরিক নজরদারি বাড়ানো এবং সাধারণ মানুষকে তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করার ওপর গুরুত্ব দেন বক্তারা। কিশোরগঞ্জ সচেতন নাগরিক কমিটির (সনাক) সভাপতি স্বপন কুমার বর্মনের সভাপতিত্বে সভায় ঢাকা ও স্থানীয় পর্যায়ের সামাজিক আন্দোলনের প্রতিনিধিরা নিজেদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, স্থানীয় সরকারসহ বিভিন্ন সরকারি সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের নানা প্রতিবন্ধকতা এবং সম্মিলিত নাগরিক উদ্যোগের মাধ্যমে সেগুলো মোকাবিলার বিষয় আলোচনায় উঠে আসে। সনাক সভাপতি স্বপন কুমার বর্মন বলেন, “দুর্নীতি কোনো বিচ্ছিন্ন বিষয় নয়, এটি একটি মারাত্মক সামাজিক ব্যাধি। এটি প্রতিরোধে কেবল সরকারি প্রতিষ্ঠান বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর নির্ভর করে হাত গুটিয়ে বসে থাকলে চলবে না। নাগরিকদের সজাগ সচেতনতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণই মূল চাবিকাঠি।” তিনি আরও বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলন শক্তিশালী করতে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ও আপসহীন ভূমিকা পালন করতে হবে। শিক্ষাবিদ ও বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক আবদুল গণি দুর্নীতিবিরোধী সামাজিক আন্দোলনের নৈতিক গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, দুর্নীতি প্রতিরোধে শুধু আইন প্রয়োগ যথেষ্ট নয়। সর্বস্তরে একটি প্রতিরোধমূলক সামাজিক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। সচেতন ও দায়িত্বশীল নাগরিক সমাজ দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হলে অন্যায়ের বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তোলা সম্ভব। ঢাকা ক্লাস্টার কো-অর্ডিনেটর আতিকুর রহমান সাধারণ মানুষকে তাদের নাগরিক অধিকার সম্পর্কে সচেতন করার ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, “সরকারি সেবা কোনো দয়া বা করুণা নয়, এটি নাগরিকদের প্রাপ্য অধিকার। মানুষের ভেতর দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার সাহস তৈরি করাই আমাদের লক্ষ্য।” জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও সনাকের সাবেক সভাপতি সাইফুল হক মোল্লা দুলু বলেন, দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গড়ার প্রচেষ্টা শুধু সভা-সমাবেশ ও বক্তব্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে হবে না। সাধারণ মানুষকে সচেতন করা, সরকারি সেবা গ্রহণে সহযোগিতা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে বাস্তবভিত্তিক কার্যক্রম বাড়াতে হবে। সভায় আরও বক্তব্য দেন ও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা ক্লাস্টার কো-অর্ডিনেটর মাহা-উল হক, নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) জেলা শাখার সভাপতি ও সাবেক ব্যাংকার ফিরোজ উদ্দিন ভূঞা, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) জেলা শাখার সভাপতি অ্যাডভোকেট হামিদা বেগম, সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবুল কাসেম এবং সাংবাদিক মনিরুজ্জামান চৌধুরী সোহেল। এ ছাড়া সনাক, ইউইডস (YES) ও এসিজি (ACG)-এর তরুণ সদস্যরা সভায় অংশ নিয়ে ভবিষ্যতে আরও সমন্বিতভাবে দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়ে মতামত তুলে ধরেন। সভায় স্থানীয় পর্যায়ে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সেবাদান প্রক্রিয়ায় নাগরিক নজরদারি বৃদ্ধি, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে আইনগত ও নাগরিক অধিকার সম্পর্কে সচেতন করা, দুর্নীতির বিরুদ্ধে সর্বস্তরের মানুষকে সম্পৃক্ত করে সামাজিক প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলা এবং স্থানীয় সামাজিক সংগঠনগুলোর যৌথ অংশগ্রহণে কার্যক্রম পরিচালনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানের শেষভাগে অংশগ্রহণকারীরা দুর্নীতির বিরুদ্ধে সম্মিলিতভাবে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় স্থানীয় পর্যায় থেকে নাগরিক অংশগ্রহণ আরও শক্তিশালী করার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন তারা।

বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
দুর্নীতির বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ জোরদার এবং স্থানীয় পর্যায়ে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার প্রত্যয়ে কিশোরগঞ্জে অনুষ্ঠিত হয়েছে দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনের অভিজ্ঞতা বিনিময় ও দিকনির্দেশনামূলক মতবিনিময় সভা। ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে দৃঢ়ভাবে একসঙ্গে’—এই প্রত্যয়কে সামনে রেখে কিশোরগঞ্জ শহরের সিটি কনভেনশন হলে সচেতন নাগরিক কমিটির (সনাক) উদ্যোগে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে শিক্ষাবিদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা, সাংবাদিক, মানবাধিকার কর্মী, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি ও তরুণরা অংশ নেন। সভায় সরকারি সেবা খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার পাশাপাশি দুর্নীতি প্রতিরোধে নাগরিকদের আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে স্থানীয় পর্যায়ে নাগরিক নজরদারি বাড়ানো এবং সাধারণ মানুষকে তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করার ওপর গুরুত্ব দেন বক্তারা। কিশোরগঞ্জ সচেতন নাগরিক কমিটির (সনাক) সভাপতি স্বপন কুমার বর্মনের সভাপতিত্বে সভায় ঢাকা ও স্থানীয় পর্যায়ের সামাজিক আন্দোলনের প্রতিনিধিরা নিজেদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, স্থানীয় সরকারসহ বিভিন্ন সরকারি সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের নানা প্রতিবন্ধকতা এবং সম্মিলিত নাগরিক উদ্যোগের মাধ্যমে সেগুলো মোকাবিলার বিষয় আলোচনায় উঠে আসে। সনাক সভাপতি স্বপন কুমার বর্মন বলেন, “দুর্নীতি কোনো বিচ্ছিন্ন বিষয় নয়, এটি একটি মারাত্মক সামাজিক ব্যাধি। এটি প্রতিরোধে কেবল সরকারি প্রতিষ্ঠান বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর নির্ভর করে হাত গুটিয়ে বসে থাকলে চলবে না। নাগরিকদের সজাগ সচেতনতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণই মূল চাবিকাঠি।” তিনি আরও বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলন শক্তিশালী করতে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ও আপসহীন ভূমিকা পালন করতে হবে। শিক্ষাবিদ ও বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক আবদুল গণি দুর্নীতিবিরোধী সামাজিক আন্দোলনের নৈতিক গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, দুর্নীতি প্রতিরোধে শুধু আইন প্রয়োগ যথেষ্ট নয়। সর্বস্তরে একটি প্রতিরোধমূলক সামাজিক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। সচেতন ও দায়িত্বশীল নাগরিক সমাজ দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হলে অন্যায়ের বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তোলা সম্ভব। ঢাকা ক্লাস্টার কো-অর্ডিনেটর আতিকুর রহমান সাধারণ মানুষকে তাদের নাগরিক অধিকার সম্পর্কে সচেতন করার ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, “সরকারি সেবা কোনো দয়া বা করুণা নয়, এটি নাগরিকদের প্রাপ্য অধিকার। মানুষের ভেতর দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার সাহস তৈরি করাই আমাদের লক্ষ্য।” জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও সনাকের সাবেক সভাপতি সাইফুল হক মোল্লা দুলু বলেন, দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গড়ার প্রচেষ্টা শুধু সভা-সমাবেশ ও বক্তব্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে হবে না। সাধারণ মানুষকে সচেতন করা, সরকারি সেবা গ্রহণে সহযোগিতা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে বাস্তবভিত্তিক কার্যক্রম বাড়াতে হবে। সভায় আরও বক্তব্য দেন ও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা ক্লাস্টার কো-অর্ডিনেটর মাহা-উল হক, নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) জেলা শাখার সভাপতি ও সাবেক ব্যাংকার ফিরোজ উদ্দিন ভূঞা, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) জেলা শাখার সভাপতি অ্যাডভোকেট হামিদা বেগম, সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবুল কাসেম এবং সাংবাদিক মনিরুজ্জামান চৌধুরী সোহেল। এ ছাড়া সনাক, ইউইডস (YES) ও এসিজি (ACG)-এর তরুণ সদস্যরা সভায় অংশ নিয়ে ভবিষ্যতে আরও সমন্বিতভাবে দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়ে মতামত তুলে ধরেন। সভায় স্থানীয় পর্যায়ে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সেবাদান প্রক্রিয়ায় নাগরিক নজরদারি বৃদ্ধি, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে আইনগত ও নাগরিক অধিকার সম্পর্কে সচেতন করা, দুর্নীতির বিরুদ্ধে সর্বস্তরের মানুষকে সম্পৃক্ত করে সামাজিক প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলা এবং স্থানীয় সামাজিক সংগঠনগুলোর যৌথ অংশগ্রহণে কার্যক্রম পরিচালনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানের শেষভাগে অংশগ্রহণকারীরা দুর্নীতির বিরুদ্ধে সম্মিলিতভাবে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় স্থানীয় পর্যায় থেকে নাগরিক অংশগ্রহণ আরও শক্তিশালী করার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন তারা।

আপনার মতামত লিখুন