ঢাকা    রোববার, ৩০ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সেপ্টেম্বর থেকে পর্যায়ক্রমে ছয় মাসে' দুই লাখ কর্মীর মালয়েশিয়ায় যাওয়ার সুযোগ, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফর,বাংলাদেশের স্বার্থে নতুন সম্ভাবনার দ্বার

খুলছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার,ছয় মাসে যাবে ২ লাখ কর্মী


আমিনুল হক ভূইয়া
আমিনুল হক ভূইয়া
প্রকাশ : ৩০ আগস্ট ২০২৬

খুলছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার,ছয় মাসে যাবে ২ লাখ কর্মী

বাংলাদেশের মতো জনবহুল দেশের কর্মীদের জন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শ্রমবাজার উন্মুক্ত করা অর্থনৈতিক গতিশীলতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সরকারের এমন উদ্যোগে সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। বিশেষ করে প্রায় দুই বছর বন্ধ থাকার পর মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার আবারও বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য উন্মুক্ত হওয়ার খবরে আশাবাদ তৈরি হয়েছে। সেপ্টেম্বর থেকে পর্যায়ক্রমে আগামী ছয় মাসে প্রায় দুই লাখ বাংলাদেশি কর্মীর মালয়েশিয়ায় যাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে একদিকে যেমন বিপুলসংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে, অন্যদিকে দেশে বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

তবে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর ইতিহাসে বারবার ছন্দপতন ঘটেছে। অনিয়ম, দুর্নীতি, মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্যসহ নানা অভিযোগে বিভিন্ন সময়ে এই শ্রমবাজার বন্ধ হয়েছে। প্রথমবার ২০০৮-০৯ সালের দিকে অনিয়মের অভিযোগে মালয়েশিয়া বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেওয়া বন্ধ করে দেয়। দীর্ঘ বিরতির পর ২০১৬ সালে বাজারটি ফের চালু হয়। এরপর ২০১৮ সালে দুর্নীতির অভিযোগে দ্বিতীয়বারের মতো বাংলাদেশিদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বন্ধ হয়ে যায়। প্রায় চার বছর বন্ধ থাকার পর ২০২২ সালের আগস্টে পুনরায় কর্মী পাঠানো শুরু হয়।

সর্বশেষ ২০২৪ সালের ১ জুন থেকে বাংলাদেশিদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার আবারও স্থগিত হয়ে যায়। ফলে প্রায় দুই বছর ধরে নতুন করে কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া বন্ধ ছিল। এবার বাজারটি পুনরায় চালুর সুযোগকে কাজে লাগাতে হলে অতীতের অনিয়ম ও দুর্নীতির পুনরাবৃত্তি ঠেকানো জরুরি। কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও হয়রানিমুক্ত করা গেলে এই শ্রমবাজার বাংলাদেশের অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।

গত ১৭ ফেব্রুয়ারি মাসের তারেক রহমান  প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম বিদেশ সফরের অংশ হিসেবে ২১ ও ২২ জুন ২০২৬ মালয়েশিয়া সফর করেন। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে দুই দিনের এই রাষ্ট্রীয় সফর দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও গভীর করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সফরের অন্যতম প্রধান দিক ছিল দ্বিপক্ষীয় বৈঠক। ২২ জুন পুত্রাজায়ায় প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

সেই বৈঠকে বিশেষ গুরুত্ব পায় বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানি ও শ্রমবাজার। মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ বৃদ্ধি, অভিবাসী শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত করা এবং তাদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা জোরদারের বিষয়টি আলোচনায় গুরুত্ব পায়। বাংলাদেশের বিপুল কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর জন্য এটি নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে। এছাড়া বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, সেমিকন্ডাক্টর, জ্বালানি, কৃষি ও শিক্ষা খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে দুই দেশ ঐকমত্যে পৌঁছায়। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক স্বার্থ, কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগ সম্ভাবনা বিবেচনায় এ সফরকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা যায়।

এদিকে রবিবার সচিবালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার মোহাম্মদ সুহাদা ওসমান স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানান, ঢাকায় নিযুক্ত মালয়েশিয়ার হাইকমিশনারের সঙ্গে  ফলপ্রসূ বৈঠক হয়েছে।  এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ থেকে পর্যায়ক্রমে দুই লাখ কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়ে ৬  মাসের মধ্যে প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। 

প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশ থেকে যে জনশক্তি রপ্তানি হবে, সেটি সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ থেকে পর্যায়ক্রমে শুরু হবে এবং আগামী ৬ মাসের মধ্যে এটি সমাপ্ত হবে বলে উনি (হাইকমিশনার) জানিয়েছেন। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে দুই লাখ কর্মী পাঠানোর বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, টোটাল তো ২ লাখ যাবে তাদের তালিকাভুক্ত কোম্পানির মাধ্যমে। এর বাইরে আরও ১০ হাজার শ্রমিক বিনা খরচে মালয়েশিয়া নেবে। বর্তমানে মালয়েশিয়ায় প্রায় আট লাখ নিবন্ধিত বাংলাদেশি জনশক্তি রয়েছে এবং সেখানে অবস্থানরত অনিবন্ধিত শ্রমিকদের নিবন্ধনের প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে। বৈঠকে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়ার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও কার্যকর অর্থনৈতিক অংশীদারত্বে রূপ দেওয়ার বিষয়ে উভয়পক্ষ আগ্রহ প্রকাশ করে।

জনশক্তি পাঠানোর সঙ্গে যুক্ত রেজাউ করিম বলেন, সিন্ডিকেট ছাড়া বাংলাদেশি শ্রমিক বা কর্মী মালয়েশিয়ায় পাঠানো সম্ভব নয়। ২০১৭ সালেও সিন্ডিকেটের বাইরে কোনো বাংলাদেশি কর্মী মালয়েশিয়ায় যেতে পারেননি। এবারও বাংলাদেশি ২৫টি এজেন্সির সমন্বয়ে সিন্ডিকেট গঠিত হয়েছে। তাদের অধীনে রয়েছে প্রায় ২০০ থেকে ২৫০টি সাব-সিন্ডিকেট বা এজেন্ট। তারাই সমন্বয়ের মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠাবেন। এ প্রক্রিয়ায় সরকারের তেমন কিছু করার সুযোগ নেই বলেও দাবি করেন তিনি। রেজাউ করিম বলেন, এর আগে বাংলাদেশ সিন্ডিকেট ব্যবস্থা মেনে না নেওয়ায় নেপালসহ বিভিন্ন দেশের কর্মীদের মালয়েশিয়ায় নেওয়া হয়েছিল। 


দাতো আমিনের কব্জায় মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার?


মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালুর উদ্যোগকে ঘিরে নতুন করে আলোচনায় এসেছে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মালয়েশিয়ান ব্যবসায়ী দাতো সেরি আবদুল আমিন। অভিযোগ উঠেছে, তাঁর প্রতিষ্ঠান ‘বেস্টিনেট’ ও ‘সিনারফ্ল্যাক্স’-এর সফটওয়্যার ব্যবস্থা এফডব্লিউসিএমএস (FWCMS) এবং সংশ্লিষ্ট এজেন্সি তালিকাকে কেন্দ্র করে পুরোনো সিন্ডিকেট ব্যবস্থা আবারও সক্রিয় হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। জনশক্তি রপ্তানিকারকদের একটি অংশের দাবি, মালয়েশিয়া সরকারের নির্বাচিত ২৫টি রিক্রুটিং এজেন্সির তালিকা ও শ্রমিক নিয়োগের প্রক্রিয়া এমনভাবে সাজানো হচ্ছে, যাতে শেষ পর্যন্ত দাতো আমিনের প্রভাবাধীন পুরোনো নেটওয়ার্কের নিয়ন্ত্রণই প্রতিষ্ঠিত হয়। তাদের আশঙ্কা, এমন ব্যবস্থা কার্যকর হলে শ্রমিকদের অভিবাসন ব্যয় বাড়তে পারে এবং সীমিত কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের হাতে ব্যবসা কেন্দ্রীভূত হওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তবে এসব অভিযোগের বিপরীতে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া সরকারের পক্ষ থেকে ২০২৬ সালের আগস্টের শেষ সপ্তাহে বলা হয়েছে, এবার স্বচ্ছ ও নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশি কর্মী মালয়েশিয়ায় পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ফলে প্রশ্ন উঠছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার কি সত্যিই এবার উন্মুক্ত ও স্বচ্ছ প্রতিযোগিতার পথে যাচ্ছে, নাকি পুরোনো প্রভাবশালী মহলের নিয়ন্ত্রণেই থেকে যাচ্ছে? শ্রমিক ও রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর স্বার্থে এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও অভিবাসন ব্যয় নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

রোববার, ৩০ আগস্ট ২০২৬


খুলছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার,ছয় মাসে যাবে ২ লাখ কর্মী

প্রকাশের তারিখ : ৩০ আগস্ট ২০২৬

featured Image

বাংলাদেশের মতো জনবহুল দেশের কর্মীদের জন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শ্রমবাজার উন্মুক্ত করা অর্থনৈতিক গতিশীলতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সরকারের এমন উদ্যোগে সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। বিশেষ করে প্রায় দুই বছর বন্ধ থাকার পর মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার আবারও বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য উন্মুক্ত হওয়ার খবরে আশাবাদ তৈরি হয়েছে। সেপ্টেম্বর থেকে পর্যায়ক্রমে আগামী ছয় মাসে প্রায় দুই লাখ বাংলাদেশি কর্মীর মালয়েশিয়ায় যাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে একদিকে যেমন বিপুলসংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে, অন্যদিকে দেশে বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

তবে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর ইতিহাসে বারবার ছন্দপতন ঘটেছে। অনিয়ম, দুর্নীতি, মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্যসহ নানা অভিযোগে বিভিন্ন সময়ে এই শ্রমবাজার বন্ধ হয়েছে। প্রথমবার ২০০৮-০৯ সালের দিকে অনিয়মের অভিযোগে মালয়েশিয়া বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেওয়া বন্ধ করে দেয়। দীর্ঘ বিরতির পর ২০১৬ সালে বাজারটি ফের চালু হয়। এরপর ২০১৮ সালে দুর্নীতির অভিযোগে দ্বিতীয়বারের মতো বাংলাদেশিদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বন্ধ হয়ে যায়। প্রায় চার বছর বন্ধ থাকার পর ২০২২ সালের আগস্টে পুনরায় কর্মী পাঠানো শুরু হয়।

সর্বশেষ ২০২৪ সালের ১ জুন থেকে বাংলাদেশিদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার আবারও স্থগিত হয়ে যায়। ফলে প্রায় দুই বছর ধরে নতুন করে কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া বন্ধ ছিল। এবার বাজারটি পুনরায় চালুর সুযোগকে কাজে লাগাতে হলে অতীতের অনিয়ম ও দুর্নীতির পুনরাবৃত্তি ঠেকানো জরুরি। কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও হয়রানিমুক্ত করা গেলে এই শ্রমবাজার বাংলাদেশের অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।

গত ১৭ ফেব্রুয়ারি মাসের তারেক রহমান  প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম বিদেশ সফরের অংশ হিসেবে ২১ ও ২২ জুন ২০২৬ মালয়েশিয়া সফর করেন। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে দুই দিনের এই রাষ্ট্রীয় সফর দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও গভীর করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সফরের অন্যতম প্রধান দিক ছিল দ্বিপক্ষীয় বৈঠক। ২২ জুন পুত্রাজায়ায় প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

সেই বৈঠকে বিশেষ গুরুত্ব পায় বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানি ও শ্রমবাজার। মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ বৃদ্ধি, অভিবাসী শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত করা এবং তাদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা জোরদারের বিষয়টি আলোচনায় গুরুত্ব পায়। বাংলাদেশের বিপুল কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর জন্য এটি নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে। এছাড়া বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, সেমিকন্ডাক্টর, জ্বালানি, কৃষি ও শিক্ষা খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে দুই দেশ ঐকমত্যে পৌঁছায়। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক স্বার্থ, কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগ সম্ভাবনা বিবেচনায় এ সফরকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা যায়।

এদিকে রবিবার সচিবালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার মোহাম্মদ সুহাদা ওসমান স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানান, ঢাকায় নিযুক্ত মালয়েশিয়ার হাইকমিশনারের সঙ্গে  ফলপ্রসূ বৈঠক হয়েছে।  এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ থেকে পর্যায়ক্রমে দুই লাখ কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়ে ৬  মাসের মধ্যে প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। 

প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশ থেকে যে জনশক্তি রপ্তানি হবে, সেটি সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ থেকে পর্যায়ক্রমে শুরু হবে এবং আগামী ৬ মাসের মধ্যে এটি সমাপ্ত হবে বলে উনি (হাইকমিশনার) জানিয়েছেন। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে দুই লাখ কর্মী পাঠানোর বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, টোটাল তো ২ লাখ যাবে তাদের তালিকাভুক্ত কোম্পানির মাধ্যমে। এর বাইরে আরও ১০ হাজার শ্রমিক বিনা খরচে মালয়েশিয়া নেবে। বর্তমানে মালয়েশিয়ায় প্রায় আট লাখ নিবন্ধিত বাংলাদেশি জনশক্তি রয়েছে এবং সেখানে অবস্থানরত অনিবন্ধিত শ্রমিকদের নিবন্ধনের প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে। বৈঠকে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়ার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও কার্যকর অর্থনৈতিক অংশীদারত্বে রূপ দেওয়ার বিষয়ে উভয়পক্ষ আগ্রহ প্রকাশ করে।

জনশক্তি পাঠানোর সঙ্গে যুক্ত রেজাউ করিম বলেন, সিন্ডিকেট ছাড়া বাংলাদেশি শ্রমিক বা কর্মী মালয়েশিয়ায় পাঠানো সম্ভব নয়। ২০১৭ সালেও সিন্ডিকেটের বাইরে কোনো বাংলাদেশি কর্মী মালয়েশিয়ায় যেতে পারেননি। এবারও বাংলাদেশি ২৫টি এজেন্সির সমন্বয়ে সিন্ডিকেট গঠিত হয়েছে। তাদের অধীনে রয়েছে প্রায় ২০০ থেকে ২৫০টি সাব-সিন্ডিকেট বা এজেন্ট। তারাই সমন্বয়ের মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠাবেন। এ প্রক্রিয়ায় সরকারের তেমন কিছু করার সুযোগ নেই বলেও দাবি করেন তিনি। রেজাউ করিম বলেন, এর আগে বাংলাদেশ সিন্ডিকেট ব্যবস্থা মেনে না নেওয়ায় নেপালসহ বিভিন্ন দেশের কর্মীদের মালয়েশিয়ায় নেওয়া হয়েছিল। 


দাতো আমিনের কব্জায় মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার?


মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালুর উদ্যোগকে ঘিরে নতুন করে আলোচনায় এসেছে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মালয়েশিয়ান ব্যবসায়ী দাতো সেরি আবদুল আমিন। অভিযোগ উঠেছে, তাঁর প্রতিষ্ঠান ‘বেস্টিনেট’ ও ‘সিনারফ্ল্যাক্স’-এর সফটওয়্যার ব্যবস্থা এফডব্লিউসিএমএস (FWCMS) এবং সংশ্লিষ্ট এজেন্সি তালিকাকে কেন্দ্র করে পুরোনো সিন্ডিকেট ব্যবস্থা আবারও সক্রিয় হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। জনশক্তি রপ্তানিকারকদের একটি অংশের দাবি, মালয়েশিয়া সরকারের নির্বাচিত ২৫টি রিক্রুটিং এজেন্সির তালিকা ও শ্রমিক নিয়োগের প্রক্রিয়া এমনভাবে সাজানো হচ্ছে, যাতে শেষ পর্যন্ত দাতো আমিনের প্রভাবাধীন পুরোনো নেটওয়ার্কের নিয়ন্ত্রণই প্রতিষ্ঠিত হয়। তাদের আশঙ্কা, এমন ব্যবস্থা কার্যকর হলে শ্রমিকদের অভিবাসন ব্যয় বাড়তে পারে এবং সীমিত কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের হাতে ব্যবসা কেন্দ্রীভূত হওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তবে এসব অভিযোগের বিপরীতে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া সরকারের পক্ষ থেকে ২০২৬ সালের আগস্টের শেষ সপ্তাহে বলা হয়েছে, এবার স্বচ্ছ ও নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশি কর্মী মালয়েশিয়ায় পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ফলে প্রশ্ন উঠছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার কি সত্যিই এবার উন্মুক্ত ও স্বচ্ছ প্রতিযোগিতার পথে যাচ্ছে, নাকি পুরোনো প্রভাবশালী মহলের নিয়ন্ত্রণেই থেকে যাচ্ছে? শ্রমিক ও রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর স্বার্থে এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও অভিবাসন ব্যয় নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ