নওগাঁ সদর উপজেলার তিলকপুর ইউনিয়নের নামা নুরপুর এলাকায় পুত্রবধূকে যৌন হয়রানি ও ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে শ্বশুর আবু বক্করের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীর অভিযোগ, শাশুড়ি বাড়িতে না থাকা এবং স্বামী প্রবাসে থাকার সুযোগে তাকে রাতে মাথায় তেল দেওয়ার কথা বলে ডেকে নিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে স্পর্শ ও হয়রানি করা হয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয়ভাবে সালিশ-বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগীর দাবি, প্রায় ১৫ থেকে ২০ দিন আগে রাতে তাকে মাথায় তেল দেওয়ার কথা বলে ডেকে নেন শ্বশুর। মাথায় তেল দেওয়ার একপর্যায়ে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে স্পর্শ করা হয়। এতে তিনি বাধা দিয়ে নিজ কক্ষে চলে যান। কয়েকদিন পর আবারও তাকে রাতে ডেকে একই ধরনের আচরণ করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ সময় বিষয়টি কাউকে না জানাতেও বলা হয় বলে দাবি তার।
ভুক্তভোগী বলেন, “শাশুড়ি বাড়িতে না থাকার সুযোগে আমাকে রাতে মাথায় তেল দেওয়ার জন্য ডাকেন। মাথায় তেল দেওয়ার পর খারাপভাবে স্পর্শ করার চেষ্টা করেন। কয়েকদিন পর আবারও রাতে ডাকেন। তখন শরীরে হাত দেওয়ার পাশাপাশি পিঠে টিপ দেন এবং গলা ধরে কাঁধের দিকে মুখ লাগিয়ে চুমু দেওয়ার চেষ্টা করেন। আমি বাধা দিয়ে কেন এমন করছেন জানতে চাইলে বিষয়টি কাউকে না বলতে বলেন।”
ঘটনার বিষয়টি তিনি স্বামী, শাশুড়ি ও নিজের মাকে জানিয়েছেন বলে জানান। বর্তমানে স্বামীর পরামর্শে তিনি মায়ের বাড়িতে অবস্থান করছেন বলেও জানান ভুক্তভোগী।
এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল খালেক বলেন, “আমরা বিষয়টি তার পুত্রবধূর মাধ্যমে জেনেছি। তিনি আমাদের জানিয়েছেন, মধ্যরাতে মাথায় তেল দেওয়ার কথা বলে তাকে রুমে ডেকে নিয়ে শরীরের বিভিন্ন জায়গায় হাত দেওয়া, পিঠে টিপ দেওয়া এবং গলা ধরে চুমু দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। আমার জানামতে, ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে এর আগেও এ ধরনের অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”
তবে ভুক্তভোগীর এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত আবু বক্কর। তিনি বলেন, “আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হয়েছে, তা মিথ্যা। আমি এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটাইনি। আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করা হচ্ছে।”
এদিকে অভিযোগের বিষয়টি নিয়ে শনিবার (৮ আগস্ট) সন্ধ্যায় স্থানীয়ভাবে সালিশ-বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়া হয়। স্থানীয় যুবদল নেতা রাসেল ও একজন ইউপি সদস্য সালিশের দায়িত্ব নিয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। তবে সালিশের মাধ্যমে বিষয়টি কীভাবে নিষ্পত্তি করা হবে এবং ভুক্তভোগী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ পাবেন কি না, সে বিষয়ে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের মতে, যৌন হয়রানি ও ধর্ষণচেষ্টার মতো গুরুতর অভিযোগ শুধু স্থানীয় সালিশের মাধ্যমে নিষ্পত্তির চেষ্টা না করে যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
তবে এ ঘটনায় প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো মামলা বা লিখিত অভিযোগ দায়েরের তথ্য পাওয়া যায়নি।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৮ আগস্ট ২০২৬
নওগাঁ সদর উপজেলার তিলকপুর ইউনিয়নের নামা নুরপুর এলাকায় পুত্রবধূকে যৌন হয়রানি ও ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে শ্বশুর আবু বক্করের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীর অভিযোগ, শাশুড়ি বাড়িতে না থাকা এবং স্বামী প্রবাসে থাকার সুযোগে তাকে রাতে মাথায় তেল দেওয়ার কথা বলে ডেকে নিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে স্পর্শ ও হয়রানি করা হয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয়ভাবে সালিশ-বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগীর দাবি, প্রায় ১৫ থেকে ২০ দিন আগে রাতে তাকে মাথায় তেল দেওয়ার কথা বলে ডেকে নেন শ্বশুর। মাথায় তেল দেওয়ার একপর্যায়ে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে স্পর্শ করা হয়। এতে তিনি বাধা দিয়ে নিজ কক্ষে চলে যান। কয়েকদিন পর আবারও তাকে রাতে ডেকে একই ধরনের আচরণ করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ সময় বিষয়টি কাউকে না জানাতেও বলা হয় বলে দাবি তার।
ভুক্তভোগী বলেন, “শাশুড়ি বাড়িতে না থাকার সুযোগে আমাকে রাতে মাথায় তেল দেওয়ার জন্য ডাকেন। মাথায় তেল দেওয়ার পর খারাপভাবে স্পর্শ করার চেষ্টা করেন। কয়েকদিন পর আবারও রাতে ডাকেন। তখন শরীরে হাত দেওয়ার পাশাপাশি পিঠে টিপ দেন এবং গলা ধরে কাঁধের দিকে মুখ লাগিয়ে চুমু দেওয়ার চেষ্টা করেন। আমি বাধা দিয়ে কেন এমন করছেন জানতে চাইলে বিষয়টি কাউকে না বলতে বলেন।”
ঘটনার বিষয়টি তিনি স্বামী, শাশুড়ি ও নিজের মাকে জানিয়েছেন বলে জানান। বর্তমানে স্বামীর পরামর্শে তিনি মায়ের বাড়িতে অবস্থান করছেন বলেও জানান ভুক্তভোগী।
এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল খালেক বলেন, “আমরা বিষয়টি তার পুত্রবধূর মাধ্যমে জেনেছি। তিনি আমাদের জানিয়েছেন, মধ্যরাতে মাথায় তেল দেওয়ার কথা বলে তাকে রুমে ডেকে নিয়ে শরীরের বিভিন্ন জায়গায় হাত দেওয়া, পিঠে টিপ দেওয়া এবং গলা ধরে চুমু দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। আমার জানামতে, ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে এর আগেও এ ধরনের অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”
তবে ভুক্তভোগীর এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত আবু বক্কর। তিনি বলেন, “আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হয়েছে, তা মিথ্যা। আমি এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটাইনি। আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করা হচ্ছে।”
এদিকে অভিযোগের বিষয়টি নিয়ে শনিবার (৮ আগস্ট) সন্ধ্যায় স্থানীয়ভাবে সালিশ-বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়া হয়। স্থানীয় যুবদল নেতা রাসেল ও একজন ইউপি সদস্য সালিশের দায়িত্ব নিয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। তবে সালিশের মাধ্যমে বিষয়টি কীভাবে নিষ্পত্তি করা হবে এবং ভুক্তভোগী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ পাবেন কি না, সে বিষয়ে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের মতে, যৌন হয়রানি ও ধর্ষণচেষ্টার মতো গুরুতর অভিযোগ শুধু স্থানীয় সালিশের মাধ্যমে নিষ্পত্তির চেষ্টা না করে যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
তবে এ ঘটনায় প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো মামলা বা লিখিত অভিযোগ দায়েরের তথ্য পাওয়া যায়নি।

আপনার মতামত লিখুন