আগামী ১৬ আগস্ট গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য কিশোরগঞ্জ সফরকে ঘিরে জেলা জুড়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি। প্রধানমন্ত্রীর সফর সফল ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করার পাশাপাশি কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়ন কার্যক্রম তুলে ধরতে শুক্রবার (৮ আগস্ট) জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে উচ্চপর্যায়ের প্রস্তুতি ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
জেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত সভায় জেলার কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশ নেন। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিনের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. শরিফুল আলম, কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মাজহারুল ইসলাম এবং কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দিন।
সভায় শুরুতেই প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য সফরকে কেন্দ্র করে জেলা প্রশাসনের নেওয়া সার্বিক প্রস্তুতির চিত্র তুলে ধরা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, কিশোরগঞ্জসহ হাওরাঞ্চল দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও মৎস্য উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। প্রধানমন্ত্রীর সফর এ অঞ্চলের কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়নে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেবে।
তিনি বলেন, কৃষক, খামারি ও প্রান্তিক মৎস্যজীবীদের পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি মাঠপর্যায়ের উন্নয়ন কার্যক্রম সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করতেই প্রধানমন্ত্রীর এই সফর গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
কৃষি ও মৎস্যসম্পদ রক্ষা এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে উৎপাদন বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, জেলার অনাবাদি জমিকে চাষের আওতায় আনার পাশাপাশি জলাশয়গুলোতে পরিকল্পিত ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে মাছ চাষ বাড়াতে হবে। দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের গাফিলতি গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও তিনি কর্মকর্তাদের সতর্ক করেন।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরকালে স্থানীয় উদ্ভাবনী প্রকল্প এবং হাওরের দেশীয় প্রজাতির মাছ সংরক্ষণে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরা হবে। এ জন্য মাঠপর্যায়ের সব তথ্য-উপাত্ত যথাসময়ে হালনাগাদ ও প্রস্তুত রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেন তিনি।
বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরিফুল আলম বলেন, জাতীয় রাজনীতি ও অর্থনীতিতে কিশোরগঞ্জের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সফর সফল করতে সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। কৃষিভিত্তিক প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প এবং পাটজাত পণ্যের উৎপাদন ও বাজার সম্প্রসারণে এ অঞ্চলে বড় সম্ভাবনা রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মাজহারুল ইসলাম এবং কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দিন বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে স্থানীয় মানুষ অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। তাঁর সফরের মধ্য দিয়ে হাওরাঞ্চলের কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাত আরও গতিশীল হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তারা।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরকে নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও সফল করতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রতিটি দপ্তরের দায়িত্ব নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে এবং প্রস্তুতির অগ্রগতি নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ খান সোহেল ও জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান। সফরকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং নিরাপত্তা জোরদারে পুলিশের প্রস্তুতির কথা তুলে ধরেন পুলিশ সুপার।
এ সময় জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ছাড়াও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, জেলা মৎস্য দপ্তর ও জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া জেলা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা সভায় অংশ নেন।
সভা শেষে অতিথিরা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রদর্শনী কেন্দ্র এবং প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে প্রস্তাবিত বিভিন্ন ভেন্যুর মানচিত্র পরিদর্শন করেন।
প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য সফরকে ঘিরে কিশোরগঞ্জের কৃষক, মৎস্যচাষি ও ডেইরি খামারিদের মধ্যেও দেখা দিয়েছে ব্যাপক আগ্রহ। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, সরকারি প্রণোদনা ও কার্যকর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এ সফর জেলার কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়নে নতুন গতি আনবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৮ আগস্ট ২০২৬
আগামী ১৬ আগস্ট গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য কিশোরগঞ্জ সফরকে ঘিরে জেলা জুড়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি। প্রধানমন্ত্রীর সফর সফল ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করার পাশাপাশি কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়ন কার্যক্রম তুলে ধরতে শুক্রবার (৮ আগস্ট) জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে উচ্চপর্যায়ের প্রস্তুতি ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
জেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত সভায় জেলার কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশ নেন। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিনের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. শরিফুল আলম, কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মাজহারুল ইসলাম এবং কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দিন।
সভায় শুরুতেই প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য সফরকে কেন্দ্র করে জেলা প্রশাসনের নেওয়া সার্বিক প্রস্তুতির চিত্র তুলে ধরা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, কিশোরগঞ্জসহ হাওরাঞ্চল দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও মৎস্য উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। প্রধানমন্ত্রীর সফর এ অঞ্চলের কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়নে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেবে।
তিনি বলেন, কৃষক, খামারি ও প্রান্তিক মৎস্যজীবীদের পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি মাঠপর্যায়ের উন্নয়ন কার্যক্রম সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করতেই প্রধানমন্ত্রীর এই সফর গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
কৃষি ও মৎস্যসম্পদ রক্ষা এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে উৎপাদন বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, জেলার অনাবাদি জমিকে চাষের আওতায় আনার পাশাপাশি জলাশয়গুলোতে পরিকল্পিত ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে মাছ চাষ বাড়াতে হবে। দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের গাফিলতি গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও তিনি কর্মকর্তাদের সতর্ক করেন।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরকালে স্থানীয় উদ্ভাবনী প্রকল্প এবং হাওরের দেশীয় প্রজাতির মাছ সংরক্ষণে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরা হবে। এ জন্য মাঠপর্যায়ের সব তথ্য-উপাত্ত যথাসময়ে হালনাগাদ ও প্রস্তুত রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেন তিনি।
বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরিফুল আলম বলেন, জাতীয় রাজনীতি ও অর্থনীতিতে কিশোরগঞ্জের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সফর সফল করতে সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। কৃষিভিত্তিক প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প এবং পাটজাত পণ্যের উৎপাদন ও বাজার সম্প্রসারণে এ অঞ্চলে বড় সম্ভাবনা রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মাজহারুল ইসলাম এবং কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দিন বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে স্থানীয় মানুষ অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। তাঁর সফরের মধ্য দিয়ে হাওরাঞ্চলের কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাত আরও গতিশীল হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তারা।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরকে নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও সফল করতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রতিটি দপ্তরের দায়িত্ব নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে এবং প্রস্তুতির অগ্রগতি নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ খান সোহেল ও জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান। সফরকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং নিরাপত্তা জোরদারে পুলিশের প্রস্তুতির কথা তুলে ধরেন পুলিশ সুপার।
এ সময় জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ছাড়াও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, জেলা মৎস্য দপ্তর ও জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া জেলা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা সভায় অংশ নেন।
সভা শেষে অতিথিরা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রদর্শনী কেন্দ্র এবং প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে প্রস্তাবিত বিভিন্ন ভেন্যুর মানচিত্র পরিদর্শন করেন।
প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য সফরকে ঘিরে কিশোরগঞ্জের কৃষক, মৎস্যচাষি ও ডেইরি খামারিদের মধ্যেও দেখা দিয়েছে ব্যাপক আগ্রহ। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, সরকারি প্রণোদনা ও কার্যকর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এ সফর জেলার কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়নে নতুন গতি আনবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আপনার মতামত লিখুন