ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

চুয়াডাঙ্গার কার্পাসডাঙ্গায় নানা আয়োজনে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত



চুয়াডাঙ্গার কার্পাসডাঙ্গায় নানা আয়োজনে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদার উপজেলার কার্পাসডাঙ্গায় দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে কবির স্মৃতিবিজড়িত স্মৃতিফলকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।


বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৯ টায় কার্পাসডাঙ্গা মিশনপাড়ার আটচালা ঘরের পাশে কবির স্মৃতি স্তম্ভে পুষ্পমাল্য অর্পণের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এতে অংশ নেন স্থানীয় প্রশাসনের এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন, কবি-সাহিত্যিক ও সাধারণ মানুষ।


দামুড়হুদা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে কার্পাসডাঙ্গায় অবস্থিত কবির স্মৃতিফলকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। এ সময় উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ ফুল দিয়ে জাতীয় কবির প্রতি শ্রদ্ধা জানান।


শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে কার্পাসডাঙ্গা নজরুল স্মৃতি পাঠাগার প্রাঙ্গণে কবির বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।


এ-সময় বক্তারা বলেন, মানবতার প্রেম ও সাম্যের চেতনায় দীপ্ত কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর ডাকনাম ছিল ‘দুখু মিয়া’। শৈশব থেকেই দারিদ্র্য ও নানা প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই করে বেড়ে ওঠেন তিনি। পরবর্তী সময়ে সাহিত্য, সংগীত ও সাংবাদিকতার মাধ্যমে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতিতে অসামান্য অবদান রাখেন।নজরুলের সৃষ্টিশীল জীবন ছিল মাত্র ২৩ বছরের। এই স্বল্প সময়ে তার কবিতা, গান, গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ ও নাটক বাংলা সাহিত্যকে নতুন মাত্রা দেয়। তার লেখায় যেমন অন্যায়, শোষণ ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ উঠে এসেছে, তেমনি ফুটে উঠেছে প্রেম, মানবতা ও সাম্যের চেতনা।বাংলা সাহিত্যপ্রেমীদের কাছে তিনি বিদ্রোহী কবি হিসেবে খ্যাত হলেও তার সৃষ্টিকর্মের বিস্তার অনেক বৃহৎ। কবিতা, গান, উপন্যাস, গল্প, নাটক, প্রবন্ধ ও চলচ্চিত্রে তিনি রেখেছেন স্বতন্ত্র স্বাক্ষর। পাশাপাশি তিনি সাংবাদিক, গায়ক ও অভিনেতা হিসেবেও পরিচিত ছিলেন। সংগীতে তার অসংখ্য রাগ-রাগিনী আজও অমর হয়ে আছে।


জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের অনেক স্মৃতি রয়েছে চুয়াডাঙ্গার কার্পাসডাঙ্গায়। তিনি একাধিকবার এসেছেন এখানে। যেখানে বসে তিনি লিখেছেন ছড়া, কবিতা, গান। কার্পাসডাঙ্গায় এসে তিনি যে ঘরে থাকতেন, কবির স্মৃতি ধরে রাখার জন্য ঘরটি সেভাবেই রাখা হয়েছে। কবির স্মৃতি ধরে রাখার জন্য কবির জন্মদিন-মৃত্যুদিন কার্পাসডাঙ্গায় জাতীয়ভাবে পালন করা হয়। 


চুয়াডাঙ্গা জেলা শহর থেকে প্রায় ১৯ কিলোমিটার দক্ষিন-পশ্চিমে দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনা-মুজিবনগর সড়কে ঐতিহাসিকস্থান কার্পাসডাঙ্গায় পরপর দু’মাস ধরে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম স্বপরিবারে বসবাস করে গেছেন।


১৯২৬ ও ১৯২৭ সালে পরপর দু’বার নদীপথে কবি নজরুল স্বপরিবারে কার্পাসডাঙ্গায় এসেছিলেন। সঙ্গে আসা স্ত্রী প্রমিলা, দু’পূত্র সব্যসাচী ও বুলবুল এবং শাশুড়ি গিরিবালাকে সঙ্গে নিয়ে কবি উঠেছিলেন বর্তমান কার্পাসডাঙ্গার মিশন পাড়ার হর্ষপ্রিয় বিশ্বাসের বাগান বাড়ির একটি আটচালা খড়ের ঘরে। এ ঘরটি এখনও বিদ্যমান। কর্মসূচিতে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


চুয়াডাঙ্গার কার্পাসডাঙ্গায় নানা আয়োজনে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

প্রকাশের তারিখ : ২৭ আগস্ট ২০২৬

featured Image

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদার উপজেলার কার্পাসডাঙ্গায় দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে কবির স্মৃতিবিজড়িত স্মৃতিফলকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।


বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৯ টায় কার্পাসডাঙ্গা মিশনপাড়ার আটচালা ঘরের পাশে কবির স্মৃতি স্তম্ভে পুষ্পমাল্য অর্পণের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এতে অংশ নেন স্থানীয় প্রশাসনের এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন, কবি-সাহিত্যিক ও সাধারণ মানুষ।


দামুড়হুদা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে কার্পাসডাঙ্গায় অবস্থিত কবির স্মৃতিফলকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। এ সময় উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ ফুল দিয়ে জাতীয় কবির প্রতি শ্রদ্ধা জানান।


শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে কার্পাসডাঙ্গা নজরুল স্মৃতি পাঠাগার প্রাঙ্গণে কবির বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।


এ-সময় বক্তারা বলেন, মানবতার প্রেম ও সাম্যের চেতনায় দীপ্ত কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর ডাকনাম ছিল ‘দুখু মিয়া’। শৈশব থেকেই দারিদ্র্য ও নানা প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই করে বেড়ে ওঠেন তিনি। পরবর্তী সময়ে সাহিত্য, সংগীত ও সাংবাদিকতার মাধ্যমে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতিতে অসামান্য অবদান রাখেন।নজরুলের সৃষ্টিশীল জীবন ছিল মাত্র ২৩ বছরের। এই স্বল্প সময়ে তার কবিতা, গান, গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ ও নাটক বাংলা সাহিত্যকে নতুন মাত্রা দেয়। তার লেখায় যেমন অন্যায়, শোষণ ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ উঠে এসেছে, তেমনি ফুটে উঠেছে প্রেম, মানবতা ও সাম্যের চেতনা।বাংলা সাহিত্যপ্রেমীদের কাছে তিনি বিদ্রোহী কবি হিসেবে খ্যাত হলেও তার সৃষ্টিকর্মের বিস্তার অনেক বৃহৎ। কবিতা, গান, উপন্যাস, গল্প, নাটক, প্রবন্ধ ও চলচ্চিত্রে তিনি রেখেছেন স্বতন্ত্র স্বাক্ষর। পাশাপাশি তিনি সাংবাদিক, গায়ক ও অভিনেতা হিসেবেও পরিচিত ছিলেন। সংগীতে তার অসংখ্য রাগ-রাগিনী আজও অমর হয়ে আছে।


জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের অনেক স্মৃতি রয়েছে চুয়াডাঙ্গার কার্পাসডাঙ্গায়। তিনি একাধিকবার এসেছেন এখানে। যেখানে বসে তিনি লিখেছেন ছড়া, কবিতা, গান। কার্পাসডাঙ্গায় এসে তিনি যে ঘরে থাকতেন, কবির স্মৃতি ধরে রাখার জন্য ঘরটি সেভাবেই রাখা হয়েছে। কবির স্মৃতি ধরে রাখার জন্য কবির জন্মদিন-মৃত্যুদিন কার্পাসডাঙ্গায় জাতীয়ভাবে পালন করা হয়। 


চুয়াডাঙ্গা জেলা শহর থেকে প্রায় ১৯ কিলোমিটার দক্ষিন-পশ্চিমে দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনা-মুজিবনগর সড়কে ঐতিহাসিকস্থান কার্পাসডাঙ্গায় পরপর দু’মাস ধরে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম স্বপরিবারে বসবাস করে গেছেন।


১৯২৬ ও ১৯২৭ সালে পরপর দু’বার নদীপথে কবি নজরুল স্বপরিবারে কার্পাসডাঙ্গায় এসেছিলেন। সঙ্গে আসা স্ত্রী প্রমিলা, দু’পূত্র সব্যসাচী ও বুলবুল এবং শাশুড়ি গিরিবালাকে সঙ্গে নিয়ে কবি উঠেছিলেন বর্তমান কার্পাসডাঙ্গার মিশন পাড়ার হর্ষপ্রিয় বিশ্বাসের বাগান বাড়ির একটি আটচালা খড়ের ঘরে। এ ঘরটি এখনও বিদ্যমান। কর্মসূচিতে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ