ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

এবার ঘুরে দাঁড়ানোর পালা, একসঙ্গে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী


নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৮ আগস্ট ২০২৬

এবার ঘুরে দাঁড়ানোর পালা, একসঙ্গে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে এখন ঘুরে দাঁড়ানোর সময় বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতির মধ্যে সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নের সাফল্য অনেকাংশে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কার্যক্রমের ওপর নির্ভর করছে। সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে দেশপ্রেম ও আন্তরিকতার সঙ্গে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সকালে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘রাজস্ব সম্মেলন ২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড সম্মেলনটির আয়োজন করে।

তারেক রহমান বলেন, দেশের মানুষ এনবিআরকে একটি নির্ভরযোগ্য ও বিশ্বস্ত প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখতে চায়। বিশেষ করে করদাতাদের আস্থা অর্জনে দক্ষ ও টেকসই রাজস্ব ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা জরুরি। বর্তমান সরকার রাজস্ব কাঠামোকে আরও জনবান্ধব হিসেবে গড়ে তুলতে চায়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শাসন-শোষণের প্রভাব থেকে রাষ্ট্রের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মতো জাতীয় রাজস্ব বোর্ডও মুক্ত থাকতে পারেনি। নীতি ও নিয়ম উপেক্ষা করে ব্যক্তি বা দলীয় স্বার্থে পৃষ্ঠপোষকতা, বিরূপ আচরণ এবং রাজস্ব আহরণে স্বেচ্ছাচারিতার কারণে প্রতিষ্ঠানটি প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছিল। এর ফলে এনবিআরের ওপর মানুষের আস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে এখন ঘুরে দাঁড়ানোর পালা। দেশের অর্থনীতি পুনর্গঠন ও উন্নয়নের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে শক্তিশালী রাজস্ব ব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন।

বিশ্ব অর্থনীতির দ্রুত পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে রাজস্ব কর্মকর্তাদের দক্ষতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, অত্যাধুনিক প্রযুক্তির বিকাশের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও ব্যবসার ধরন বদলে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক কর ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনাতেও পরিবর্তন এসেছে। ফলে পরিবর্তিত বিশ্বের সমস্যা, সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় রাজস্ব কর্মকর্তাদের বহুমাত্রিক দক্ষতা অর্জন করতে হবে।

ডিজিটাল অর্থনীতি, ই-কমার্স, ট্রান্সফার প্রাইসিং, আন্তর্জাতিক করব্যবস্থা, ট্রেড ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম, মানি লন্ডারিং এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ আধুনিক অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সম্পর্কে রাজস্ব কর্মকর্তাদের সুস্পষ্ট জ্ঞান থাকা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

দেশের ট্যাক্স-জিডিপি অনুপাত সক্ষমতার তুলনায় এখনো অনেক কম উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নিয়মিত করদাতাদের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমাতে হবে। একই সঙ্গে করদাতা ও রাজস্ব প্রশাসনের মধ্যে আস্থার সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন।

তারেক রহমান বলেন, আধুনিক কর প্রশাসনের উদ্দেশ্য শুধু বেশি কর আদায় করা নয়; বরং আরও বেশি মানুষকে স্বেচ্ছায় কর প্রদানে উৎসাহিত করা। যারা নিয়ম মেনে কর দেন, রাষ্ট্রের উচিত তাদের সম্মান করা। একই সঙ্গে যারা ইচ্ছাকৃতভাবে কর পরিহার করেন, তাদেরও যথাযথভাবে করের আওতায় আনতে হবে।

কর ব্যবস্থাপনা ও কর আদায়ের পদ্ধতি সহজ, দুর্নীতিমুক্ত এবং হয়রানিমুক্ত করার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, এমন পরিবেশ তৈরি করতে হবে যাতে মানুষ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে কর দিতে পারেন এবং কর প্রদানে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। একই করদাতার ওপর বারবার করের বোঝা বাড়ানো রাজস্ব বৃদ্ধির টেকসই পদ্ধতি নয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কর দেওয়ার সক্ষমতা রয়েছে এমন ব্যক্তিদের শনাক্ত করে নিয়মতান্ত্রিকভাবে করের আওতায় আনা প্রয়োজন। এ জন্য আধুনিক, ডিজিটাল ও তথ্যভিত্তিক কর প্রশাসন গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই।

ভ্যাটকে আধুনিক অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ রাজস্ব উৎস হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর সফলতা নির্ভর করে কার্যকর বাস্তবায়নের ওপর। ভ্যাট প্রশাসনের জটিলতার কারণে ব্যবসা-বাণিজ্য যাতে বাধাগ্রস্ত না হয়, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।

কাস্টমস, ভ্যাট ও আয়কর আদায়ে শুধু চাপ প্রয়োগের পরিবর্তে করদাতাদের সঙ্গে আস্থা ও বিশ্বাসের সম্পর্ক গড়ে তোলার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তার মতে, মানুষ এনবিআরকে ভয় না করে বিশ্বাস করলে রাজস্ব আহরণ আরও সহজ হবে।

রাজস্ব কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, ব্যক্তি স্বার্থের চেয়ে প্রতিষ্ঠান এবং দেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। দেশের স্বার্থে এনবিআরকে জনগণের কাছে আরও বিশ্বস্ত ও আস্থাভাজন প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার সবাইকে সঙ্গে নিয়ে নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চায় এবং প্রত্যেক মানুষের অবদানকে সম্মানের সঙ্গে দেখতে চায়। সমস্যা থাকলেও আলোচনা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে ধীরে ধীরে তার সমাধান বের করার চেষ্টা করা হবে।

সরকারি কর্মকর্তাদের নির্ভয়ে ও স্বস্তির সঙ্গে দেশ গঠনে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দেশের স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোকে সরকার অগ্রাধিকার দেওয়ার চেষ্টা করবে।

গত ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি থেকে জুনের শেষ পর্যন্ত রাজস্ব আহরণের পরিমাণ ইতিবাচক ছিল উল্লেখ করে রাজস্ব কর্মকর্তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই অর্জন প্রমাণ করে তারা আরও ভালো করতে পারবেন। দেশপ্রেম ও আন্তরিকতার মাধ্যমে সমৃদ্ধ বাংলাদেশের জন্য শক্তিশালী রাজস্ব ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। পরে রাজস্ব আদায় নিয়ে মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীরও বক্তব্য দেন।

নিজের বক্তব্য শেষে প্রধানমন্ত্রী এনবিআরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে ফটোসেশনে অংশ নেন। পরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের স্টল ঘুরে দেখে ডিজিটাল স্ক্রিনে বিভিন্ন উপস্থাপনা পর্যবেক্ষণ করেন।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


এবার ঘুরে দাঁড়ানোর পালা, একসঙ্গে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশের তারিখ : ১৮ আগস্ট ২০২৬

featured Image

ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে এখন ঘুরে দাঁড়ানোর সময় বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতির মধ্যে সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নের সাফল্য অনেকাংশে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কার্যক্রমের ওপর নির্ভর করছে। সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে দেশপ্রেম ও আন্তরিকতার সঙ্গে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সকালে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘রাজস্ব সম্মেলন ২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড সম্মেলনটির আয়োজন করে।

তারেক রহমান বলেন, দেশের মানুষ এনবিআরকে একটি নির্ভরযোগ্য ও বিশ্বস্ত প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখতে চায়। বিশেষ করে করদাতাদের আস্থা অর্জনে দক্ষ ও টেকসই রাজস্ব ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা জরুরি। বর্তমান সরকার রাজস্ব কাঠামোকে আরও জনবান্ধব হিসেবে গড়ে তুলতে চায়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শাসন-শোষণের প্রভাব থেকে রাষ্ট্রের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মতো জাতীয় রাজস্ব বোর্ডও মুক্ত থাকতে পারেনি। নীতি ও নিয়ম উপেক্ষা করে ব্যক্তি বা দলীয় স্বার্থে পৃষ্ঠপোষকতা, বিরূপ আচরণ এবং রাজস্ব আহরণে স্বেচ্ছাচারিতার কারণে প্রতিষ্ঠানটি প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছিল। এর ফলে এনবিআরের ওপর মানুষের আস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে এখন ঘুরে দাঁড়ানোর পালা। দেশের অর্থনীতি পুনর্গঠন ও উন্নয়নের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে শক্তিশালী রাজস্ব ব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন।

বিশ্ব অর্থনীতির দ্রুত পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে রাজস্ব কর্মকর্তাদের দক্ষতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, অত্যাধুনিক প্রযুক্তির বিকাশের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও ব্যবসার ধরন বদলে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক কর ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনাতেও পরিবর্তন এসেছে। ফলে পরিবর্তিত বিশ্বের সমস্যা, সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় রাজস্ব কর্মকর্তাদের বহুমাত্রিক দক্ষতা অর্জন করতে হবে।

ডিজিটাল অর্থনীতি, ই-কমার্স, ট্রান্সফার প্রাইসিং, আন্তর্জাতিক করব্যবস্থা, ট্রেড ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম, মানি লন্ডারিং এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ আধুনিক অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সম্পর্কে রাজস্ব কর্মকর্তাদের সুস্পষ্ট জ্ঞান থাকা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

দেশের ট্যাক্স-জিডিপি অনুপাত সক্ষমতার তুলনায় এখনো অনেক কম উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নিয়মিত করদাতাদের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমাতে হবে। একই সঙ্গে করদাতা ও রাজস্ব প্রশাসনের মধ্যে আস্থার সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন।

তারেক রহমান বলেন, আধুনিক কর প্রশাসনের উদ্দেশ্য শুধু বেশি কর আদায় করা নয়; বরং আরও বেশি মানুষকে স্বেচ্ছায় কর প্রদানে উৎসাহিত করা। যারা নিয়ম মেনে কর দেন, রাষ্ট্রের উচিত তাদের সম্মান করা। একই সঙ্গে যারা ইচ্ছাকৃতভাবে কর পরিহার করেন, তাদেরও যথাযথভাবে করের আওতায় আনতে হবে।

কর ব্যবস্থাপনা ও কর আদায়ের পদ্ধতি সহজ, দুর্নীতিমুক্ত এবং হয়রানিমুক্ত করার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, এমন পরিবেশ তৈরি করতে হবে যাতে মানুষ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে কর দিতে পারেন এবং কর প্রদানে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। একই করদাতার ওপর বারবার করের বোঝা বাড়ানো রাজস্ব বৃদ্ধির টেকসই পদ্ধতি নয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কর দেওয়ার সক্ষমতা রয়েছে এমন ব্যক্তিদের শনাক্ত করে নিয়মতান্ত্রিকভাবে করের আওতায় আনা প্রয়োজন। এ জন্য আধুনিক, ডিজিটাল ও তথ্যভিত্তিক কর প্রশাসন গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই।

ভ্যাটকে আধুনিক অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ রাজস্ব উৎস হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর সফলতা নির্ভর করে কার্যকর বাস্তবায়নের ওপর। ভ্যাট প্রশাসনের জটিলতার কারণে ব্যবসা-বাণিজ্য যাতে বাধাগ্রস্ত না হয়, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।

কাস্টমস, ভ্যাট ও আয়কর আদায়ে শুধু চাপ প্রয়োগের পরিবর্তে করদাতাদের সঙ্গে আস্থা ও বিশ্বাসের সম্পর্ক গড়ে তোলার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তার মতে, মানুষ এনবিআরকে ভয় না করে বিশ্বাস করলে রাজস্ব আহরণ আরও সহজ হবে।

রাজস্ব কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, ব্যক্তি স্বার্থের চেয়ে প্রতিষ্ঠান এবং দেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। দেশের স্বার্থে এনবিআরকে জনগণের কাছে আরও বিশ্বস্ত ও আস্থাভাজন প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার সবাইকে সঙ্গে নিয়ে নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চায় এবং প্রত্যেক মানুষের অবদানকে সম্মানের সঙ্গে দেখতে চায়। সমস্যা থাকলেও আলোচনা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে ধীরে ধীরে তার সমাধান বের করার চেষ্টা করা হবে।

সরকারি কর্মকর্তাদের নির্ভয়ে ও স্বস্তির সঙ্গে দেশ গঠনে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দেশের স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোকে সরকার অগ্রাধিকার দেওয়ার চেষ্টা করবে।

গত ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি থেকে জুনের শেষ পর্যন্ত রাজস্ব আহরণের পরিমাণ ইতিবাচক ছিল উল্লেখ করে রাজস্ব কর্মকর্তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই অর্জন প্রমাণ করে তারা আরও ভালো করতে পারবেন। দেশপ্রেম ও আন্তরিকতার মাধ্যমে সমৃদ্ধ বাংলাদেশের জন্য শক্তিশালী রাজস্ব ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। পরে রাজস্ব আদায় নিয়ে মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীরও বক্তব্য দেন।

নিজের বক্তব্য শেষে প্রধানমন্ত্রী এনবিআরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে ফটোসেশনে অংশ নেন। পরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের স্টল ঘুরে দেখে ডিজিটাল স্ক্রিনে বিভিন্ন উপস্থাপনা পর্যবেক্ষণ করেন।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ