ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

ইজারা ছাড়াই সরকারি খাস পুকুরে মাছ চাষ! বদলগাছীতে বিএনপি নেতা আহসান হাবিব ভুট্টুর বিরুদ্ধে অভিযোগ


নওগাঁ প্রতিনিধি
নওগাঁ প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১৫ আগস্ট ২০২৬

ইজারা ছাড়াই সরকারি খাস পুকুরে মাছ চাষ! বদলগাছীতে বিএনপি নেতা আহসান হাবিব ভুট্টুর বিরুদ্ধে অভিযোগ

নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার পাহাড়পুর ইউনিয়নের চাঁপাডাল মৌজায় সরকারি খাস পুকুর ইজারা ছাড়াই মাছ চাষের অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আহসান হাবিব ভুট্টুর বিরুদ্ধে। তাঁর স্ত্রী মিনু আরা পাহাড়পুর ইউনিয়ন মহিলা দলের সভানেত্রী বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

চাঁপাডাল মৌজার ১ নম্বর খাস খতিয়ানভুক্ত ৪৬৯ নম্বর দাগে প্রায় ৫৮ শতাংশ জমির ওপর পুকুরটির অবস্থান। সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, ১৪৩৩ থেকে ১৪৩৫ সন মেয়াদে উপজেলার কয়েকটি খাস পুকুর ইজারা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। একাধিকবার বিজ্ঞপ্তি ও প্রকাশ্য নিলামের আয়োজন করা হলেও ৪৬৯ নম্বর দাগের পুকুরটির জন্য কোনো ইজারাদার পাওয়া যায়নি বলে দাবি করা হয়েছে।

পরে ইজারাবিহীন জলমহালটি ১৪৩৩ সনের অবশিষ্ট সময়ের জন্য খাস আদায়ের লক্ষ্যে প্রকাশ্য নিলামে ইজারা দেওয়ার জন্য গত ২৭ জুলাই ২০২৬ তারিখে পুনরায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। তবে ওই উদ্যোগেও পুকুরটি ইজারা হয়নি বলে জানা গেছে।

এর মধ্যেই সরেজমিনে পুকুরটিতে মাছ চাষের চিত্র দেখা গেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে পুকুরটি আহসান হাবিব ভুট্টুর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। বৈধ ইজারা ছাড়াই সেখানে মাছ চাষ করা হচ্ছে বলে তাঁদের দাবি।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, সরকারি খাস সম্পত্তি ব্যক্তিগতভাবে ব্যবহার করতে হলে আইন অনুযায়ী ইজারা নেওয়া প্রয়োজন। তাঁদের অভিযোগ, রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাবের কারণে বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে উপেক্ষিত হচ্ছে।

পুকুরটি বৈধভাবে ইজারা নেওয়া হয়েছে কি না জানতে আহসান হাবিব ভুট্টুর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ইজারা ছাড়াই পুকুরটিতে মাছ চাষের কথা স্বীকার করেন। তিনি আরও দাবি করেন, এলাকায় তাঁর প্রভাব রয়েছে এবং অন্য কেউ ইজারা নিলেও তাকে সেখানে মাছ চাষ করতে দেওয়া হবে না।

আহসান হাবিব ভুট্টুর স্ত্রী মিনু আরার কাছেও বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি পুকুরটিতে তাঁদের মাছ চাষের কথা স্বীকার করেন। তবে পুকুরটির বৈধ ইজারার কোনো কাগজপত্র তিনি দেখাতে পারেননি। পুকুরটি তাঁদের নিয়ন্ত্রণে থাকার বিষয়টিও তিনি স্বীকার করেন।

পুকুরটি কীভাবে তাঁদের নিয়ন্ত্রণে এসেছে জানতে চাইলে মিনু আরা জানান, প্রায় ১৭ বছর আগে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় থাকাকালে পুকুরটি তাঁদের দখলে ছিল। পরে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা সেটি নিয়ে নেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর তাঁরা পুনরায় ইজারা ছাড়াই পুকুরটিতে মাছ চাষ শুরু করেছেন বলে তিনি জানান।

পাহাড়পুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. জিল্লুর রহমান (জিল্লু মাস্টার) বলেন, পুকুরটি ইজারা হয়েছে কি না, তা তাঁর জানা নেই। তবে আহসান হাবিব ভুট্টু পুকুরটি পূর্বের মালিকের কাছ থেকে সমঝোতার মাধ্যমে নিয়ে মাছ চাষ করছেন বলে তিনি জানেন। তবে পূর্বের মালিকের নাম তিনি বলতে পারেননি।

উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল হাদী চৌধুরী টিপু বলেন, বিষয়টি তাঁর জানা নেই। এ বিষয়ে পরে কথা বলবেন বলে তিনি জানান।

বদলগাছী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) পলাশ উদ্দিনের বক্তব্য জানতে তাঁর কার্যালয়ে গিয়ে তাঁকে পাওয়া যায়নি। পরে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

স্থানীয়দের দাবি, সরকারি খাস সম্পত্তি ব্যক্তি বা রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের নিয়ন্ত্রণে যাওয়ার সুযোগ বন্ধ করতে বিষয়টি তদন্ত করে পুকুরটি দখলমুক্ত করা এবং বিধি অনুযায়ী ইজারার ব্যবস্থা করা হোক।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


ইজারা ছাড়াই সরকারি খাস পুকুরে মাছ চাষ! বদলগাছীতে বিএনপি নেতা আহসান হাবিব ভুট্টুর বিরুদ্ধে অভিযোগ

প্রকাশের তারিখ : ১৫ আগস্ট ২০২৬

featured Image

নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার পাহাড়পুর ইউনিয়নের চাঁপাডাল মৌজায় সরকারি খাস পুকুর ইজারা ছাড়াই মাছ চাষের অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আহসান হাবিব ভুট্টুর বিরুদ্ধে। তাঁর স্ত্রী মিনু আরা পাহাড়পুর ইউনিয়ন মহিলা দলের সভানেত্রী বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

চাঁপাডাল মৌজার ১ নম্বর খাস খতিয়ানভুক্ত ৪৬৯ নম্বর দাগে প্রায় ৫৮ শতাংশ জমির ওপর পুকুরটির অবস্থান। সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, ১৪৩৩ থেকে ১৪৩৫ সন মেয়াদে উপজেলার কয়েকটি খাস পুকুর ইজারা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। একাধিকবার বিজ্ঞপ্তি ও প্রকাশ্য নিলামের আয়োজন করা হলেও ৪৬৯ নম্বর দাগের পুকুরটির জন্য কোনো ইজারাদার পাওয়া যায়নি বলে দাবি করা হয়েছে।

পরে ইজারাবিহীন জলমহালটি ১৪৩৩ সনের অবশিষ্ট সময়ের জন্য খাস আদায়ের লক্ষ্যে প্রকাশ্য নিলামে ইজারা দেওয়ার জন্য গত ২৭ জুলাই ২০২৬ তারিখে পুনরায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। তবে ওই উদ্যোগেও পুকুরটি ইজারা হয়নি বলে জানা গেছে।

এর মধ্যেই সরেজমিনে পুকুরটিতে মাছ চাষের চিত্র দেখা গেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে পুকুরটি আহসান হাবিব ভুট্টুর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। বৈধ ইজারা ছাড়াই সেখানে মাছ চাষ করা হচ্ছে বলে তাঁদের দাবি।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, সরকারি খাস সম্পত্তি ব্যক্তিগতভাবে ব্যবহার করতে হলে আইন অনুযায়ী ইজারা নেওয়া প্রয়োজন। তাঁদের অভিযোগ, রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাবের কারণে বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে উপেক্ষিত হচ্ছে।

পুকুরটি বৈধভাবে ইজারা নেওয়া হয়েছে কি না জানতে আহসান হাবিব ভুট্টুর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ইজারা ছাড়াই পুকুরটিতে মাছ চাষের কথা স্বীকার করেন। তিনি আরও দাবি করেন, এলাকায় তাঁর প্রভাব রয়েছে এবং অন্য কেউ ইজারা নিলেও তাকে সেখানে মাছ চাষ করতে দেওয়া হবে না।

আহসান হাবিব ভুট্টুর স্ত্রী মিনু আরার কাছেও বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি পুকুরটিতে তাঁদের মাছ চাষের কথা স্বীকার করেন। তবে পুকুরটির বৈধ ইজারার কোনো কাগজপত্র তিনি দেখাতে পারেননি। পুকুরটি তাঁদের নিয়ন্ত্রণে থাকার বিষয়টিও তিনি স্বীকার করেন।

পুকুরটি কীভাবে তাঁদের নিয়ন্ত্রণে এসেছে জানতে চাইলে মিনু আরা জানান, প্রায় ১৭ বছর আগে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় থাকাকালে পুকুরটি তাঁদের দখলে ছিল। পরে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা সেটি নিয়ে নেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর তাঁরা পুনরায় ইজারা ছাড়াই পুকুরটিতে মাছ চাষ শুরু করেছেন বলে তিনি জানান।

পাহাড়পুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. জিল্লুর রহমান (জিল্লু মাস্টার) বলেন, পুকুরটি ইজারা হয়েছে কি না, তা তাঁর জানা নেই। তবে আহসান হাবিব ভুট্টু পুকুরটি পূর্বের মালিকের কাছ থেকে সমঝোতার মাধ্যমে নিয়ে মাছ চাষ করছেন বলে তিনি জানেন। তবে পূর্বের মালিকের নাম তিনি বলতে পারেননি।

উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল হাদী চৌধুরী টিপু বলেন, বিষয়টি তাঁর জানা নেই। এ বিষয়ে পরে কথা বলবেন বলে তিনি জানান।

বদলগাছী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) পলাশ উদ্দিনের বক্তব্য জানতে তাঁর কার্যালয়ে গিয়ে তাঁকে পাওয়া যায়নি। পরে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

স্থানীয়দের দাবি, সরকারি খাস সম্পত্তি ব্যক্তি বা রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের নিয়ন্ত্রণে যাওয়ার সুযোগ বন্ধ করতে বিষয়টি তদন্ত করে পুকুরটি দখলমুক্ত করা এবং বিধি অনুযায়ী ইজারার ব্যবস্থা করা হোক।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ