ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সরকার পতনের পর শেখ পরিবারের সদস্যরা এখন কে কোথায়?


নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৬ আগস্ট ২০২৬

সরকার পতনের পর শেখ পরিবারের সদস্যরা এখন কে কোথায়?
ছবি: সংগৃহীত

 ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকারের পতনের পর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের অধিকাংশ সদস্য দেশ ছেড়ে বিভিন্ন দেশে অবস্থান করছেন। রাজনৈতিক অস্থিরতার পর একে একে দেশ ছাড়েন পরিবারের সদস্য এবং ঘনিষ্ঠ স্বজনদের বড় একটি অংশ। বিভিন্ন গণমাধ্যম ও দলীয় সূত্রের তথ্যমতে, তাদের অধিকাংশ বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন। এছাড়া যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়েও রয়েছেন পরিবারের কয়েকজন সদস্য।

সরকার থেকে পদত্যাগ করে দেশ ছাড়ার সময় শেখ হাসিনার সঙ্গে ছিলেন তার ছোট বোন শেখ রেহানা। পরে জানা যায়, তিনি বর্তমানে লন্ডন ও ভারতের মধ্যে যাতায়াত করছেন। একই সময়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা তারিক আহমেদ সিদ্দিকও তাদের সঙ্গে দেশ ছাড়েন।


শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় আগে থেকেই যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছিলেন। সরকার পতনের পর তিনি ভারতে গিয়ে মায়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বলে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা রয়েছে। অন্যদিকে, মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ (পুতুল), যিনি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক হিসেবে নয়াদিল্লিতে দায়িত্ব পালন করছিলেন, বর্তমানে দিল্লি ও দুবাইয়ে অবস্থান করছেন বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে।

শেখ রেহানার ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক (ববি) সরকার পতনের সময় থাইল্যান্ডে ছিলেন। তার স্ত্রী ফিনল্যান্ডের নাগরিক। রেহানার বড় মেয়ে টিউলিপ সিদ্দিক যুক্তরাজ্যের নাগরিক এবং দেশটির পার্লামেন্ট সদস্য। অপর মেয়ে আজমিনা সিদ্দিক রূপন্তীও যুক্তরাজ্যে বসবাস করছেন।

শুধু পরিবারের সদস্যরাই নন, শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ আত্মীয়দের অনেকেও দেশ ছেড়েছেন। আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম বর্তমানে কলকাতায় অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে। তার ছেলে শেখ ফজলে নাঈমও সেখানে রয়েছেন। আরেক ছেলে শেখ ফজলে ফাহিম সরকার পতনের আগেই দেশ ত্যাগ করেন।

যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ সরকার পতনের পর ভারত হয়ে কানাডায় যান। পরে তিনি আবার ভারতে ফিরে এসেছেন বলে জানা যায়। শেখ ফজলুর রহমান মারুফ বর্তমানে সিঙ্গাপুরে অবস্থান করছেন।


শেখ হাসিনার ফুফাতো ভাই আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ সরকার পতনের আগেই ভারতে যান বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। তার ছেলে আশিক আবদুল্লাহও তার সঙ্গে ভারতে অবস্থান করছেন। আরেক ছেলে সাদিক আবদুল্লাহ ভারত হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে গেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। আবুল খায়ের আবদুল্লাহও সরকার পতনের পর ভারতে চলে যান বলে দলীয় সূত্রের বরাতে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে।

এদিকে শেখ হাসিনার চাচাতো ভাই শেখ হেলাল উদ্দীন ও শেখ সালাহউদ্দিন জুয়েলও বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। কলকাতার নিউ টাউন এলাকার একটি আবাসিক কমপ্লেক্সে তারা বসবাস করছেন বলেও সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। শেখ হেলালের ছেলে শেখ তন্ময়ও ভারতে রয়েছেন। শেখ সালাহউদ্দিন জুয়েলের স্ত্রী শাহানা ইয়াসমিন শম্পাও তার সঙ্গে আছেন। তবে শেখ হেলালের আরেক ভাই শেখ সোহেলের বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

এ ছাড়া শেখ হাসিনার ফুফাতো ভাইয়ের ছেলে নূর-ই-আলম চৌধুরী (লিটন চৌধুরী) ও মজিবুর রহমান চৌধুরী (নিক্সন চৌধুরী) সরকার পতনের পর আত্মগোপনে যান। বিভিন্ন সূত্রের দাবি, তারাও বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন।


অন্যদিকে, শেখ হাসিনার স্বজনদের মধ্যে ব্যতিক্রম হিসেবে আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর ছেলে মঈন উদ্দিন আবদুল্লাহ ২০২৪ সালের অক্টোবরে ঢাকায় গ্রেফতার হন। তিনি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং রাজনৈতিকভাবে তেমন সক্রিয় ছিলেন না।

আওয়ামী লীগের দলীয় সূত্রের দাবি, শেখ হাসিনার স্বজনদের অনেকেই সাতক্ষীরা, সিলেট ও ময়মনসিংহ সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করেন। রাজনৈতিক প্রভাব, প্রশাসনিক যোগাযোগ এবং বিপুল অর্থের বিনিময়ে তারা নিরাপদে দেশ ছাড়তে সক্ষম হয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন যাচাই সম্ভব হয়নি। একই সঙ্গে দলীয় নেতাদের দাবি, বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী দেশ ছাড়তে না পারায় তাদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


সরকার পতনের পর শেখ পরিবারের সদস্যরা এখন কে কোথায়?

প্রকাশের তারিখ : ০৬ আগস্ট ২০২৬

featured Image

 ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকারের পতনের পর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের অধিকাংশ সদস্য দেশ ছেড়ে বিভিন্ন দেশে অবস্থান করছেন। রাজনৈতিক অস্থিরতার পর একে একে দেশ ছাড়েন পরিবারের সদস্য এবং ঘনিষ্ঠ স্বজনদের বড় একটি অংশ। বিভিন্ন গণমাধ্যম ও দলীয় সূত্রের তথ্যমতে, তাদের অধিকাংশ বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন। এছাড়া যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়েও রয়েছেন পরিবারের কয়েকজন সদস্য।

সরকার থেকে পদত্যাগ করে দেশ ছাড়ার সময় শেখ হাসিনার সঙ্গে ছিলেন তার ছোট বোন শেখ রেহানা। পরে জানা যায়, তিনি বর্তমানে লন্ডন ও ভারতের মধ্যে যাতায়াত করছেন। একই সময়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা তারিক আহমেদ সিদ্দিকও তাদের সঙ্গে দেশ ছাড়েন।


শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় আগে থেকেই যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছিলেন। সরকার পতনের পর তিনি ভারতে গিয়ে মায়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বলে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা রয়েছে। অন্যদিকে, মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ (পুতুল), যিনি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক হিসেবে নয়াদিল্লিতে দায়িত্ব পালন করছিলেন, বর্তমানে দিল্লি ও দুবাইয়ে অবস্থান করছেন বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে।

শেখ রেহানার ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক (ববি) সরকার পতনের সময় থাইল্যান্ডে ছিলেন। তার স্ত্রী ফিনল্যান্ডের নাগরিক। রেহানার বড় মেয়ে টিউলিপ সিদ্দিক যুক্তরাজ্যের নাগরিক এবং দেশটির পার্লামেন্ট সদস্য। অপর মেয়ে আজমিনা সিদ্দিক রূপন্তীও যুক্তরাজ্যে বসবাস করছেন।

শুধু পরিবারের সদস্যরাই নন, শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ আত্মীয়দের অনেকেও দেশ ছেড়েছেন। আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম বর্তমানে কলকাতায় অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে। তার ছেলে শেখ ফজলে নাঈমও সেখানে রয়েছেন। আরেক ছেলে শেখ ফজলে ফাহিম সরকার পতনের আগেই দেশ ত্যাগ করেন।

যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ সরকার পতনের পর ভারত হয়ে কানাডায় যান। পরে তিনি আবার ভারতে ফিরে এসেছেন বলে জানা যায়। শেখ ফজলুর রহমান মারুফ বর্তমানে সিঙ্গাপুরে অবস্থান করছেন।


শেখ হাসিনার ফুফাতো ভাই আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ সরকার পতনের আগেই ভারতে যান বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। তার ছেলে আশিক আবদুল্লাহও তার সঙ্গে ভারতে অবস্থান করছেন। আরেক ছেলে সাদিক আবদুল্লাহ ভারত হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে গেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। আবুল খায়ের আবদুল্লাহও সরকার পতনের পর ভারতে চলে যান বলে দলীয় সূত্রের বরাতে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে।

এদিকে শেখ হাসিনার চাচাতো ভাই শেখ হেলাল উদ্দীন ও শেখ সালাহউদ্দিন জুয়েলও বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। কলকাতার নিউ টাউন এলাকার একটি আবাসিক কমপ্লেক্সে তারা বসবাস করছেন বলেও সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। শেখ হেলালের ছেলে শেখ তন্ময়ও ভারতে রয়েছেন। শেখ সালাহউদ্দিন জুয়েলের স্ত্রী শাহানা ইয়াসমিন শম্পাও তার সঙ্গে আছেন। তবে শেখ হেলালের আরেক ভাই শেখ সোহেলের বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

এ ছাড়া শেখ হাসিনার ফুফাতো ভাইয়ের ছেলে নূর-ই-আলম চৌধুরী (লিটন চৌধুরী) ও মজিবুর রহমান চৌধুরী (নিক্সন চৌধুরী) সরকার পতনের পর আত্মগোপনে যান। বিভিন্ন সূত্রের দাবি, তারাও বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন।


অন্যদিকে, শেখ হাসিনার স্বজনদের মধ্যে ব্যতিক্রম হিসেবে আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর ছেলে মঈন উদ্দিন আবদুল্লাহ ২০২৪ সালের অক্টোবরে ঢাকায় গ্রেফতার হন। তিনি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং রাজনৈতিকভাবে তেমন সক্রিয় ছিলেন না।

আওয়ামী লীগের দলীয় সূত্রের দাবি, শেখ হাসিনার স্বজনদের অনেকেই সাতক্ষীরা, সিলেট ও ময়মনসিংহ সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করেন। রাজনৈতিক প্রভাব, প্রশাসনিক যোগাযোগ এবং বিপুল অর্থের বিনিময়ে তারা নিরাপদে দেশ ছাড়তে সক্ষম হয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন যাচাই সম্ভব হয়নি। একই সঙ্গে দলীয় নেতাদের দাবি, বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী দেশ ছাড়তে না পারায় তাদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ