মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার কাউয়াদীঘি হাওরের ভুড়ভুড়ি বিলকে দুই ভাগে বিভক্ত করেছে মৌলভীবাজার-রাজনগর খেয়াঘাট সড়ক। এ সড়কের পাশাপাশি থাকা দুটি সেতু, চারপাশের সবুজ বৃক্ষরাজি আর বিস্তীর্ণ জলরাশির মনোরম দৃশ্যকে ঘিরে গড়ে উঠেছে নতুন পর্যটন স্পট। স্থানীয়ভাবে জায়গাটি এখন ‘জোড়া ব্রিজ’ নামে পরিচিত।
পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে স্থানীয় যুবকেরা সেতু দুটি বর্ণিল রঙে সাজিয়েছেন। প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে বিকেল হলেই বিভিন্ন এলাকা থেকে পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের নিয়ে এখানে ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুম ও ছুটির দিনে পর্যটকদের উপস্থিতি বেড়ে যায়।
রাজনগর উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের মেদিনীমহল গ্রামের পাশে মৌলভীবাজার-রাজনগর খেয়াঘাট সড়কের মাঝামাঝি এলাকায় জোড়া সেতুটির অবস্থান। সড়কটি সোজা করার লক্ষ্যে পুরোনো সেতুর পাশে নতুন আরেকটি সেতু নির্মাণ করা হলে ধীরে ধীরে এলাকাটি ‘জোড়া ব্রিজ’ নামে পরিচিত হয়ে ওঠে।
সেতুর দুই পাশে বিস্তীর্ণ জলরাশি আর আশপাশে চাম্বলসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছপালা এলাকাটিকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে। গাছের ছায়ায় বসে হাওরের সৌন্দর্য উপভোগের পাশাপাশি নৌকায় ঘুরে বেড়ানোর সুযোগও পাচ্ছেন পর্যটকেরা।
পর্যটকদের আনাগোনা বাড়ায় সেখানে গড়ে উঠেছে কয়েকটি ভাসমান ও ছোট দোকান। চটপটি, শরবত, চা, পান-সিগারেটসহ বিভিন্ন পণ্যের দোকানে বিকেল থেকে বাড়তে থাকে ব্যস্ততা। কেউ কেউ নৌকায় করে পর্যটকদের হাওরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরিয়ে দেখাচ্ছেন। এর মাধ্যমে স্থানীয় কয়েকজন বেকার যুবকের কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হয়েছে।
ছোঁয়াবালি গ্রামের বাসিন্দা শাহীনুল আলম বলেন, ভুড়ভুড়ি বিলের জোড়া ব্রিজ এলাকাটি সবুজ ও ছায়াঘেরা। বর্ষায় শাপলা-শালুকের মধ্যে জলের বুকে দূরের ঘরবাড়িগুলো বিচ্ছিন্ন দ্বীপের মতো দেখায়। আবার শুষ্ক মৌসুমে চারপাশের সবুজ ধানক্ষেত এবং বৈশাখে পাকা ধানের সোনালি আভায় পুরো এলাকা ভিন্ন রূপ ধারণ করে।
তিনি জানান, দূরদূরান্ত থেকে ভ্রমণপিপাসুরা পরিবার ও বন্ধুদের নিয়ে এখানে বেড়াতে আসেন। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে শুক্র ও শনিবারসহ ছুটির দিনগুলোতে প্রকৃতিপ্রেমীদের ভিড় তুলনামূলক বেশি থাকে।
স্থানীয় শরবত ও পান-সিগারেট বিক্রেতা মিজু মিয়া বলেন, বর্ষার পানি থাকা পর্যন্ত পর্যটকদের ভিড় বেশি থাকে। পর্যটকদের সুবিধার্থে সরকারিভাবে একটি গণশৌচাগার ও বিশ্রামের জন্য একটি শেড নির্মাণ করা হলে এখানে দর্শনার্থীর সংখ্যা আরও বাড়বে।
তবে পর্যটকদের আনাগোনা বাড়লেও প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর অভাব রয়েছে। বিশেষ করে এলাকায় কোনো গণশৌচাগার না থাকায় নারী দর্শনার্থীদের বেশি সমস্যায় পড়তে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
মৌলভীবাজার জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. মিজানুর রহমান মিজান বলেন, জনসাধারণের দুর্ভোগ লাঘবে জেলা পরিষদ কাজ করে থাকে। রাজনগরের মৌলভীবাজার-খেয়াঘাট সড়কের জোড়া সেতু এলাকায় পর্যটকদের নিয়মিত যাতায়াত থাকলে সেখানে গণশৌচাগার নির্মাণসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, পরিকল্পিতভাবে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা ও অবকাঠামো গড়ে তোলা হলে ভুড়ভুড়ি বিলের জোড়া ব্রিজ এলাকাটি রাজনগরের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন স্পটে পরিণত হতে পারে। একই সঙ্গে পর্যটনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও আরও বাড়ার সুযোগ রয়েছে।

বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার কাউয়াদীঘি হাওরের ভুড়ভুড়ি বিলকে দুই ভাগে বিভক্ত করেছে মৌলভীবাজার-রাজনগর খেয়াঘাট সড়ক। এ সড়কের পাশাপাশি থাকা দুটি সেতু, চারপাশের সবুজ বৃক্ষরাজি আর বিস্তীর্ণ জলরাশির মনোরম দৃশ্যকে ঘিরে গড়ে উঠেছে নতুন পর্যটন স্পট। স্থানীয়ভাবে জায়গাটি এখন ‘জোড়া ব্রিজ’ নামে পরিচিত।
পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে স্থানীয় যুবকেরা সেতু দুটি বর্ণিল রঙে সাজিয়েছেন। প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে বিকেল হলেই বিভিন্ন এলাকা থেকে পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের নিয়ে এখানে ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুম ও ছুটির দিনে পর্যটকদের উপস্থিতি বেড়ে যায়।
রাজনগর উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের মেদিনীমহল গ্রামের পাশে মৌলভীবাজার-রাজনগর খেয়াঘাট সড়কের মাঝামাঝি এলাকায় জোড়া সেতুটির অবস্থান। সড়কটি সোজা করার লক্ষ্যে পুরোনো সেতুর পাশে নতুন আরেকটি সেতু নির্মাণ করা হলে ধীরে ধীরে এলাকাটি ‘জোড়া ব্রিজ’ নামে পরিচিত হয়ে ওঠে।
সেতুর দুই পাশে বিস্তীর্ণ জলরাশি আর আশপাশে চাম্বলসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছপালা এলাকাটিকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে। গাছের ছায়ায় বসে হাওরের সৌন্দর্য উপভোগের পাশাপাশি নৌকায় ঘুরে বেড়ানোর সুযোগও পাচ্ছেন পর্যটকেরা।
পর্যটকদের আনাগোনা বাড়ায় সেখানে গড়ে উঠেছে কয়েকটি ভাসমান ও ছোট দোকান। চটপটি, শরবত, চা, পান-সিগারেটসহ বিভিন্ন পণ্যের দোকানে বিকেল থেকে বাড়তে থাকে ব্যস্ততা। কেউ কেউ নৌকায় করে পর্যটকদের হাওরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরিয়ে দেখাচ্ছেন। এর মাধ্যমে স্থানীয় কয়েকজন বেকার যুবকের কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হয়েছে।
ছোঁয়াবালি গ্রামের বাসিন্দা শাহীনুল আলম বলেন, ভুড়ভুড়ি বিলের জোড়া ব্রিজ এলাকাটি সবুজ ও ছায়াঘেরা। বর্ষায় শাপলা-শালুকের মধ্যে জলের বুকে দূরের ঘরবাড়িগুলো বিচ্ছিন্ন দ্বীপের মতো দেখায়। আবার শুষ্ক মৌসুমে চারপাশের সবুজ ধানক্ষেত এবং বৈশাখে পাকা ধানের সোনালি আভায় পুরো এলাকা ভিন্ন রূপ ধারণ করে।
তিনি জানান, দূরদূরান্ত থেকে ভ্রমণপিপাসুরা পরিবার ও বন্ধুদের নিয়ে এখানে বেড়াতে আসেন। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে শুক্র ও শনিবারসহ ছুটির দিনগুলোতে প্রকৃতিপ্রেমীদের ভিড় তুলনামূলক বেশি থাকে।
স্থানীয় শরবত ও পান-সিগারেট বিক্রেতা মিজু মিয়া বলেন, বর্ষার পানি থাকা পর্যন্ত পর্যটকদের ভিড় বেশি থাকে। পর্যটকদের সুবিধার্থে সরকারিভাবে একটি গণশৌচাগার ও বিশ্রামের জন্য একটি শেড নির্মাণ করা হলে এখানে দর্শনার্থীর সংখ্যা আরও বাড়বে।
তবে পর্যটকদের আনাগোনা বাড়লেও প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর অভাব রয়েছে। বিশেষ করে এলাকায় কোনো গণশৌচাগার না থাকায় নারী দর্শনার্থীদের বেশি সমস্যায় পড়তে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
মৌলভীবাজার জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. মিজানুর রহমান মিজান বলেন, জনসাধারণের দুর্ভোগ লাঘবে জেলা পরিষদ কাজ করে থাকে। রাজনগরের মৌলভীবাজার-খেয়াঘাট সড়কের জোড়া সেতু এলাকায় পর্যটকদের নিয়মিত যাতায়াত থাকলে সেখানে গণশৌচাগার নির্মাণসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, পরিকল্পিতভাবে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা ও অবকাঠামো গড়ে তোলা হলে ভুড়ভুড়ি বিলের জোড়া ব্রিজ এলাকাটি রাজনগরের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন স্পটে পরিণত হতে পারে। একই সঙ্গে পর্যটনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও আরও বাড়ার সুযোগ রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন