শুক্রবার (৭ আগস্ট) বিকেলে মহিপুর মৎস্য বন্দরের মনোয়ারা ফিশ আড়তে নিলামের মাধ্যমে মাছগুলো বিক্রি করা হয়।
জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) পায়রা সমুদ্রবন্দরের শেষ বয়া সংলগ্ন গভীর সাগরে এফবি জুনাইদ নামের মাছ ধরার ট্রলার নিয়ে জাল ফেলেন মাঝি আলমগীর। একবার জাল ফেলতেই জালে উঠে আসে প্রায় ২ হাজার ২০০টি ইলিশ। পরে শুক্রবার দুপুরে মাছ নিয়ে ট্রলারটি মহিপুর মৎস্য বন্দরে এসে পৌঁছায়।
আড়ত সূত্রে জানা যায়, ধরা পড়া ইলিশের মধ্যে ১ কেজি বা তার বেশি ওজনের ২৪ মণ মাছ প্রতি মণ ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা দরে বিক্রি হয়। এতে মোট দাম ওঠে ২৭ লাখ ৬০ হাজার টাকা।
অন্যদিকে, ৮০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের ২২ মণ ইলিশ প্রতি মণ ৯৫ হাজার টাকা দরে বিক্রি হয় ২০ লাখ ৯০ হাজার টাকায়। সব মিলিয়ে ৪৬ মণ ইলিশ বিক্রি হয়েছে ৪৮ লাখ ৫০ হাজার টাকায়।
ট্রলারটির মাঝি আলমগীর বলেন, প্রায় পাঁচ বছর পর একসঙ্গে এত বড় চালানের ইলিশ পেয়েছেন তারা। দীর্ঘদিন লোকসানের পর এমন মাছ পাওয়ায় তারা খুবই খুশি।
মনোয়ারা ফিশের ম্যানেজার সগির আকন বলেন, দীর্ঘদিন পর এত বড় চালানের ইলিশ এসেছে। বাজারে বর্তমানে ইলিশের দাম বেশি থাকায় জেলেরা ভালো দাম পেয়েছেন। সচরাচর একসঙ্গে এত বড় আকারের ইলিশ পাওয়া যায় না।
ব্লু অ্যাকশন ফান্ডের অর্থায়নে পরিচালিত ডব্লিউসিএস ও ওয়ার্ল্ডফিশের সমন্বয়ে বাস্তবায়িত ‘সুস্থ সাগর’ প্রকল্পের গবেষণা সহকারী মো. বখতিয়ার রহমান বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বেশির ভাগ মাছ ধরার বোটে প্রত্যাশিত পরিমাণ ইলিশ ধরা পড়ছে না। এর মধ্যে একটি ট্রলারে একসঙ্গে ৪৬ মণ ইলিশ পাওয়া নিঃসন্দেহে স্বস্তির খবর। এতে জেলেদের মধ্যেও নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে।
তবে একদিনের এমন আহরণকে সামগ্রিকভাবে সাগরে ইলিশের প্রাচুর্যের সূচক হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলে জানান তিনি। তার মতে, ইলিশের পরিস্থিতি বুঝতে ধারাবাহিক পর্যবেক্ষণ ও বৈজ্ঞানিক তথ্যের ভিত্তিতে মূল্যায়ন প্রয়োজন।
বখতিয়ার রহমান আরও বলেন, ইলিশের এই ইতিবাচক ধারা ধরে রাখতে জেলেদের সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি প্রজনন মৌসুমে মাছ আহরণ থেকে বিরত থাকা এবং সংরক্ষণ কার্যক্রম নিয়মিতভাবে বাস্তবায়ন করা জরুরি।
কলাপাড়া সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, কিছুদিন আগেও সাগরে ইলিশের খরা ছিল। তবে বর্তমানে জেলেদের জালে বেশ ভালো পরিমাণ ইলিশ ধরা পড়ছে। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে সামনে আরও বেশি ইলিশ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে জেলে, আড়তদারসহ ইলিশের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাই লাভবান হবেন।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৮ আগস্ট ২০২৬
শুক্রবার (৭ আগস্ট) বিকেলে মহিপুর মৎস্য বন্দরের মনোয়ারা ফিশ আড়তে নিলামের মাধ্যমে মাছগুলো বিক্রি করা হয়।
জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) পায়রা সমুদ্রবন্দরের শেষ বয়া সংলগ্ন গভীর সাগরে এফবি জুনাইদ নামের মাছ ধরার ট্রলার নিয়ে জাল ফেলেন মাঝি আলমগীর। একবার জাল ফেলতেই জালে উঠে আসে প্রায় ২ হাজার ২০০টি ইলিশ। পরে শুক্রবার দুপুরে মাছ নিয়ে ট্রলারটি মহিপুর মৎস্য বন্দরে এসে পৌঁছায়।
আড়ত সূত্রে জানা যায়, ধরা পড়া ইলিশের মধ্যে ১ কেজি বা তার বেশি ওজনের ২৪ মণ মাছ প্রতি মণ ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা দরে বিক্রি হয়। এতে মোট দাম ওঠে ২৭ লাখ ৬০ হাজার টাকা।
অন্যদিকে, ৮০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের ২২ মণ ইলিশ প্রতি মণ ৯৫ হাজার টাকা দরে বিক্রি হয় ২০ লাখ ৯০ হাজার টাকায়। সব মিলিয়ে ৪৬ মণ ইলিশ বিক্রি হয়েছে ৪৮ লাখ ৫০ হাজার টাকায়।
ট্রলারটির মাঝি আলমগীর বলেন, প্রায় পাঁচ বছর পর একসঙ্গে এত বড় চালানের ইলিশ পেয়েছেন তারা। দীর্ঘদিন লোকসানের পর এমন মাছ পাওয়ায় তারা খুবই খুশি।
মনোয়ারা ফিশের ম্যানেজার সগির আকন বলেন, দীর্ঘদিন পর এত বড় চালানের ইলিশ এসেছে। বাজারে বর্তমানে ইলিশের দাম বেশি থাকায় জেলেরা ভালো দাম পেয়েছেন। সচরাচর একসঙ্গে এত বড় আকারের ইলিশ পাওয়া যায় না।
ব্লু অ্যাকশন ফান্ডের অর্থায়নে পরিচালিত ডব্লিউসিএস ও ওয়ার্ল্ডফিশের সমন্বয়ে বাস্তবায়িত ‘সুস্থ সাগর’ প্রকল্পের গবেষণা সহকারী মো. বখতিয়ার রহমান বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বেশির ভাগ মাছ ধরার বোটে প্রত্যাশিত পরিমাণ ইলিশ ধরা পড়ছে না। এর মধ্যে একটি ট্রলারে একসঙ্গে ৪৬ মণ ইলিশ পাওয়া নিঃসন্দেহে স্বস্তির খবর। এতে জেলেদের মধ্যেও নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে।
তবে একদিনের এমন আহরণকে সামগ্রিকভাবে সাগরে ইলিশের প্রাচুর্যের সূচক হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলে জানান তিনি। তার মতে, ইলিশের পরিস্থিতি বুঝতে ধারাবাহিক পর্যবেক্ষণ ও বৈজ্ঞানিক তথ্যের ভিত্তিতে মূল্যায়ন প্রয়োজন।
বখতিয়ার রহমান আরও বলেন, ইলিশের এই ইতিবাচক ধারা ধরে রাখতে জেলেদের সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি প্রজনন মৌসুমে মাছ আহরণ থেকে বিরত থাকা এবং সংরক্ষণ কার্যক্রম নিয়মিতভাবে বাস্তবায়ন করা জরুরি।
কলাপাড়া সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, কিছুদিন আগেও সাগরে ইলিশের খরা ছিল। তবে বর্তমানে জেলেদের জালে বেশ ভালো পরিমাণ ইলিশ ধরা পড়ছে। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে সামনে আরও বেশি ইলিশ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে জেলে, আড়তদারসহ ইলিশের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাই লাভবান হবেন।

আপনার মতামত লিখুন