জীবনযুদ্ধের আঁকাবাঁকা ও নির্মম গলিপথে বহু গল্প ফিকে হয়ে যায় নিদারুণ অভাব আর দারিদ্র্যের রাজত্বে। কিন্তু যখন চার মাসের এক তুলতুলে নিষ্পাপ শিশুর জীবনের সলতেটা অসময়ে নিভে যাওয়ার উপক্রম হয়, তখন সেই অভাব আর কেবল সাধারণ দারিদ্র্য থাকে না—তা রূপ নেয় এক বুকভাঙা করুণ ট্র্যাজেডিতে। ধরণীর বুক থেকে কেবল একটুখানি অক্সিজেন নিয়ে স্বাভাবিকভাবে বেঁচে থাকতে চায় চার মাসের এক ফুটফুটে কন্যাসন্তান। অথচ তার কচি মাথার ভেতরে বাসা বেঁধেছে এক মরণঘাতী বিষবৃক্ষ—‘ব্রেন টিউমার’। কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার সাবেক অটোরিকশাচালক বাবা মো. রবিকুল ইসলাম ও মা লাখি আক্তারের কোলজুড়ে আসা এই খুদে ফেরেশতার জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণের লড়াই এখন সমাজের বিবেক ও মানবতার দরবারে এক বিশাল প্রশ্ন চিহ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মাত্র চার মাস আগের শুভ মুহূর্তের কথা। রবিকুল-লাখি দম্পতির ঘর আলো করে জন্ম নেয় তাদের তৃতীয় কন্যাসন্তান। কিন্তু সেই অনাবিল আনন্দের স্থায়িত্ব ছিল বড্ড ক্ষণিকের। জন্মের পর থেকেই শিশুটির কচি শরীরে দেখা দেয় নানা জটিল শারীরিক উপসর্গ। এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে বিরামহীন ছোটাছুটি, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের ভিজিট আর একঘেয়ে পরীক্ষার পর যে নির্মম সত্যটি সামনে আসে, তা শুনে বাবা-মার পায়ের তলার মাটি একমুহূর্তে সরে যায়। চিকিৎসকেরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে নিশ্চিত করেন—মাত্র চার মাসের এই ছোট্ট শরীরটির মস্তিষ্কে বাসা বেঁধেছে ব্রেন টিউমার। যে বয়সে একটা শিশুর মায়ের স্নেহমাখা বুকে মাথা রেখে মিটিমিটি হেসে পৃথিবীর আলো চেনার কথা, সেই বয়সে বিষাক্ত টিউমারের তীব্র যন্ত্রণা তাকে কুঁকড়ে দিচ্ছে প্রতি মুহূর্তে। সন্তানের অবর্ণনীয় কষ্ট দেখে বুক ফেটে যাচ্ছে অটোরিকশাচালক বাবার, আর অশ্রুসজল চোখে করুণ দৃষ্টি মেলে অনিশ্চিত পথের পানে চেয়ে আছেন মা।
কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার নিয়ামতপুর ইউনিয়নের রৌহা গ্রামের সন্তান মো. রবিকুল ইসলাম। ভাগ্যবদলের আশায় ও জীবিকার তাগিদে স্ত্রী লাখি আক্তার এবং তিন কন্যাকে নিয়ে তিনি বর্তমানে বাস করছেন কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের শোলাকিয়া এলাকার একটি ভাড়া বাসায়। পেশায় ছিলেন একজন অটোরিকশাচালক। ভোর থেকে রাত অবধি হাড়ভাঙা খাটুনি খেটে যে সামান্য আয় হতো, তা দিয়েই টেনেটুনে চলত পাঁচ সদস্যের সংসার। সন্তানের ব্রেন টিউমারের খবর পাওয়ার পর থেকে রবিকুল ও তার স্ত্রী ছুটছেন একের পর এক চিকিৎসালয়ে। জমানো স্বল্প সঞ্চয় ফুরিয়ে গেলে শুরু হয় আত্মীয়-স্বজন ও পরিচিতদের কাছ থেকে ধারদেনা। এতেও যখন খরচের সামাল দেওয়া সম্ভব হচ্ছিল না, তখন মেয়ের জীবনের বিনিময়ে বাবা তুলে দেন নিজের আয়ের একমাত্র সম্বল, বেঁচে থাকার একমাত্র হাতিয়ার—নিজের অটোরিকশাটি। গাড়ির চাকা বিক্রি করে হলেও সন্তানের চিকিৎসার চাকা সচল রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন এই নিঃস্ব বাবা। স্থায়ী ঠিকানা করিমগঞ্জের রৌহা গ্রাম হলেও বর্তমানে শোলাকিয়ায় ভাড়া বাসায় থাকা এই অসহায় পরিবারের ছোট্ট চার মাসের কন্যাসন্তানের পেছনে এ পর্যন্ত খরচ হয়ে গেছে প্রায় আড়াই লাখ টাকা। অটোরিকশা বিক্রি ও দেনা করে জোগাড় করা এই বিপুল অঙ্কের অর্থ ইতিমধ্যে নিঃশেষ হয়ে গেলেও নির্দয় ব্যাধির কাছে তা কেবল বিন্দুমাত্র প্রমাণিত হয়েছে। নিজের অটোরিকশাটি বিক্রি করে দেওয়ার পর রবিকুলের হাতে এখন আর কোনো নিয়মিত উপার্জনের পথ নেই। যখন যে দিনমজুরি পান, তা দিয়েই কোনোমতে একবেলা চাল-ডাল জোটে। তার ওপর চরম দুশ্চিন্তার বিষয় হলো, গত তিন মাস ধরে রবিকুল নিজেও পেটের জটিল রোগে ভুগছেন। নিজের শরীরে যন্ত্রণা, সংসারে তীব্র অনাহার, আর একদিকে চার মাসের শিশুর মাথার ভেতরে প্রতিনিয়ত বড় হতে থাকা টিউমার—সব মিলিয়ে নিয়তির নিষ্ঠুরতম পরিহাসের মুখোমুখি এই পরিবার।
রুদ্ধ কণ্ঠে বাবা রবিকুল ইসলাম বলেন, "মেয়ের চার মাস বয়স। আমার মেয়েটার ব্রেন টিউমার। অনেক দৌড়াদৌড়ি করছি, অনেক মেডিক্যালে গেছি। যা পুঁজি-টাকা আছিল, সব শেষ কইরা এখন চিকিৎসা মিলছে। কিন্তু এখন টাকা পাচ্ছি না। অটোগাড়ি চালাইতাম, মেয়ের চিকিৎসার জন্য গাড়িটাও বিক্রি করে দিছি। এখন চিকিৎসা মিলে, কিন্তু টাকা নাই। সরকারের কাছে আমার আবেদন, আমার মেয়েটা যেন সুস্থ থাকে। অনেক জায়গায় গেছি, কিন্তু কোনও সহযোগিতা পাই নাই। যত মন্ত্রী-মিনিস্টার, যত নেতা আছেন, সবাই মিলে আমার মেয়েটারে বাঁচান।" মায়ের আকুতি আরও মর্মান্তিক। তিন কন্যাসন্তানের মধ্যে সবচেয়ে ছোট এই শিশুটির কষ্ট চোখ দিয়ে গড়িয়ে পড়া জলে প্রকাশ করেন লাখি আক্তার। তিনি জানান, একজন মা হিসেবে বাচ্চার এমন যন্ত্রণা চোখে দেখা যায় না। চিকিৎসকেরা দ্রুত অপারেশনের কথা বলছেন, কিন্তু অপারেশনের জন্য আর তো কিছুই অবশিষ্ট নেই, পুরো পরিবার এখন একবারে খালি হাতে দাঁড়িয়ে আছে।
চিকিৎসকেরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, শিশুটিকে বাঁচাতে হলে অতি দ্রুত তার মস্তিষ্কে জটিল অস্ত্রোপচার বা অপারেশন করাতে হবে। আর এই জরুরি অপারেশনের জন্য প্রয়োজন আরও প্রায় ৩ লাখ টাকা। যেখানে একদিনের স্বাভাবিক খাবার জোগাড় করাই এখন এই পরিবারের জন্য এক বিশাল যুদ্ধ, সেখানে ৩ লাখ টাকা যেন এক অলঙ্ঘনীয় বিশাল পাহাড়। অথচ সমাজের সামান্য এক ফোটা সহানুভূতির বারিধারা পারে এই পাহাড়সম সমস্যাকে চিরতরে দূর করতে। ৩ লাখ টাকা হয়তো কোনো বিত্তবান মানুষের কাছে নিতান্তই সামান্য, কিন্তু এই চার মাসের শিশুটির জন্য তা জীবন ও মৃত্যুর মধ্যকার একমাত্র সেতু।
কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ার এক অন্ধকার ঘরে চার মাসের একটি শিশু প্রহর গুনছে আলোর। জীবনের শুরুতেই যে প্রদীপটি বাতাসে নিভে যেতে বসেছে, আমাদের একটুকু সহানুভূতি পারে সেটিকে নতুন আলোয় প্রজ্বলিত করতে। আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টাই পারে এক নিঃস্ব বাবার কোল খালি হওয়া থেকে রক্ষা করতে, পারে এক মায়ের অশ্রুসজল চোখে হাসির বার্তা ফিরিয়ে আনতে। সমাজের বিত্তবান, প্রবাসী, সামাজিক ও মানবিক সংগঠন এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এই নিরূপায় পরিবারের একটাই আকুল আবেদন—‘মেয়েটারে বাঁচান!’ আসুন, মানবতাকে শব্দের গণ্ডি পেরিয়ে কর্মে রূপ দিই, চার মাসের ফুটফুটে মেয়েটির জীবন বাঁচাতে বাড়িয়ে দিই ভালোবাসার হাত।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৬ আগস্ট ২০২৬
জীবনযুদ্ধের আঁকাবাঁকা ও নির্মম গলিপথে বহু গল্প ফিকে হয়ে যায় নিদারুণ অভাব আর দারিদ্র্যের রাজত্বে। কিন্তু যখন চার মাসের এক তুলতুলে নিষ্পাপ শিশুর জীবনের সলতেটা অসময়ে নিভে যাওয়ার উপক্রম হয়, তখন সেই অভাব আর কেবল সাধারণ দারিদ্র্য থাকে না—তা রূপ নেয় এক বুকভাঙা করুণ ট্র্যাজেডিতে। ধরণীর বুক থেকে কেবল একটুখানি অক্সিজেন নিয়ে স্বাভাবিকভাবে বেঁচে থাকতে চায় চার মাসের এক ফুটফুটে কন্যাসন্তান। অথচ তার কচি মাথার ভেতরে বাসা বেঁধেছে এক মরণঘাতী বিষবৃক্ষ—‘ব্রেন টিউমার’। কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার সাবেক অটোরিকশাচালক বাবা মো. রবিকুল ইসলাম ও মা লাখি আক্তারের কোলজুড়ে আসা এই খুদে ফেরেশতার জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণের লড়াই এখন সমাজের বিবেক ও মানবতার দরবারে এক বিশাল প্রশ্ন চিহ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মাত্র চার মাস আগের শুভ মুহূর্তের কথা। রবিকুল-লাখি দম্পতির ঘর আলো করে জন্ম নেয় তাদের তৃতীয় কন্যাসন্তান। কিন্তু সেই অনাবিল আনন্দের স্থায়িত্ব ছিল বড্ড ক্ষণিকের। জন্মের পর থেকেই শিশুটির কচি শরীরে দেখা দেয় নানা জটিল শারীরিক উপসর্গ। এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে বিরামহীন ছোটাছুটি, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের ভিজিট আর একঘেয়ে পরীক্ষার পর যে নির্মম সত্যটি সামনে আসে, তা শুনে বাবা-মার পায়ের তলার মাটি একমুহূর্তে সরে যায়। চিকিৎসকেরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে নিশ্চিত করেন—মাত্র চার মাসের এই ছোট্ট শরীরটির মস্তিষ্কে বাসা বেঁধেছে ব্রেন টিউমার। যে বয়সে একটা শিশুর মায়ের স্নেহমাখা বুকে মাথা রেখে মিটিমিটি হেসে পৃথিবীর আলো চেনার কথা, সেই বয়সে বিষাক্ত টিউমারের তীব্র যন্ত্রণা তাকে কুঁকড়ে দিচ্ছে প্রতি মুহূর্তে। সন্তানের অবর্ণনীয় কষ্ট দেখে বুক ফেটে যাচ্ছে অটোরিকশাচালক বাবার, আর অশ্রুসজল চোখে করুণ দৃষ্টি মেলে অনিশ্চিত পথের পানে চেয়ে আছেন মা।
কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার নিয়ামতপুর ইউনিয়নের রৌহা গ্রামের সন্তান মো. রবিকুল ইসলাম। ভাগ্যবদলের আশায় ও জীবিকার তাগিদে স্ত্রী লাখি আক্তার এবং তিন কন্যাকে নিয়ে তিনি বর্তমানে বাস করছেন কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের শোলাকিয়া এলাকার একটি ভাড়া বাসায়। পেশায় ছিলেন একজন অটোরিকশাচালক। ভোর থেকে রাত অবধি হাড়ভাঙা খাটুনি খেটে যে সামান্য আয় হতো, তা দিয়েই টেনেটুনে চলত পাঁচ সদস্যের সংসার। সন্তানের ব্রেন টিউমারের খবর পাওয়ার পর থেকে রবিকুল ও তার স্ত্রী ছুটছেন একের পর এক চিকিৎসালয়ে। জমানো স্বল্প সঞ্চয় ফুরিয়ে গেলে শুরু হয় আত্মীয়-স্বজন ও পরিচিতদের কাছ থেকে ধারদেনা। এতেও যখন খরচের সামাল দেওয়া সম্ভব হচ্ছিল না, তখন মেয়ের জীবনের বিনিময়ে বাবা তুলে দেন নিজের আয়ের একমাত্র সম্বল, বেঁচে থাকার একমাত্র হাতিয়ার—নিজের অটোরিকশাটি। গাড়ির চাকা বিক্রি করে হলেও সন্তানের চিকিৎসার চাকা সচল রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন এই নিঃস্ব বাবা। স্থায়ী ঠিকানা করিমগঞ্জের রৌহা গ্রাম হলেও বর্তমানে শোলাকিয়ায় ভাড়া বাসায় থাকা এই অসহায় পরিবারের ছোট্ট চার মাসের কন্যাসন্তানের পেছনে এ পর্যন্ত খরচ হয়ে গেছে প্রায় আড়াই লাখ টাকা। অটোরিকশা বিক্রি ও দেনা করে জোগাড় করা এই বিপুল অঙ্কের অর্থ ইতিমধ্যে নিঃশেষ হয়ে গেলেও নির্দয় ব্যাধির কাছে তা কেবল বিন্দুমাত্র প্রমাণিত হয়েছে। নিজের অটোরিকশাটি বিক্রি করে দেওয়ার পর রবিকুলের হাতে এখন আর কোনো নিয়মিত উপার্জনের পথ নেই। যখন যে দিনমজুরি পান, তা দিয়েই কোনোমতে একবেলা চাল-ডাল জোটে। তার ওপর চরম দুশ্চিন্তার বিষয় হলো, গত তিন মাস ধরে রবিকুল নিজেও পেটের জটিল রোগে ভুগছেন। নিজের শরীরে যন্ত্রণা, সংসারে তীব্র অনাহার, আর একদিকে চার মাসের শিশুর মাথার ভেতরে প্রতিনিয়ত বড় হতে থাকা টিউমার—সব মিলিয়ে নিয়তির নিষ্ঠুরতম পরিহাসের মুখোমুখি এই পরিবার।
রুদ্ধ কণ্ঠে বাবা রবিকুল ইসলাম বলেন, "মেয়ের চার মাস বয়স। আমার মেয়েটার ব্রেন টিউমার। অনেক দৌড়াদৌড়ি করছি, অনেক মেডিক্যালে গেছি। যা পুঁজি-টাকা আছিল, সব শেষ কইরা এখন চিকিৎসা মিলছে। কিন্তু এখন টাকা পাচ্ছি না। অটোগাড়ি চালাইতাম, মেয়ের চিকিৎসার জন্য গাড়িটাও বিক্রি করে দিছি। এখন চিকিৎসা মিলে, কিন্তু টাকা নাই। সরকারের কাছে আমার আবেদন, আমার মেয়েটা যেন সুস্থ থাকে। অনেক জায়গায় গেছি, কিন্তু কোনও সহযোগিতা পাই নাই। যত মন্ত্রী-মিনিস্টার, যত নেতা আছেন, সবাই মিলে আমার মেয়েটারে বাঁচান।" মায়ের আকুতি আরও মর্মান্তিক। তিন কন্যাসন্তানের মধ্যে সবচেয়ে ছোট এই শিশুটির কষ্ট চোখ দিয়ে গড়িয়ে পড়া জলে প্রকাশ করেন লাখি আক্তার। তিনি জানান, একজন মা হিসেবে বাচ্চার এমন যন্ত্রণা চোখে দেখা যায় না। চিকিৎসকেরা দ্রুত অপারেশনের কথা বলছেন, কিন্তু অপারেশনের জন্য আর তো কিছুই অবশিষ্ট নেই, পুরো পরিবার এখন একবারে খালি হাতে দাঁড়িয়ে আছে।
চিকিৎসকেরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, শিশুটিকে বাঁচাতে হলে অতি দ্রুত তার মস্তিষ্কে জটিল অস্ত্রোপচার বা অপারেশন করাতে হবে। আর এই জরুরি অপারেশনের জন্য প্রয়োজন আরও প্রায় ৩ লাখ টাকা। যেখানে একদিনের স্বাভাবিক খাবার জোগাড় করাই এখন এই পরিবারের জন্য এক বিশাল যুদ্ধ, সেখানে ৩ লাখ টাকা যেন এক অলঙ্ঘনীয় বিশাল পাহাড়। অথচ সমাজের সামান্য এক ফোটা সহানুভূতির বারিধারা পারে এই পাহাড়সম সমস্যাকে চিরতরে দূর করতে। ৩ লাখ টাকা হয়তো কোনো বিত্তবান মানুষের কাছে নিতান্তই সামান্য, কিন্তু এই চার মাসের শিশুটির জন্য তা জীবন ও মৃত্যুর মধ্যকার একমাত্র সেতু।
কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ার এক অন্ধকার ঘরে চার মাসের একটি শিশু প্রহর গুনছে আলোর। জীবনের শুরুতেই যে প্রদীপটি বাতাসে নিভে যেতে বসেছে, আমাদের একটুকু সহানুভূতি পারে সেটিকে নতুন আলোয় প্রজ্বলিত করতে। আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টাই পারে এক নিঃস্ব বাবার কোল খালি হওয়া থেকে রক্ষা করতে, পারে এক মায়ের অশ্রুসজল চোখে হাসির বার্তা ফিরিয়ে আনতে। সমাজের বিত্তবান, প্রবাসী, সামাজিক ও মানবিক সংগঠন এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এই নিরূপায় পরিবারের একটাই আকুল আবেদন—‘মেয়েটারে বাঁচান!’ আসুন, মানবতাকে শব্দের গণ্ডি পেরিয়ে কর্মে রূপ দিই, চার মাসের ফুটফুটে মেয়েটির জীবন বাঁচাতে বাড়িয়ে দিই ভালোবাসার হাত।

আপনার মতামত লিখুন